ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

হাজতখানায় পরিবার নিয়ে দুই আ.লীগ নেতার ‘বেয়াইখানা’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংবেদনশীল স্থান ‘হাজতখানার’ ভেতরে পরিবারসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘বেয়াইখানার’ (বর ও কনের বাবাকে আপ্যায়ন করানো) আয়োজন করার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুই নেতাকে মামলায় হাজির করার জন্য আদালতে নিলে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের সদস্যরা হাজতখানার মধ্যে বেয়াইখানার আয়োজন করেন।

এ সময় নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিক ওই হাজতে আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবসহ আরও এক যুবক উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন হত্যা, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে নোয়াখালী জেলা কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি জেলখানায় দুই নেতার কথাবার্তার পর আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের সঙ্গে বিয়ে দেন। গত ৩০ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের ইসলামী ছাত্রশিবিরের চার কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় আরও একাধিক মামলা চলমান। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।

এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, নিজেদের পোশাক পরিবর্তন, খাওয়া, নামাজসহ নারী আসামিদের বাচ্চাদের দুগ্ধপানের জন্য ব্যবহৃত হয় ওই কক্ষটি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুলিশের সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভুইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান ও সাইফুল ইসলাম।

হাজতখানার ঘটনাটি জানার জন্য আজম পাশা চৌধুরীর স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাবিককে বারবার ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠালেও তারা কোনো উত্তর দেননি।

বেয়াইখানার বিষয়ে জানতে চাইলে এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘চিফ জুড়িসিয়াল ও জজ আদালতের দুই হাজতখানায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডিউটি বণ্টন করে আমি ওইসময় আদালতের কাজে ওপরে ছিলাম। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমি সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো অনিয়ম আদালত পাড়ায় না হয়, সেজন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘আদালতের সুরক্ষিত স্থানে আসামি ছাড়া কারও যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা গুরুতর অন্যায়। তদন্ত করে এ বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

হাজতখানায় পরিবার নিয়ে দুই আ.লীগ নেতার ‘বেয়াইখানা’

আপডেট সময় ০৫:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংবেদনশীল স্থান ‘হাজতখানার’ ভেতরে পরিবারসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘বেয়াইখানার’ (বর ও কনের বাবাকে আপ্যায়ন করানো) আয়োজন করার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুই নেতাকে মামলায় হাজির করার জন্য আদালতে নিলে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের সদস্যরা হাজতখানার মধ্যে বেয়াইখানার আয়োজন করেন।

এ সময় নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিক ওই হাজতে আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবসহ আরও এক যুবক উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন হত্যা, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে নোয়াখালী জেলা কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি জেলখানায় দুই নেতার কথাবার্তার পর আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের সঙ্গে বিয়ে দেন। গত ৩০ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের ইসলামী ছাত্রশিবিরের চার কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় আরও একাধিক মামলা চলমান। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।

এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, নিজেদের পোশাক পরিবর্তন, খাওয়া, নামাজসহ নারী আসামিদের বাচ্চাদের দুগ্ধপানের জন্য ব্যবহৃত হয় ওই কক্ষটি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুলিশের সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভুইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান ও সাইফুল ইসলাম।

হাজতখানার ঘটনাটি জানার জন্য আজম পাশা চৌধুরীর স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাবিককে বারবার ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠালেও তারা কোনো উত্তর দেননি।

বেয়াইখানার বিষয়ে জানতে চাইলে এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘চিফ জুড়িসিয়াল ও জজ আদালতের দুই হাজতখানায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডিউটি বণ্টন করে আমি ওইসময় আদালতের কাজে ওপরে ছিলাম। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমি সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো অনিয়ম আদালত পাড়ায় না হয়, সেজন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘আদালতের সুরক্ষিত স্থানে আসামি ছাড়া কারও যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা গুরুতর অন্যায়। তদন্ত করে এ বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।