ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

‘কইলজা পুইড়া যাইতাছে আমার মেয়েরে আইনা দে’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

‘আমাকে তোরা সান্ত্বনা দিতে আসিস না, আমার সন্তান আমার মেয়েরে আইনা দে আমি শান্ত থাকুম। আমার কইলজা পুইড়া যাইতাছে, আমার মেয়েরে আইনা দে’।

এভাবেই বিলাপ করছিলেন মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হানিফ ফ্লাইওভারে বাসের ধাক্কায় নিহত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন উর্মির মা সাজেদা আক্তার।

মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পরিবারের সঙ্গে আসেন সাজেদা আক্তার। হাসপাতালে এসেই জরুরি বিভাগের এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছেন তিনি। কখনো হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে কখনো আবার দাঁড়িয়ে দৌড় দিয়ে মেয়ের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। কখনো আবার বসে পড়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠছেন সাজেদা। মেয়েকে দেখার জন্য ছটফট করতে থাকে সাজেদা আক্তার। বার বার মেয়ে উর্মির কাছে যেতে চাইছেন তিনি। তার সাথে থাকা আত্মীয়-স্বজনরা তাকে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তখন সাজেদা আক্তার তার আত্মীয়-স্বজনদের উদ্দেশে বলেন, আমাকে তোরা সান্ত্বনা দিতে আসিস না, আমার সান্তনা, আমার মেয়েকে আইনা দে, আমি শান্ত থাকুম।

একপর্যায়ে এ দুর্ঘটনার সময় অপর মোটরসাইকেলে থাকা নিহতের বড় বোন আইরিন আক্তার রিমিকে জড়িয়ে ধরে সাজেদা বলেন, আমার কইলজার খবর তোরা জানিস না। আমার কইলজা পুইড়া যাইতাছে, আমার মেয়েরে আইনা দে।

উর্মি কদমতলী দোলাইপার দুনিয়া ক্লাবের পাশের একটি বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে এসেছেন ওই বাড়ির মালিক লাকি।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, উর্মি তার বোনের দ্বিতীয় বিয়েবার্ষিকী উপলক্ষে ঘুরতে যাবেন। সেজন্য সাজগোজ করে আমাকে দেখাতে আসেন এবং বলেন দেখেন তো আমাকে কেমন লাগছে। তার কিছুক্ষণ পরেই ওর মৃত্যুর সংবাদ পাই।

নিহতের বোন আইরিন আক্তার রিমি বলেন, আমি আমার স্বামীর মোটরসাইকেলের পেছনে ছিলাম। সামনে মোটরসাইকেলে ছিল আমার দেবর নাজমুল ও আমার বোন উর্মি। চোখের পলকেই কী হলো, কিছুই বুঝতে পারিনি। পরে দেখতে পাই উর্মি রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লাইওভারের ওপরে পড়ে আছে। ওর মাথা থেঁতলে গেছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, কমল নামে একটি মিনিবাস (ঢাকা যার নাম্বার মেট্রোঃ ব-১৫-৩০৬৭) হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর উর্মিকে বহনকারী ওই মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় উর্মি। এরপর পরপরই সাইফ নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে জানা যায় তিনি ওই মিনিবাসের কন্ট্রাক্টর।

মঙ্গলবার বিকেলে হানিফ ফ্লাইওভারের ওপরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা সাদিয়া আফরিন উর্মি (২২) মারা যায়। নিহত তিতুমীর কলেজের অনার্স (মার্কেটিং) তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার বড় বোন রিমির দ্বিতীয় বিয়েবার্ষিকী উপলক্ষে দুই মোটরসাইকেলে করে তারা ৩০০ ফিট এলাকায় ঘুরতে যাচ্ছিলেন। এ সময় উর্মি ছিলেন তার বোনের দেবর নাজমুলের মোটরসাইকেলে। আরেক মোটরসাইকেলে ছিলেন বড় বোন আইরিন ও তার স্বামী। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

‘কইলজা পুইড়া যাইতাছে আমার মেয়েরে আইনা দে’

আপডেট সময় ১১:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

‘আমাকে তোরা সান্ত্বনা দিতে আসিস না, আমার সন্তান আমার মেয়েরে আইনা দে আমি শান্ত থাকুম। আমার কইলজা পুইড়া যাইতাছে, আমার মেয়েরে আইনা দে’।

এভাবেই বিলাপ করছিলেন মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হানিফ ফ্লাইওভারে বাসের ধাক্কায় নিহত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন উর্মির মা সাজেদা আক্তার।

মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পরিবারের সঙ্গে আসেন সাজেদা আক্তার। হাসপাতালে এসেই জরুরি বিভাগের এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছেন তিনি। কখনো হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে কখনো আবার দাঁড়িয়ে দৌড় দিয়ে মেয়ের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। কখনো আবার বসে পড়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠছেন সাজেদা। মেয়েকে দেখার জন্য ছটফট করতে থাকে সাজেদা আক্তার। বার বার মেয়ে উর্মির কাছে যেতে চাইছেন তিনি। তার সাথে থাকা আত্মীয়-স্বজনরা তাকে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তখন সাজেদা আক্তার তার আত্মীয়-স্বজনদের উদ্দেশে বলেন, আমাকে তোরা সান্ত্বনা দিতে আসিস না, আমার সান্তনা, আমার মেয়েকে আইনা দে, আমি শান্ত থাকুম।

একপর্যায়ে এ দুর্ঘটনার সময় অপর মোটরসাইকেলে থাকা নিহতের বড় বোন আইরিন আক্তার রিমিকে জড়িয়ে ধরে সাজেদা বলেন, আমার কইলজার খবর তোরা জানিস না। আমার কইলজা পুইড়া যাইতাছে, আমার মেয়েরে আইনা দে।

উর্মি কদমতলী দোলাইপার দুনিয়া ক্লাবের পাশের একটি বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে এসেছেন ওই বাড়ির মালিক লাকি।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, উর্মি তার বোনের দ্বিতীয় বিয়েবার্ষিকী উপলক্ষে ঘুরতে যাবেন। সেজন্য সাজগোজ করে আমাকে দেখাতে আসেন এবং বলেন দেখেন তো আমাকে কেমন লাগছে। তার কিছুক্ষণ পরেই ওর মৃত্যুর সংবাদ পাই।

নিহতের বোন আইরিন আক্তার রিমি বলেন, আমি আমার স্বামীর মোটরসাইকেলের পেছনে ছিলাম। সামনে মোটরসাইকেলে ছিল আমার দেবর নাজমুল ও আমার বোন উর্মি। চোখের পলকেই কী হলো, কিছুই বুঝতে পারিনি। পরে দেখতে পাই উর্মি রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লাইওভারের ওপরে পড়ে আছে। ওর মাথা থেঁতলে গেছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, কমল নামে একটি মিনিবাস (ঢাকা যার নাম্বার মেট্রোঃ ব-১৫-৩০৬৭) হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর উর্মিকে বহনকারী ওই মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় উর্মি। এরপর পরপরই সাইফ নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে জানা যায় তিনি ওই মিনিবাসের কন্ট্রাক্টর।

মঙ্গলবার বিকেলে হানিফ ফ্লাইওভারের ওপরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা সাদিয়া আফরিন উর্মি (২২) মারা যায়। নিহত তিতুমীর কলেজের অনার্স (মার্কেটিং) তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার বড় বোন রিমির দ্বিতীয় বিয়েবার্ষিকী উপলক্ষে দুই মোটরসাইকেলে করে তারা ৩০০ ফিট এলাকায় ঘুরতে যাচ্ছিলেন। এ সময় উর্মি ছিলেন তার বোনের দেবর নাজমুলের মোটরসাইকেলে। আরেক মোটরসাইকেলে ছিলেন বড় বোন আইরিন ও তার স্বামী। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসে।