ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেনি: বাণিজ্যমন্ত্রী নিহতের মরদেহ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ সদস্য দেখলেন নিথর দেহটি নিজের ছেলের ইসলামের নাম দিয়ে অনৈতিকতা-ধোঁকাবাজি করলে তা ইসলাম হয়ে যায় না: চরমোনাই পীর পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে রক্ষা করা অগ্রহণযোগ্য: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলে না: ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে যা বললেন স্পিকার সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে ভর্তি ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন নড়াইলে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণ: ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে মামা-ভাগ্নির মৃত্যু

সাপ আর ভারতীয়র দেখা একসঙ্গে পেলে, আগে ভারতীয়কে মারা উচিত: এপস্টেইন নথি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক নথিতে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। সাবেক ও বর্তমান বিশ্বনেতা, শিল্পপতি ও কূটনীতিকদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও ইমেইল সম্বলিত এই নথিতে ভারত সম্পর্কে অত্যন্ত বর্ণবাদী মন্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে নরওয়ের কূটনীতিক ও সাবেক জাতিসংঘ দূত টেরিয়ে রোড-লারসেনের একটি ইমেইলকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালে এপস্টেইনকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, যদি সাপ আর ভারতীয় সঙ্গে আপনার একসঙ্গে দেখা হয়, তবে আগে ভারতীয়কে মারা উচিত। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং এটিকে অত্যন্ত জঘন্য ও বিকৃত রুচির পরিচয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

নথিতে ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির নামও একাধিকবার উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে অবসর নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর পুরি ও এপস্টেইনের মধ্যে ইমেইল আদান-প্রদান হয়। সেখানে লিংকডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের ভারত সফর ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়।

রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৮ সালে এপস্টেইন নিবন্ধিত যৌন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরেও হরদীপ সিং পুরি ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে একাধিকবার নিউইয়র্কে তার বাসভবনে গিয়েছিলেন। যদিও পুরি দাবি করেছেন যে, এসব সাক্ষাৎ ছিল নিছক ব্যবসায়িক কারণে।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুরি যখন ভারতকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরছিলেন, তখন ব্যক্তিগত ইমেইলে এপস্টেইন ভারতের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করছিলেন। ২০১৪ সালের একটি বার্তায় তিনি ভারতকে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত হিসেবে বর্ণনা করে দেশটির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

এমনকি বিল গেটসের সাবেক বিজ্ঞান উপদেষ্টা বরিস নিকোলিকের সঙ্গে কথোপকথনেও এপস্টেইন ভারতের প্রতি তার বিরাগ স্পষ্ট করেন। এপস্টেইন নথির এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ভারতের মন্ত্রী পর্যায়ের নেতার নাম জড়িয়ে পড়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো সরকারের কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেনি: বাণিজ্যমন্ত্রী

সাপ আর ভারতীয়র দেখা একসঙ্গে পেলে, আগে ভারতীয়কে মারা উচিত: এপস্টেইন নথি

আপডেট সময় ০৮:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক নথিতে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। সাবেক ও বর্তমান বিশ্বনেতা, শিল্পপতি ও কূটনীতিকদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও ইমেইল সম্বলিত এই নথিতে ভারত সম্পর্কে অত্যন্ত বর্ণবাদী মন্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে নরওয়ের কূটনীতিক ও সাবেক জাতিসংঘ দূত টেরিয়ে রোড-লারসেনের একটি ইমেইলকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালে এপস্টেইনকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, যদি সাপ আর ভারতীয় সঙ্গে আপনার একসঙ্গে দেখা হয়, তবে আগে ভারতীয়কে মারা উচিত। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং এটিকে অত্যন্ত জঘন্য ও বিকৃত রুচির পরিচয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

নথিতে ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির নামও একাধিকবার উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে অবসর নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর পুরি ও এপস্টেইনের মধ্যে ইমেইল আদান-প্রদান হয়। সেখানে লিংকডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের ভারত সফর ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়।

রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৮ সালে এপস্টেইন নিবন্ধিত যৌন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরেও হরদীপ সিং পুরি ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে একাধিকবার নিউইয়র্কে তার বাসভবনে গিয়েছিলেন। যদিও পুরি দাবি করেছেন যে, এসব সাক্ষাৎ ছিল নিছক ব্যবসায়িক কারণে।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুরি যখন ভারতকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরছিলেন, তখন ব্যক্তিগত ইমেইলে এপস্টেইন ভারতের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করছিলেন। ২০১৪ সালের একটি বার্তায় তিনি ভারতকে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত হিসেবে বর্ণনা করে দেশটির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

এমনকি বিল গেটসের সাবেক বিজ্ঞান উপদেষ্টা বরিস নিকোলিকের সঙ্গে কথোপকথনেও এপস্টেইন ভারতের প্রতি তার বিরাগ স্পষ্ট করেন। এপস্টেইন নথির এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ভারতের মন্ত্রী পর্যায়ের নেতার নাম জড়িয়ে পড়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো সরকারের কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করছে।