ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে পানিতে বিষ মিশিয়ে যৌথবাহিনী সদস্যদের হত্যাচেষ্টা! দেশে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কিছু করলে দায়ভার সরকারের ওপরই পড়বে: মান্না অস্ত্র প্রস্তুত, তবে ইরানকে ‘কিছুটা সময়’ দিচ্ছেন ট্রাম্প : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ঘিরে উত্তেজনা-ধস্তাধস্তি, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান গণতন্ত্র যতবারই হোঁচট খেয়েছে, ততবারই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: ডা. জাহিদ বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়লো কুর্মিটোলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে, নিহত ১

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আনোয়ার উল্লাহ দলটির রোকন এবং পশ্চিম রাজাবাজার সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

এ সময় দুই হত্যাকারী বাসা থেকে আট ভরি স্বর্ণ ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা চুরি করতে ওই বাসায় ঢোকার পর তাদের দেখে ফেলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে পরিবারের দাবি, এটি নিছক চুরি নয় বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

আজ সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে চুরির জন্য কেউ বাসায় ঢুকেছিল। ভিকটিমের মুখ কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের শেরেবাংলা নগর থানা দক্ষিণ এলাকার সভাপতি হাসান আল বান্না বলেন, ওই বাসার দোতলায় স্ত্রীসহ বসবাস করতেন আনোয়ার উল্লাহ। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুইজন ওই বাসায় ঢুকে। এরপর আনোয়ারের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ সময় তার স্ত্রী অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তারা আট ভরি স্বর্ণ ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নেয়।

তিনি আরও বলেন, আনোয়ার পেশায় শিক্ষক ছিলেন। অবসরের পর হোমিও চিকিৎসায় যুক্ত হন। অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে এলাকায় মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে বারান্দার গ্রিল এবং পরে একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে দুজন ওই চিকিৎসকের বাসায় ঢুকে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের বের হতে দেখা যায়। জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তারা প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বাসার ভেতরে অবস্থান করে।

পরিবারের ভাষ্য- মৃত্যু নিশ্চিত করেই তারা বাসা ছাড়ে।

আনোয়ারের ভাতিজা বলেন, হত্যার সময় তারা বলেছে- ‘তোকে এখন মেরে ফেলব, কালেমা পড়।’ তখন ফুফা বলেন, ‘আমি কালেমা জানি, আমি নিজেই পড়তে পারব।’ এরপর তাকে সামান্য পানি খেতে দেয়। একেবারে মৃত্যু নিশ্চিত করেই তারা বের হয়ে যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে হত্যা

আপডেট সময় ০৯:৫২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আনোয়ার উল্লাহ দলটির রোকন এবং পশ্চিম রাজাবাজার সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

এ সময় দুই হত্যাকারী বাসা থেকে আট ভরি স্বর্ণ ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা চুরি করতে ওই বাসায় ঢোকার পর তাদের দেখে ফেলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে পরিবারের দাবি, এটি নিছক চুরি নয় বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

আজ সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে চুরির জন্য কেউ বাসায় ঢুকেছিল। ভিকটিমের মুখ কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের শেরেবাংলা নগর থানা দক্ষিণ এলাকার সভাপতি হাসান আল বান্না বলেন, ওই বাসার দোতলায় স্ত্রীসহ বসবাস করতেন আনোয়ার উল্লাহ। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুইজন ওই বাসায় ঢুকে। এরপর আনোয়ারের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ সময় তার স্ত্রী অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তারা আট ভরি স্বর্ণ ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নেয়।

তিনি আরও বলেন, আনোয়ার পেশায় শিক্ষক ছিলেন। অবসরের পর হোমিও চিকিৎসায় যুক্ত হন। অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে এলাকায় মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে বারান্দার গ্রিল এবং পরে একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে দুজন ওই চিকিৎসকের বাসায় ঢুকে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের বের হতে দেখা যায়। জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তারা প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বাসার ভেতরে অবস্থান করে।

পরিবারের ভাষ্য- মৃত্যু নিশ্চিত করেই তারা বাসা ছাড়ে।

আনোয়ারের ভাতিজা বলেন, হত্যার সময় তারা বলেছে- ‘তোকে এখন মেরে ফেলব, কালেমা পড়।’ তখন ফুফা বলেন, ‘আমি কালেমা জানি, আমি নিজেই পড়তে পারব।’ এরপর তাকে সামান্য পানি খেতে দেয়। একেবারে মৃত্যু নিশ্চিত করেই তারা বের হয়ে যায়।