ঢাকা ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় পিতা গ্রেপ্তার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১২ বছরের শিশু কন্যা। এরই মধ্যে ১৪-১৫ বার ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাও জন্মদাতা পিতার কাছে। পাশ্চাত্য ও ভারতীয় সংস্কৃতির এ ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন দরবেশহাট সংলগ্ন শাহপীর পাড়ায়। ঘটনার সত্যতা নিয়ে নানা রহস্য ঘুরপাক খেলেও নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে চট্টগ্রাম শহরের ডবলমুরিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পিতা আবদুল মাবুদকে। গ্রেপ্তারের পর শনিবার রাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় লোহাগাড়া থানায়।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজাহান পিপিএম (বার) আপন কন্যাকে ধর্ষণের মামলায় পিতা আবদুল মাবুদকে গ্রেপ্তারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষিতার নানা এয়াকুব আলী গত ৭ অক্টোবর শনিবার সকালে ধর্ষণ মামলাটি দায়ের করেন। আর দুপুরে ধর্ষক পিতা আবদুল মাবুদকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বিবরণ মতে তিনি জানান, ধর্ষক আবদুল মাবুদ তার একমাত্র ১২ বছরের শিশু কন্যাকে বহুদিন পূর্ব থেকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছে। এ পর্যন্ত ১৪-১৫ বার ধর্ষণ করেছে। যা সহ্য করতে না পেরে আতœীয়-স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের বলে দেয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফলে স্থানীয় সাংবাদিকরা শিশু কন্যাটির পাশে দাড়ায়। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী পর্যন্ত গড়ায়। ফলে মামলা দায়েরের পর সংসদ সদস্যসহ সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্লা ধর্ষক আব্দুল মাবুদকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে ব্যাপক অনুসন্ধানের পর গোপন সূত্রে জানতে পারি ধর্ষক আব্দুল মাবুদ চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাৎক্ষণিক ভাবে লোহাগাড়া থানা পুলিশের একটি টিম চট্টগ্রাম শহরে পাঠায়। সেখানে ডবল মুরিং থানার ওসির সহায়তায় আব্দুল মাবুদকে ওই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মামলার বাদি এয়াকুব আলী জানান, ধর্ষক আবদুল মাবুদ লোহাগাড়া উপজেলা সদর ইউনিয়ন লোহাগাড়া দরবেশহাট সংলগ্ন শাহপীর পাড়ার ওসমান গণির পুত্র। ১৪-১৫ বছর আগে আবদুল মাবুদের সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু এক কন্যা সন্তানের জন্মের পর মেয়েকে তালাক দিয়ে তার ঘর থেকে বের করে দেয়। সে বর্তমানে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করছে।

সে কারনে ধর্ষিতা শিশু কন্যা তার পিতার সঙ্গে ছিল। পাষন্ড ল¤পট পিতা তার হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে নিজ কন্যার উপর পশুর আচরণ করতে থাকে। এ পর্যন্ত তাকে ১৪-১৫ বার জোর পূর্বক ধর্ষণ করেছে সে। পিতার এ আচরণে অতিষ্ট হয়ে অবশেষে নানীর কাছে আশ্রয় নেয় শিশু কন্যাটি। বর্তমানে সে নানীর আশ্রয়ে রয়েছে।
এদিকে ধর্ষক পিতার উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে গতকাল শনিবার সকালে লোহাগাড়া উপজেলা সদর বটতলী মোটর ষ্টেশনে সর্বস্তরের জনগণের সমন্বয়ে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে বক্তারা ওই পাষন্ড পিতার ফাঁসি দাবি করেন।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা ধর্ষক আব্দুল মাবুদকে গ্রেপ্তার করায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্লা ও লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পিপিএম (বার) কে অভিনন্দন জানান। ধর্ষণের সত্যতার প্রমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পিপিএম (বার) বলেন, ধর্ষক পিতা আবদুল মাবুদকে আজ রবিবার আদালতে তোলা হচ্ছে। ভিকটিমও যাবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় পিতা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১২:৪৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১২ বছরের শিশু কন্যা। এরই মধ্যে ১৪-১৫ বার ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাও জন্মদাতা পিতার কাছে। পাশ্চাত্য ও ভারতীয় সংস্কৃতির এ ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন দরবেশহাট সংলগ্ন শাহপীর পাড়ায়। ঘটনার সত্যতা নিয়ে নানা রহস্য ঘুরপাক খেলেও নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে চট্টগ্রাম শহরের ডবলমুরিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পিতা আবদুল মাবুদকে। গ্রেপ্তারের পর শনিবার রাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় লোহাগাড়া থানায়।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজাহান পিপিএম (বার) আপন কন্যাকে ধর্ষণের মামলায় পিতা আবদুল মাবুদকে গ্রেপ্তারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষিতার নানা এয়াকুব আলী গত ৭ অক্টোবর শনিবার সকালে ধর্ষণ মামলাটি দায়ের করেন। আর দুপুরে ধর্ষক পিতা আবদুল মাবুদকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বিবরণ মতে তিনি জানান, ধর্ষক আবদুল মাবুদ তার একমাত্র ১২ বছরের শিশু কন্যাকে বহুদিন পূর্ব থেকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছে। এ পর্যন্ত ১৪-১৫ বার ধর্ষণ করেছে। যা সহ্য করতে না পেরে আতœীয়-স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের বলে দেয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফলে স্থানীয় সাংবাদিকরা শিশু কন্যাটির পাশে দাড়ায়। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী পর্যন্ত গড়ায়। ফলে মামলা দায়েরের পর সংসদ সদস্যসহ সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্লা ধর্ষক আব্দুল মাবুদকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে ব্যাপক অনুসন্ধানের পর গোপন সূত্রে জানতে পারি ধর্ষক আব্দুল মাবুদ চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাৎক্ষণিক ভাবে লোহাগাড়া থানা পুলিশের একটি টিম চট্টগ্রাম শহরে পাঠায়। সেখানে ডবল মুরিং থানার ওসির সহায়তায় আব্দুল মাবুদকে ওই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মামলার বাদি এয়াকুব আলী জানান, ধর্ষক আবদুল মাবুদ লোহাগাড়া উপজেলা সদর ইউনিয়ন লোহাগাড়া দরবেশহাট সংলগ্ন শাহপীর পাড়ার ওসমান গণির পুত্র। ১৪-১৫ বছর আগে আবদুল মাবুদের সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়। কিন্তু এক কন্যা সন্তানের জন্মের পর মেয়েকে তালাক দিয়ে তার ঘর থেকে বের করে দেয়। সে বর্তমানে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করছে।

সে কারনে ধর্ষিতা শিশু কন্যা তার পিতার সঙ্গে ছিল। পাষন্ড ল¤পট পিতা তার হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে নিজ কন্যার উপর পশুর আচরণ করতে থাকে। এ পর্যন্ত তাকে ১৪-১৫ বার জোর পূর্বক ধর্ষণ করেছে সে। পিতার এ আচরণে অতিষ্ট হয়ে অবশেষে নানীর কাছে আশ্রয় নেয় শিশু কন্যাটি। বর্তমানে সে নানীর আশ্রয়ে রয়েছে।
এদিকে ধর্ষক পিতার উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে গতকাল শনিবার সকালে লোহাগাড়া উপজেলা সদর বটতলী মোটর ষ্টেশনে সর্বস্তরের জনগণের সমন্বয়ে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে বক্তারা ওই পাষন্ড পিতার ফাঁসি দাবি করেন।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা ধর্ষক আব্দুল মাবুদকে গ্রেপ্তার করায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্লা ও লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পিপিএম (বার) কে অভিনন্দন জানান। ধর্ষণের সত্যতার প্রমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পিপিএম (বার) বলেন, ধর্ষক পিতা আবদুল মাবুদকে আজ রবিবার আদালতে তোলা হচ্ছে। ভিকটিমও যাবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে।