আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চট্টগ্রাম রয়্যালসে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু ছিল রংপুর রাইডার্সের। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সহজ হিসাব মিলাতে ব্যর্থ হয় সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। ঠিকই তৃতীয় ম্যাচে জয়ে ফিরেছে নুরুল হাসান সোহান নেতৃত্বধীন রংপুর।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে ১৪৪ রান করে স্বাগতিক ফ্রাঞ্চাইজি। ৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্য পূরণ করে রংপুর রাইডার্সের ব্যাটাররা।
সিলেটের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় জয়ের ম্যাচে শেষ দিকে একক নৈপুণ্য দেখান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার ১৬ বলে ৩৪ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলকে জয় বন্দরে পৌঁছে দেন। ৫টি চার এবং ১টি ছক্কায় সাজান ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ছিলেন অপরাজিত। পঞ্চম উইকেটে তার সঙ্গী ছিলেন পাকিস্তানের খুশদিল শাহ। তিনি ১১ বলে ১৯ রানের অপরাজিত ছিলেন।
আগের দিন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে হাতের কাছের ম্যাচ হাতছাড়া করে রংপুর। সুপার ওভারে গড়ানো সেই ম্যাচে কাঠগড়ায় ওঠেন মাহমুদউল্লাহ। পরদিনই যেন ব্যাট হাতে সেই জবাবটা দিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই তারকা। সিলেটের দেওয়া লক্ষ্য তাড়ায় ১৬ বলে ৩৪ রান করে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন।
১৪৫ রানের লক্ষ্যে ডেভিড মালানের সঙ্গে রংপুর রাইডার্সের ওপেনিং সঙ্গী হন লিটন দাস। দলীয় ২১ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে, মালান ১৯ রানে ফিরলে। এরপর তাওহীদ হৃদয় ও কাইল মায়ার্সকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
তাওহীদ আজ সুবিধা করতে পারেননি। নাসুম আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন মাত্র ৬ রানে। তবে মায়ার্স আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। যদিও ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার ওয়ানডে স্টাইলেই ব্যাট চালিয়েছেন। ২৯ বলে ৩১ রানে থামেন তিনি। তবে শেষ দিকে ম্যাচের ইতি টেনে দেন মাহমুদউল্লাহ ও খুশদিল।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় সিলেট। তবে মিডলঅর্ডারে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় মেহেদী হাসান মিরাজ নেতৃত্বাধীন দলটি।
দলীয় ১২ রানে সাইম আইয়ুবের বিদায়ের পর ৩৫ রানের মধ্যেই মেহেদী হাসান মিরাজ ও রনি তালুকদারের উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর ইথান ব্রুকস ও আফিফ হোসেনের জুটি কিছুটা স্বস্তি ফেরায় সিলেট শিবিরে।
টপঅর্ডার ভেঙে পড়ার পর আফিফ ও ব্রুকস মিলে গড়েন ৬৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র চার রান দূরে থামেন আফিফ হোসেন। ৩১ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন এই বাংলাদেশি স্পিন অলরাউন্ডার। ইথান ব্রুকস ৩০ বল খেলে করেন ৩২ রান।
শেষদিকে বড় সংগ্রহের আশা জাগাতে পারেননি সিলেট। আজমত উল্লাহ ওমরজাই বিপিএলের ১২তম আসরে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ হন। ফাহিম আশরাফের বলে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে মাত্র ৬ রান করেন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে সবমিলিয়ে ১৪৪ রানেই থামে সিলেট টাইটান্স।
বল হাতে রংপুরের হয়ে আলো ছড়ান মোস্তাফিজুর রহমান ও ফাহিম আশরাফ। সিলেট অধিনায়ক মিরাজকে ফিরিয়ে স্বীকৃত ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন মোস্তাফিজ। এরপর আরও তিনটি উইকেট যোগ করে ইনিংসে বড় প্রভাব রাখেন তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















