ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

স্বামীকে মুক্ত করতে বাদী সেজে আদালতে স্ত্রী, বিচারকের কাছে ধরা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে আদালতে নিজেকে বাদী পরিচয় দিয়ে বিচারকের কাছে ধরা পড়লেন রুখসানা আক্তার নামে এক নারী। এ ঘটনায় তার নামে মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ পারিবারিক জজ আদালতে। ওই আদালতের বিচারক সহকারী জজ কাজিপুর মো. লোকমান হাকিম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রুখসানা কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি গ্রামের জহিরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাব্বির হোসেন জানান, জহিরুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না দিয়ে রুখসানা আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ ঘটনায় দেনমোহর ও খোরপোষ দাবি করে প্রথম স্ত্রী রুবিনা আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বিচারক লোকমান হাকিম আসামি জহিরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বুধবার রুখসানা আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে মামলার বাদী রুবিনা হিসেবে পরিচয় দেন এবং আপোষ মীমাংসার কথা বলে তার কারাবন্দী স্বামীকে জামিনে মুক্ত করার আবেদন করেন। সেই সঙ্গে বিচারাধীন মামলাটি প্রত্যাহার করতে চান তিনি।

শুনানিকালে বিচারক সহকারী জজ (পারিবারিক আদালতের জজ) মো. লোকমান হাকিম বাদীর স্বাক্ষরের সঙ্গে মামলার কাগজ ও অন্যান্য নথির স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখেন। এ অবস্থায় স্বাক্ষরে গড়মিল দেখা দেওয়ায় তাকে ও তার কথিত দেবরকে জেরা করে বেশ কিছু অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য পান। পরে স্থানীয় সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জহিরুলের দুই শিশু সন্তানকে আদালতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হন যে তিনি মামলার বাদী রুবিনা নন। তার প্রকৃত না রুখসানা আক্তার।

বিচারক মো. লোকমান হাকিম পরে আসামি জহিরুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করেন এবং রুখসানা আক্তারের নামে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় বেঞ্চ সহকারী সাব্বির হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের পর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজিপুর আমলি আদালতে উপস্থাপন করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে এ মামলার আইনজীবীদের কাছে ঘটনার ব্যাখা চাইলে, তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দেন

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

স্বামীকে মুক্ত করতে বাদী সেজে আদালতে স্ত্রী, বিচারকের কাছে ধরা

আপডেট সময় ১২:১৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে আদালতে নিজেকে বাদী পরিচয় দিয়ে বিচারকের কাছে ধরা পড়লেন রুখসানা আক্তার নামে এক নারী। এ ঘটনায় তার নামে মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ পারিবারিক জজ আদালতে। ওই আদালতের বিচারক সহকারী জজ কাজিপুর মো. লোকমান হাকিম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রুখসানা কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি গ্রামের জহিরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাব্বির হোসেন জানান, জহিরুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না দিয়ে রুখসানা আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ ঘটনায় দেনমোহর ও খোরপোষ দাবি করে প্রথম স্ত্রী রুবিনা আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বিচারক লোকমান হাকিম আসামি জহিরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বুধবার রুখসানা আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে মামলার বাদী রুবিনা হিসেবে পরিচয় দেন এবং আপোষ মীমাংসার কথা বলে তার কারাবন্দী স্বামীকে জামিনে মুক্ত করার আবেদন করেন। সেই সঙ্গে বিচারাধীন মামলাটি প্রত্যাহার করতে চান তিনি।

শুনানিকালে বিচারক সহকারী জজ (পারিবারিক আদালতের জজ) মো. লোকমান হাকিম বাদীর স্বাক্ষরের সঙ্গে মামলার কাগজ ও অন্যান্য নথির স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখেন। এ অবস্থায় স্বাক্ষরে গড়মিল দেখা দেওয়ায় তাকে ও তার কথিত দেবরকে জেরা করে বেশ কিছু অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য পান। পরে স্থানীয় সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জহিরুলের দুই শিশু সন্তানকে আদালতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হন যে তিনি মামলার বাদী রুবিনা নন। তার প্রকৃত না রুখসানা আক্তার।

বিচারক মো. লোকমান হাকিম পরে আসামি জহিরুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করেন এবং রুখসানা আক্তারের নামে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় বেঞ্চ সহকারী সাব্বির হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের পর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজিপুর আমলি আদালতে উপস্থাপন করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে এ মামলার আইনজীবীদের কাছে ঘটনার ব্যাখা চাইলে, তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দেন