ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে এবার অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ২ বছরের শিশু আটক

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

এবার যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানে দুই বছরের এক কন্যাশিশুকে তার বাবার সঙ্গে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মিনিয়াপোলিসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা শিশুটি ও তার বাবাকে আটক করে টেক্সাসে পাঠান। পরে এক ফেডারেল বিচারকের আদেশে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আদালতের নথি ও পরিবারের আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে দোকান থেকে ফেরার সময় মিনিয়াপোলিসে নিজ বাসার সামনে অভিবাসন কর্মকর্তারা শিশুটির বাবা এলভিস জোয়েল টে ও তার দুই বছরের মেয়েকে আটক করেন। সন্ধ্যার মধ্যে এক ফেডারেল বিচারক শিশুটিকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে মুক্তির নির্দেশ দেন। তবে সেই আদেশ উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসের একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে শুক্রবার দুজনকে আবার মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনা হয়। শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হলেও বাবা এখনো আটক রয়েছেন।

পরিবারের আইনজীবী ইরিনা ভায়নারম্যান বলেন, ‌‌‘এই ভয়াবহতা কল্পনার বাইরে। এই ঘটনার নিষ্ঠুরতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই বাড়ির আঙিনা ও গাড়ির কাছে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটি গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় এক কর্মকর্তা গাড়ির কাঁচ ভেঙে ফেলেন। শিশুটিকে এমন একটি গাড়িতে তোলা হয়, যেখানে শিশু আসন ছিল না।

আইনজীবীদের দাবি, শিশুটির মা ঘরের ভেতরে ছিলেন এবং মেয়েকে নিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু কর্মকর্তারা মেয়েকে তার মায়ের কাছে পৌঁছাতে দেননি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, মা শিশুটিকে নিতে অস্বীকৃতি জানান- যা পরিবার ও তাদের আইনজীবীরা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।

ডিএইচএস এক বিবৃতিতে জানায়, এটি ছিল একটি ‘টার্গেটেড এনফোর্সমেন্ট অপারেশন’। সংস্থাটি বাবাকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছে, তিনি আগে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে পুনঃপ্রবেশ করেছিলেন এবং শিশুকে নিয়ে বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

ফেডারেল বিচারক তার আদেশে বলেন, শিশুটিকে আটক রাখলে ‘অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকি’ রয়েছে এবং মামলায় সরকারের অবস্থান টেকার সম্ভাবনা কম। বিচারক বলেন, ‘এই শিশুর কোনো অপরাধমূলক ইতিহাস নেই।’

তবুও বিচারকের নির্দেশের কিছুক্ষণ পরই বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসগামী বিমানে তোলা হয়।

সম্প্রতি মিনেসোটায় পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুকে আটক করা হয়েছিল। এসব ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতির কঠোরতা নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা বাড়ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

যুক্তরাষ্ট্রে এবার অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ২ বছরের শিশু আটক

আপডেট সময় ০২:৩৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

এবার যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানে দুই বছরের এক কন্যাশিশুকে তার বাবার সঙ্গে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মিনিয়াপোলিসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা শিশুটি ও তার বাবাকে আটক করে টেক্সাসে পাঠান। পরে এক ফেডারেল বিচারকের আদেশে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আদালতের নথি ও পরিবারের আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে দোকান থেকে ফেরার সময় মিনিয়াপোলিসে নিজ বাসার সামনে অভিবাসন কর্মকর্তারা শিশুটির বাবা এলভিস জোয়েল টে ও তার দুই বছরের মেয়েকে আটক করেন। সন্ধ্যার মধ্যে এক ফেডারেল বিচারক শিশুটিকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে মুক্তির নির্দেশ দেন। তবে সেই আদেশ উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসের একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে শুক্রবার দুজনকে আবার মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনা হয়। শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হলেও বাবা এখনো আটক রয়েছেন।

পরিবারের আইনজীবী ইরিনা ভায়নারম্যান বলেন, ‌‌‘এই ভয়াবহতা কল্পনার বাইরে। এই ঘটনার নিষ্ঠুরতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই বাড়ির আঙিনা ও গাড়ির কাছে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটি গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় এক কর্মকর্তা গাড়ির কাঁচ ভেঙে ফেলেন। শিশুটিকে এমন একটি গাড়িতে তোলা হয়, যেখানে শিশু আসন ছিল না।

আইনজীবীদের দাবি, শিশুটির মা ঘরের ভেতরে ছিলেন এবং মেয়েকে নিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু কর্মকর্তারা মেয়েকে তার মায়ের কাছে পৌঁছাতে দেননি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, মা শিশুটিকে নিতে অস্বীকৃতি জানান- যা পরিবার ও তাদের আইনজীবীরা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।

ডিএইচএস এক বিবৃতিতে জানায়, এটি ছিল একটি ‘টার্গেটেড এনফোর্সমেন্ট অপারেশন’। সংস্থাটি বাবাকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছে, তিনি আগে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে পুনঃপ্রবেশ করেছিলেন এবং শিশুকে নিয়ে বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

ফেডারেল বিচারক তার আদেশে বলেন, শিশুটিকে আটক রাখলে ‘অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকি’ রয়েছে এবং মামলায় সরকারের অবস্থান টেকার সম্ভাবনা কম। বিচারক বলেন, ‘এই শিশুর কোনো অপরাধমূলক ইতিহাস নেই।’

তবুও বিচারকের নির্দেশের কিছুক্ষণ পরই বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসগামী বিমানে তোলা হয়।

সম্প্রতি মিনেসোটায় পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুকে আটক করা হয়েছিল। এসব ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতির কঠোরতা নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা বাড়ছে।