ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেনি: বাণিজ্যমন্ত্রী নিহতের মরদেহ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ সদস্য দেখলেন নিথর দেহটি নিজের ছেলের ইসলামের নাম দিয়ে অনৈতিকতা-ধোঁকাবাজি করলে তা ইসলাম হয়ে যায় না: চরমোনাই পীর পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে রক্ষা করা অগ্রহণযোগ্য: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলে না: ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে ‌‘পাগলদের সংগঠন’ বললেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে যা বললেন স্পিকার সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে ভর্তি ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন

পালিয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে আসা যুগল—প্রেমিককে বেঁধে প্রেমিকাকে রাতভর গণধর্ষণ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ভোলার মনপুরায় প্রেমিককে বেঁধে রেখে প্রেমিকাকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের উত্তর তালতলা নতুন বেড়িবাঁধ এলাকায় এ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ গিয়ে প্রেমিক ও ধর্ষণের শিকার তরুণীকে উদ্ধার করে মনপুরা থানায় নিয়ে যায়।

পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী।

মনপুরা থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য ওই তরুণীকে ভোলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার ৬ আসামিদের মধ্যে মাকছুদ ও আল-আমিনের নাম জানা গেলেও অপর ৪ আসামির নাম জানাতে তদন্তের স্বার্থে অপারগতা প্রকাশ করে পুলিশ। তবে প্রধান দুই আসামির দুজনের বাড়ি উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে।

জানা যায়, মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাসেলের ছেলে সজিবের সঙ্গে সিলেট সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রেমিকা তরুণীকে নিয়ে বিয়ে করতে মনপুরায় দাদা বাড়ি আসেন প্রেমিক সজিব। পরে বিয়ের জন্য জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট আত্মীয়দের মাধ্যমে সংগ্রহ করছিলেন।

এর মধ্যে স্থানীয় দুই কথিত নেতা মাকছুদ ও আল-আমিন ঘটনা জানতে পেরে প্রথমে প্রেমিক যুগলের কাছে দুই লাখ টাকা পরে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ধার্য চাঁদা না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়।

পরে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় দুই নেতা ইদ্রিস মাঝির সহযোগিতায় প্রেমিক যুগলকে ঢাকা থেকে আসা হাতিয়াগামী লঞ্চে উঠিয়ে দেবে বলে ঘরে থেকে বের করে আনে। এক পর্যায়ে তালতলা নতুন বেড়িবাঁধের কাছে নিয়ে গিয়ে প্রেমিক সজিবকে বেঁধে প্রেমিকা তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ করে। পরে সেখান থেকে প্রেমিক সজিব পালিয়ে এসে ডাক-চিৎকার দিলে তার স্বজন ও স্থানীয়রা এসে ওই তরুণীকে খুঁজতে বেড়িবাঁধ এলাকা যায়। পরে ভোররাতে ওই দুই নেতা তরুণীকে মোটরসাইকেলে এনে সজিবের বাড়িতে দিয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ এসে প্রেমিকা ও প্রেমিকাকে থানায় নিয়ে যায়।

প্রেমিক সজিব জানান, তিনি চট্টগ্রামে বাবার সঙ্গে কাজ করেন। মোবাইল ফোনে সজিবের সঙ্গে সিলেট সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার বাসিন্দা তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গত ৭ বছর ধরে। তবে প্রেমিকা তরুণী নারায়ণগঞ্জে থাকেন। পরে তারা দুইজন পালিয়ে বিয়ে করতে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে মঙ্গলবার মনপুরায় আসেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় দুই নেতা প্রথমে চাঁদা দাবি করে পরে লঞ্চে উঠিয়ে দেওয়ার নাম করে তাকে বেঁধে তার প্রেমিকার সঙ্গে এই অমানবিক ঘটনা ঘটান। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন প্রেমিক সজিব।

এ ব্যাপারে মনপুরা থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা অভিযোগে ছয়জন সহ আরও অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। প্রেমিক যুগল থানা হেফাজতে রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

পালিয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে আসা যুগল—প্রেমিককে বেঁধে প্রেমিকাকে রাতভর গণধর্ষণ

আপডেট সময় ০৬:৪৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ভোলার মনপুরায় প্রেমিককে বেঁধে রেখে প্রেমিকাকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের উত্তর তালতলা নতুন বেড়িবাঁধ এলাকায় এ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ গিয়ে প্রেমিক ও ধর্ষণের শিকার তরুণীকে উদ্ধার করে মনপুরা থানায় নিয়ে যায়।

পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী।

মনপুরা থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য ওই তরুণীকে ভোলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার ৬ আসামিদের মধ্যে মাকছুদ ও আল-আমিনের নাম জানা গেলেও অপর ৪ আসামির নাম জানাতে তদন্তের স্বার্থে অপারগতা প্রকাশ করে পুলিশ। তবে প্রধান দুই আসামির দুজনের বাড়ি উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে।

জানা যায়, মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাসেলের ছেলে সজিবের সঙ্গে সিলেট সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রেমিকা তরুণীকে নিয়ে বিয়ে করতে মনপুরায় দাদা বাড়ি আসেন প্রেমিক সজিব। পরে বিয়ের জন্য জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট আত্মীয়দের মাধ্যমে সংগ্রহ করছিলেন।

এর মধ্যে স্থানীয় দুই কথিত নেতা মাকছুদ ও আল-আমিন ঘটনা জানতে পেরে প্রথমে প্রেমিক যুগলের কাছে দুই লাখ টাকা পরে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ধার্য চাঁদা না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়।

পরে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় দুই নেতা ইদ্রিস মাঝির সহযোগিতায় প্রেমিক যুগলকে ঢাকা থেকে আসা হাতিয়াগামী লঞ্চে উঠিয়ে দেবে বলে ঘরে থেকে বের করে আনে। এক পর্যায়ে তালতলা নতুন বেড়িবাঁধের কাছে নিয়ে গিয়ে প্রেমিক সজিবকে বেঁধে প্রেমিকা তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ করে। পরে সেখান থেকে প্রেমিক সজিব পালিয়ে এসে ডাক-চিৎকার দিলে তার স্বজন ও স্থানীয়রা এসে ওই তরুণীকে খুঁজতে বেড়িবাঁধ এলাকা যায়। পরে ভোররাতে ওই দুই নেতা তরুণীকে মোটরসাইকেলে এনে সজিবের বাড়িতে দিয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ এসে প্রেমিকা ও প্রেমিকাকে থানায় নিয়ে যায়।

প্রেমিক সজিব জানান, তিনি চট্টগ্রামে বাবার সঙ্গে কাজ করেন। মোবাইল ফোনে সজিবের সঙ্গে সিলেট সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার বাসিন্দা তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গত ৭ বছর ধরে। তবে প্রেমিকা তরুণী নারায়ণগঞ্জে থাকেন। পরে তারা দুইজন পালিয়ে বিয়ে করতে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে মঙ্গলবার মনপুরায় আসেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় দুই নেতা প্রথমে চাঁদা দাবি করে পরে লঞ্চে উঠিয়ে দেওয়ার নাম করে তাকে বেঁধে তার প্রেমিকার সঙ্গে এই অমানবিক ঘটনা ঘটান। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন প্রেমিক সজিব।

এ ব্যাপারে মনপুরা থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা অভিযোগে ছয়জন সহ আরও অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। প্রেমিক যুগল থানা হেফাজতে রয়েছে।