ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষার স্বীকৃতি দিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

কুর্দিদের অধিকার নিশ্চিত করে একটি আদেশ জারি করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। এতে প্রথমবারের মতো কুর্দি ভাষাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং সব কুর্দি সিরিয়ানকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা। খবর রয়টার্সের।

গত সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় ভয়াবহ সংঘর্ষের পর এই আদেশ জারি করা হয়। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ওই সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হন এবং শহরের কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত দুটি এলাকা থেকে দেড় লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরে কুর্দি যোদ্ধারা সরে গেলে সংঘর্ষের অবসান ঘটে।

আলেপ্পোর এই সহিংসতা সিরিয়ার অন্যতম গভীর বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে। ১৪ বছরের যুদ্ধের পর এক নেতৃত্বের অধীনে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রেসিডেন্ট শারার প্রতিশ্রুতি কুর্দি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। কুর্দি বাহিনীগুলো শারার ইসলামপন্থি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সন্দিহান।

নতুন আদেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কুর্দি সিরিয়ানদের অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এতে কুর্দি পরিচয়কে সিরিয়ার জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। আরবির পাশাপাশি কুর্দি ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং স্কুলগুলোতে কুর্দি ভাষা শিক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ১৯৬২ সালে হাসাকা প্রদেশে পরিচালিত আদমশুমারির সময় যেসব কুর্দির সিরীয় নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে আগে যারা রাষ্ট্রহীন হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন, তাদেরসহ সব ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

আদেশে জাতিগত ও ভাষাগত বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় বার্তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষার স্বীকৃতি দিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

আপডেট সময় ১১:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

কুর্দিদের অধিকার নিশ্চিত করে একটি আদেশ জারি করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। এতে প্রথমবারের মতো কুর্দি ভাষাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং সব কুর্দি সিরিয়ানকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা। খবর রয়টার্সের।

গত সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় ভয়াবহ সংঘর্ষের পর এই আদেশ জারি করা হয়। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ওই সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হন এবং শহরের কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত দুটি এলাকা থেকে দেড় লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরে কুর্দি যোদ্ধারা সরে গেলে সংঘর্ষের অবসান ঘটে।

আলেপ্পোর এই সহিংসতা সিরিয়ার অন্যতম গভীর বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে। ১৪ বছরের যুদ্ধের পর এক নেতৃত্বের অধীনে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রেসিডেন্ট শারার প্রতিশ্রুতি কুর্দি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। কুর্দি বাহিনীগুলো শারার ইসলামপন্থি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সন্দিহান।

নতুন আদেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কুর্দি সিরিয়ানদের অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এতে কুর্দি পরিচয়কে সিরিয়ার জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। আরবির পাশাপাশি কুর্দি ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং স্কুলগুলোতে কুর্দি ভাষা শিক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ১৯৬২ সালে হাসাকা প্রদেশে পরিচালিত আদমশুমারির সময় যেসব কুর্দির সিরীয় নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে আগে যারা রাষ্ট্রহীন হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন, তাদেরসহ সব ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

আদেশে জাতিগত ও ভাষাগত বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় বার্তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।