ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে: ডা. তাহের সারা দেশে বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করল বিএনপি, তালিকায় যারা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, ৬৯ হাজারের বেশি উত্তীর্ণ আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন করতে নয়, বানচাল করতে এসেছেন : নুর বিশ্বকাপে খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে, সিদ্ধান্ত আইসিসির এবারের নির্বাচন যেন ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে: প্রধান উপদেষ্টা এবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে: প্রেস সচিব বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন এখন আর নেই: জামায়াত আমির সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন হচ্ছে সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর কনে কে চিনতে পারছেন না বর,

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন হাসিমুখে। কিন্তু বাসর ঘরে ঢুকতেই যেন আকাশ থেকে পড়লেন যুবক। তার অভিযোগ, যাকে দেখে পছন্দ করেছিলেন, ঘোমটা খুলতেই দেখা গেল এ তো অন্য জন! পাত্রী বদলের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে সরগরম ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল এলাকা।

তবে গল্পের মোড় ঘুরল সোমবার। পাত্রী পক্ষের দায়ের করা মামলায় জামিন নামঞ্জুর হয়ে কারাগারে যেতে হলো খোদ বর রায়হান কবিরকে।

​ঘটনার সূত্রপাত জুলাই মাসের শেষে। পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা রায়হান কবিরের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন তার পরিবার। ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে দেখা হয় রাণীশংকৈলের জিয়ারুল হকের মেয়ে জেমিন আক্তারকে। রায়হানের পরিবারের দাবি, শিবদিঘী এলাকার এক চায়ের দোকানে প্রথম বার পাত্রী দেখানো হয়েছিল। সেই তরুণীকে পছন্দ হওয়ায় বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়। ১ আগস্ট ধুমধাম করে বিয়ে সেরে কনে নিয়ে বাড়ি ফেরেন রায়হান।

​কিন্তু বিপত্তি বাধে বাসর রাতে। রায়হানের দাবি, কনে মুখ ধোয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, এই তরুণীকে তিনি দেখেননি। মেকআপের আড়ালে অন্য কাউকে তার ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রায়হানের মামা বাদল মিঞার অভিযোগ, অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় বিয়ের রাতে আমরা ধরতে পারিনি। কিন্তু বাসর রাতে সব পরিষ্কার হয়ে যায়। ঘটক আর মেয়ের বাবা পরিকল্পিত ভাবে আমাদের ঠকিয়েছেন।

প্রতারণার অভিযোগে পরদিনই কনেকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় বরপক্ষ।

​পালটা চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন কনের বাবা জিয়ারুল হক। তার দাবি, পুরোটাই সাজানো নাটক। ৭০ বরযাত্রীর সামনে বিয়ে হলো, তখন কেউ চিনতে পারলেন না? আসলে বিয়ের পরেই ওরা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল। আমি জমি বিক্রি করে টাকা দিতে চেয়ে সময় চেয়েছিলাম। ওরা সময় দেয়নি বলেই এখন আমার মেয়ের নামে অপবাদ দিচ্ছে।

​ঘটক মোতালেবও এই দ্বন্দ্বে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তার সাফ কথা, আমি কোনো ভুল মেয়ে দেখাইনি। বাড়িতেই মেয়ে দেখানো হয়েছিল। পরে ওরা নিজেরা সব ঠিক করেছে।

​এই টানাপড়েনের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দু’পক্ষই। সোমবার ঠাকুরগাঁও আদালতে রায়হান কবিরের জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, প্রতারণার অভিযোগে জামিন হলেও কোনো রফাসূত্র না মেলায় শেষমেশ শ্রীঘরে যেতে হল বরকে। বিষয়টি এখন বিচারাধীন। আদালতই বলবে আসল সত্যিটা কী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে: ডা. তাহের

ঠাকুরগাঁওয়ে বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর কনে কে চিনতে পারছেন না বর,

আপডেট সময় ১২:০২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন হাসিমুখে। কিন্তু বাসর ঘরে ঢুকতেই যেন আকাশ থেকে পড়লেন যুবক। তার অভিযোগ, যাকে দেখে পছন্দ করেছিলেন, ঘোমটা খুলতেই দেখা গেল এ তো অন্য জন! পাত্রী বদলের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে সরগরম ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল এলাকা।

তবে গল্পের মোড় ঘুরল সোমবার। পাত্রী পক্ষের দায়ের করা মামলায় জামিন নামঞ্জুর হয়ে কারাগারে যেতে হলো খোদ বর রায়হান কবিরকে।

​ঘটনার সূত্রপাত জুলাই মাসের শেষে। পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা রায়হান কবিরের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন তার পরিবার। ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে দেখা হয় রাণীশংকৈলের জিয়ারুল হকের মেয়ে জেমিন আক্তারকে। রায়হানের পরিবারের দাবি, শিবদিঘী এলাকার এক চায়ের দোকানে প্রথম বার পাত্রী দেখানো হয়েছিল। সেই তরুণীকে পছন্দ হওয়ায় বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়। ১ আগস্ট ধুমধাম করে বিয়ে সেরে কনে নিয়ে বাড়ি ফেরেন রায়হান।

​কিন্তু বিপত্তি বাধে বাসর রাতে। রায়হানের দাবি, কনে মুখ ধোয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, এই তরুণীকে তিনি দেখেননি। মেকআপের আড়ালে অন্য কাউকে তার ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রায়হানের মামা বাদল মিঞার অভিযোগ, অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় বিয়ের রাতে আমরা ধরতে পারিনি। কিন্তু বাসর রাতে সব পরিষ্কার হয়ে যায়। ঘটক আর মেয়ের বাবা পরিকল্পিত ভাবে আমাদের ঠকিয়েছেন।

প্রতারণার অভিযোগে পরদিনই কনেকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় বরপক্ষ।

​পালটা চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন কনের বাবা জিয়ারুল হক। তার দাবি, পুরোটাই সাজানো নাটক। ৭০ বরযাত্রীর সামনে বিয়ে হলো, তখন কেউ চিনতে পারলেন না? আসলে বিয়ের পরেই ওরা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল। আমি জমি বিক্রি করে টাকা দিতে চেয়ে সময় চেয়েছিলাম। ওরা সময় দেয়নি বলেই এখন আমার মেয়ের নামে অপবাদ দিচ্ছে।

​ঘটক মোতালেবও এই দ্বন্দ্বে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তার সাফ কথা, আমি কোনো ভুল মেয়ে দেখাইনি। বাড়িতেই মেয়ে দেখানো হয়েছিল। পরে ওরা নিজেরা সব ঠিক করেছে।

​এই টানাপড়েনের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দু’পক্ষই। সোমবার ঠাকুরগাঁও আদালতে রায়হান কবিরের জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, প্রতারণার অভিযোগে জামিন হলেও কোনো রফাসূত্র না মেলায় শেষমেশ শ্রীঘরে যেতে হল বরকে। বিষয়টি এখন বিচারাধীন। আদালতই বলবে আসল সত্যিটা কী।