ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

স্বামীকে মুক্ত করতে বাদী সেজে আদালতে স্ত্রী, বিচারকের কাছে ধরা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে আদালতে নিজেকে বাদী পরিচয় দিয়ে বিচারকের কাছে ধরা পড়লেন রুখসানা আক্তার নামে এক নারী। এ ঘটনায় তার নামে মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ পারিবারিক জজ আদালতে। ওই আদালতের বিচারক সহকারী জজ কাজিপুর মো. লোকমান হাকিম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রুখসানা কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি গ্রামের জহিরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাব্বির হোসেন জানান, জহিরুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না দিয়ে রুখসানা আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ ঘটনায় দেনমোহর ও খোরপোষ দাবি করে প্রথম স্ত্রী রুবিনা আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বিচারক লোকমান হাকিম আসামি জহিরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বুধবার রুখসানা আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে মামলার বাদী রুবিনা হিসেবে পরিচয় দেন এবং আপোষ মীমাংসার কথা বলে তার কারাবন্দী স্বামীকে জামিনে মুক্ত করার আবেদন করেন। সেই সঙ্গে বিচারাধীন মামলাটি প্রত্যাহার করতে চান তিনি।

শুনানিকালে বিচারক সহকারী জজ (পারিবারিক আদালতের জজ) মো. লোকমান হাকিম বাদীর স্বাক্ষরের সঙ্গে মামলার কাগজ ও অন্যান্য নথির স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখেন। এ অবস্থায় স্বাক্ষরে গড়মিল দেখা দেওয়ায় তাকে ও তার কথিত দেবরকে জেরা করে বেশ কিছু অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য পান। পরে স্থানীয় সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জহিরুলের দুই শিশু সন্তানকে আদালতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হন যে তিনি মামলার বাদী রুবিনা নন। তার প্রকৃত না রুখসানা আক্তার।

বিচারক মো. লোকমান হাকিম পরে আসামি জহিরুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করেন এবং রুখসানা আক্তারের নামে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় বেঞ্চ সহকারী সাব্বির হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের পর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজিপুর আমলি আদালতে উপস্থাপন করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে এ মামলার আইনজীবীদের কাছে ঘটনার ব্যাখা চাইলে, তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দেন

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

স্বামীকে মুক্ত করতে বাদী সেজে আদালতে স্ত্রী, বিচারকের কাছে ধরা

আপডেট সময় ১২:১৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে আদালতে নিজেকে বাদী পরিচয় দিয়ে বিচারকের কাছে ধরা পড়লেন রুখসানা আক্তার নামে এক নারী। এ ঘটনায় তার নামে মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ পারিবারিক জজ আদালতে। ওই আদালতের বিচারক সহকারী জজ কাজিপুর মো. লোকমান হাকিম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রুখসানা কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি গ্রামের জহিরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাব্বির হোসেন জানান, জহিরুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না দিয়ে রুখসানা আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ ঘটনায় দেনমোহর ও খোরপোষ দাবি করে প্রথম স্ত্রী রুবিনা আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বিচারক লোকমান হাকিম আসামি জহিরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বুধবার রুখসানা আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে মামলার বাদী রুবিনা হিসেবে পরিচয় দেন এবং আপোষ মীমাংসার কথা বলে তার কারাবন্দী স্বামীকে জামিনে মুক্ত করার আবেদন করেন। সেই সঙ্গে বিচারাধীন মামলাটি প্রত্যাহার করতে চান তিনি।

শুনানিকালে বিচারক সহকারী জজ (পারিবারিক আদালতের জজ) মো. লোকমান হাকিম বাদীর স্বাক্ষরের সঙ্গে মামলার কাগজ ও অন্যান্য নথির স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখেন। এ অবস্থায় স্বাক্ষরে গড়মিল দেখা দেওয়ায় তাকে ও তার কথিত দেবরকে জেরা করে বেশ কিছু অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য পান। পরে স্থানীয় সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জহিরুলের দুই শিশু সন্তানকে আদালতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হন যে তিনি মামলার বাদী রুবিনা নন। তার প্রকৃত না রুখসানা আক্তার।

বিচারক মো. লোকমান হাকিম পরে আসামি জহিরুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করেন এবং রুখসানা আক্তারের নামে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় বেঞ্চ সহকারী সাব্বির হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের পর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজিপুর আমলি আদালতে উপস্থাপন করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে এ মামলার আইনজীবীদের কাছে ঘটনার ব্যাখা চাইলে, তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দেন