ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সন্তানকে হত্যা করে ধান ক্ষেতে ফেললেন মা, করা হয় মাইকিং

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিশু সন্তানকে হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগে মাকে আটক করেছে থানা পুলিশ। শিশুসন্তানকে হত্যা করে লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে দেন মা। এরপর শিশুকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়।

এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের পাতিলাপুর মিয়াপাড়া গ্রামে।

নিজ সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মা ফেরদৌসি বেগম। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের পাতিলাপুর মিয়াপাড়া গ্রামের নুর আলম মিয়ার ছেলে ফরহাদ হোসেন (১০) গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজির করে না পেয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শিশুটির মা ফেরদৌসি বেগম উলিপুর থানায় সন্তানের নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করেন।

ওই দিন পরিবারের পক্ষ থেকে ফরহাদের সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সকালে নিখোঁজ শিশুর বাড়ি থেকে ২০০ গজ দক্ষিণে ধানক্ষেত থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

নিহত ফরহাদ হোসেন স্থানীয় ঘাটিয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা নুর আলম বাদী হয়ে ওই দিন (১০ সেপ্টেম্বর) রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগে উলিপুর থানায় মামলা করেন। এরপর থানা পুলিশ শিশু ফরহাদ হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্ত শুরু করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর ফরহাদ রাতে দেরি করে বাড়িতে ফেরায় মা ফেরদৌসি তাকে অতিরিক্ত শাসন করতে গিয়ে আঘাত করলে ফরহাদের মৃত্যু হয়। সন্তানের লাশ গুম করে এবং হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তিনি লাশটি রাতেই একই গ্রামের আকবর আলীর ধানক্ষেতে ফেলে রেখে আসেন। এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে থানায় জিডি ও মাইকিং করা হয়। এদিকে ২ দিন ধানক্ষেতে রোদ-বৃষ্টিতে পড়ে থাকায় ফরহাদের মৃতদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উলিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমীন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রাথমিকভাবে শিশুর মাকে সন্দেহ করা হয়। এরপর সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) মা ফেরদৌসি বেগমকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

তিনি আরও বলেন, হত্যা মামলাটির তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অধিকতর তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির জানান, শিশুটির মা ফেরদৌসি বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

সন্তানকে হত্যা করে ধান ক্ষেতে ফেললেন মা, করা হয় মাইকিং

আপডেট সময় ১০:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিশু সন্তানকে হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগে মাকে আটক করেছে থানা পুলিশ। শিশুসন্তানকে হত্যা করে লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে দেন মা। এরপর শিশুকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়।

এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের পাতিলাপুর মিয়াপাড়া গ্রামে।

নিজ সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মা ফেরদৌসি বেগম। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের পাতিলাপুর মিয়াপাড়া গ্রামের নুর আলম মিয়ার ছেলে ফরহাদ হোসেন (১০) গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজির করে না পেয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শিশুটির মা ফেরদৌসি বেগম উলিপুর থানায় সন্তানের নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করেন।

ওই দিন পরিবারের পক্ষ থেকে ফরহাদের সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সকালে নিখোঁজ শিশুর বাড়ি থেকে ২০০ গজ দক্ষিণে ধানক্ষেত থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

নিহত ফরহাদ হোসেন স্থানীয় ঘাটিয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা নুর আলম বাদী হয়ে ওই দিন (১০ সেপ্টেম্বর) রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগে উলিপুর থানায় মামলা করেন। এরপর থানা পুলিশ শিশু ফরহাদ হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্ত শুরু করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর ফরহাদ রাতে দেরি করে বাড়িতে ফেরায় মা ফেরদৌসি তাকে অতিরিক্ত শাসন করতে গিয়ে আঘাত করলে ফরহাদের মৃত্যু হয়। সন্তানের লাশ গুম করে এবং হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তিনি লাশটি রাতেই একই গ্রামের আকবর আলীর ধানক্ষেতে ফেলে রেখে আসেন। এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে থানায় জিডি ও মাইকিং করা হয়। এদিকে ২ দিন ধানক্ষেতে রোদ-বৃষ্টিতে পড়ে থাকায় ফরহাদের মৃতদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উলিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমীন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রাথমিকভাবে শিশুর মাকে সন্দেহ করা হয়। এরপর সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) মা ফেরদৌসি বেগমকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

তিনি আরও বলেন, হত্যা মামলাটির তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অধিকতর তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির জানান, শিশুটির মা ফেরদৌসি বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।