ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা, বিপাকে শিক্ষার্থীরা ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে নিজের অবদান বলতে গিয়ে অন্যের অবদানকে হাতুড়িপেটা করেছেন :শফিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করা অন্যায় : ফজলুর রহমান ভারতীয় ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুতই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের অনেকেই আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকে: সংসদে ফজলুর রহমান কোদাল দিয়ে কুপিয়েই দাদি-ফুফুসহ ৩ জনকে হত্যা করে আকাশ থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জ্বালানি লোডিং শুরু, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ বাণিজ্যমন্ত্রীর রাজধানীতে বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ঘাটাইলে প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ২

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নুরুন নাহার (৪০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বাবর আলী নামে স্থানীয় সন্ত্রাসী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের তেঘুরি (মাইধার চালা) নামক স্থানে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই আলহাজ আলী বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের তেঘুরি (মাইধার চালা) গ্রামের দুবাই প্রবাসী আ. গফুরের স্ত্রী নুরুন নাহার (৪০)। তাদের সংসারে দুইটি ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে লাবলু মিয়া (২০) সৌদি আরব প্রবাসী ছোট ছেলে বাবলু স্থানীয় একটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। নুরুন নাহার ছোট ছেলে লাবলু ও শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। একই গ্রামের বাবর আলীর (৪০) সঙ্গে নুরুন নাহারের পরকিয়া ছিল। এ নিয়ে এলাকায় কয়েকবার সালিশ দরবারও হয়েছে।

রবিবার বাবর আলী নুরুন নাহারের বাড়িতে যান। সেখান থেকে জোর করে নুরুর নাহারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এ ঘটনার পর নুরুন নাহার বাড়ির কাউকে না জানিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকার আনার জন্য রবিবার সকাল ৯ টার দিকে বাবর আলীর বাড়িতে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। নুরুন নাহারের নিখোঁজ হওয়ার খবর তার ছেলের কাছ থেকে জেনে পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুজি শুরু করেন।

রবিবার সন্ধ্যার দিকে এক পর্যায়ে তারা জানতে পারেন নুরুন নাহার বাবর আলীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে তারা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরু মিয়াকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি থানার পুলিশকে জানান। পুলিশ খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবর আলীর ঘরের একটি তালাবন্ধ রুম থেকে নুরুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করেন। লাশটি লাকড়ি, চট ও প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঢাকা ছিল। পুলিশ রাতেই নুরুন নাহারের লাশ থানায় নিয়ে যায়।

আজ সোমবার সকালে তার লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাবর আলীর স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫) ও তার ভাই সেকান্দর আলীকে (৪৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেন জানান, তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরকিয়ার কারণেই নুরুন নাহার খুন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

ঘাটাইলে প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ২

আপডেট সময় ০৬:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নুরুন নাহার (৪০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বাবর আলী নামে স্থানীয় সন্ত্রাসী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের তেঘুরি (মাইধার চালা) নামক স্থানে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই আলহাজ আলী বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের তেঘুরি (মাইধার চালা) গ্রামের দুবাই প্রবাসী আ. গফুরের স্ত্রী নুরুন নাহার (৪০)। তাদের সংসারে দুইটি ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে লাবলু মিয়া (২০) সৌদি আরব প্রবাসী ছোট ছেলে বাবলু স্থানীয় একটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। নুরুন নাহার ছোট ছেলে লাবলু ও শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। একই গ্রামের বাবর আলীর (৪০) সঙ্গে নুরুন নাহারের পরকিয়া ছিল। এ নিয়ে এলাকায় কয়েকবার সালিশ দরবারও হয়েছে।

রবিবার বাবর আলী নুরুন নাহারের বাড়িতে যান। সেখান থেকে জোর করে নুরুর নাহারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এ ঘটনার পর নুরুন নাহার বাড়ির কাউকে না জানিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকার আনার জন্য রবিবার সকাল ৯ টার দিকে বাবর আলীর বাড়িতে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। নুরুন নাহারের নিখোঁজ হওয়ার খবর তার ছেলের কাছ থেকে জেনে পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুজি শুরু করেন।

রবিবার সন্ধ্যার দিকে এক পর্যায়ে তারা জানতে পারেন নুরুন নাহার বাবর আলীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে তারা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরু মিয়াকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি থানার পুলিশকে জানান। পুলিশ খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবর আলীর ঘরের একটি তালাবন্ধ রুম থেকে নুরুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করেন। লাশটি লাকড়ি, চট ও প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঢাকা ছিল। পুলিশ রাতেই নুরুন নাহারের লাশ থানায় নিয়ে যায়।

আজ সোমবার সকালে তার লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাবর আলীর স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫) ও তার ভাই সেকান্দর আলীকে (৪৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেন জানান, তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরকিয়ার কারণেই নুরুন নাহার খুন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ চলছে।