ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আমি এখনো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট : নিকোলাস মাদুরো

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে কারাকাস থেকে আটক হওয়ার দুদিন পর নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হয়েছে ভেনেজুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে শুনানির সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নিজের প্রেসিডেন্সি পদের বৈধতা তুলে ধরেন।

মাদক-সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র এবং অর্থ পাচারসহ একাধিক গুরুতর মার্কিন ফেডারেল অপরাধে অভিযুক্ত মাদুরো আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি কোনো অপরাধ করিনি।’

আদালত কক্ষে প্রবেশের সময় ৬৩ বছর বয়সি মাদুরোর পরনে ছিল কমলা রঙের শার্ট ও বেইজ রঙের প্যান্ট। দোভাষীর মাধ্যমে স্প্যানিশ ভাষায় তিনি বিচারককে জানান, গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) তাকে কারাকাসের নিজ বাড়ি থেকে ‘অপহরণ’ করে আনা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট এবং এখানে আমাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।’

তবে প্রায় এক যুগ ধরে দেশ শাসন করা এই নেতার বক্তব্যে বাগড়া দিয়ে বিচারক তাকে শুধুমাত্র নিজের নাম বলার নির্দেশ দেন এবং জানান যে তার শাসনের দিন শেষ হয়েছে।

মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে আদালত তাদের দুজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন ১৭ মার্চ। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মাদুরোর সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সেখানে মাদুরোর সাবেক ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে মার্কিন কমান্ডোরা বিমান হামলা ও নৌ-বাহিনীর সহায়তায় কারাকাসে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে মাদুরো দম্পতিকে আটক করে। এই অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে। বিশেষ করে দেশটির বিশাল তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আগামী মাসে ভেনেজুয়েলায় কোনো নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আগে দেশটিকে ঠিক করতে হবে। এখন ভোট দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।’

ভেনেজুয়েলার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিশ্ব বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন, এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসের শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডাও জোন্স ও লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ব্রায়ান নারাঞ্জো সতর্ক করে বলেছেন, ডেলসি রদ্রিগেজের ক্ষমতা দখল নিরঙ্কুশ নয়, কারণ দিওসদাদো কাবেয়ো এবং জর্জ রদ্রিগেজের মতো নেতারা যেকোনো সময় তাকে সরিয়ে দিতে পারেন।

এদিকে ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি কেবল ভেনেজুয়েলাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। তিনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কিউবা এবং ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণও যুক্তরাষ্ট্র নিতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। কারাকাসের অভিযানে অন্তত ৩২ জন কিউবান নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে হাভানা। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন তাদের কোনো সদস্যের মৃত্যু হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আমি এখনো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট : নিকোলাস মাদুরো

আপডেট সময় ১১:১৩:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে কারাকাস থেকে আটক হওয়ার দুদিন পর নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হয়েছে ভেনেজুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে শুনানির সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নিজের প্রেসিডেন্সি পদের বৈধতা তুলে ধরেন।

মাদক-সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র এবং অর্থ পাচারসহ একাধিক গুরুতর মার্কিন ফেডারেল অপরাধে অভিযুক্ত মাদুরো আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি কোনো অপরাধ করিনি।’

আদালত কক্ষে প্রবেশের সময় ৬৩ বছর বয়সি মাদুরোর পরনে ছিল কমলা রঙের শার্ট ও বেইজ রঙের প্যান্ট। দোভাষীর মাধ্যমে স্প্যানিশ ভাষায় তিনি বিচারককে জানান, গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) তাকে কারাকাসের নিজ বাড়ি থেকে ‘অপহরণ’ করে আনা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট এবং এখানে আমাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।’

তবে প্রায় এক যুগ ধরে দেশ শাসন করা এই নেতার বক্তব্যে বাগড়া দিয়ে বিচারক তাকে শুধুমাত্র নিজের নাম বলার নির্দেশ দেন এবং জানান যে তার শাসনের দিন শেষ হয়েছে।

মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে আদালত তাদের দুজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন ১৭ মার্চ। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মাদুরোর সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সেখানে মাদুরোর সাবেক ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে মার্কিন কমান্ডোরা বিমান হামলা ও নৌ-বাহিনীর সহায়তায় কারাকাসে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে মাদুরো দম্পতিকে আটক করে। এই অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে। বিশেষ করে দেশটির বিশাল তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আগামী মাসে ভেনেজুয়েলায় কোনো নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আগে দেশটিকে ঠিক করতে হবে। এখন ভোট দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।’

ভেনেজুয়েলার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিশ্ব বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন, এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসের শেয়ারের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডাও জোন্স ও লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ব্রায়ান নারাঞ্জো সতর্ক করে বলেছেন, ডেলসি রদ্রিগেজের ক্ষমতা দখল নিরঙ্কুশ নয়, কারণ দিওসদাদো কাবেয়ো এবং জর্জ রদ্রিগেজের মতো নেতারা যেকোনো সময় তাকে সরিয়ে দিতে পারেন।

এদিকে ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি কেবল ভেনেজুয়েলাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। তিনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কিউবা এবং ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণও যুক্তরাষ্ট্র নিতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। কারাকাসের অভিযানে অন্তত ৩২ জন কিউবান নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে হাভানা। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন তাদের কোনো সদস্যের মৃত্যু হয়নি।