ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

আইফোন পেয়ে ফিরিয়ে দিলেন রিকশাচালক আমিনুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মার্কিন এক নাগরিকের আইফোন পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম নামের এক রিকশাচালক । তিনি রাজধানীর গুলশান এলাকায় রিকশা চালান।

গত ৫ আগস্ট রিকশায় যাত্রী বসার গদির ফাঁকে বন্ধ অবস্থায় তিনি একটি মোবাইল (আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স) পান। ৯ আগস্ট পুলিশের মাধ্যমে মোবাইলটি তিনি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেন।

আমিনুল বলেন, ৮ বছর যাবত গুলশান এলাকায় রিকশা চালাই। ৫ আগস্ট গুলশান-২ নম্বর এলাকায় যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর আমি গদির ফাঁকে মোবাইলটি দেখতে পাই। মোবাইলটি বন্ধ অবস্থায় ছিল। চার্জ না থাকায় চালু করা যাচ্ছিল না। ফলে মোবাইলের মালিক কে, তা বুঝতে পারছিলাম না।

আমিনুল জানান, তিনি মোবাইলফোনটি চালু করার পর এক নারীর ফোন আসে। ওই নারী মোবাইলের মালিকানা দাবি করেন। তখন তিনি ওই নারীকে মোবাইল নিয়ে যেতে বলেন। পরে পুলিশের মাধ্যমে মালিকের কাছে মোবাইলটি ফিরিয়ে দেন।

আমিনুল তার পরিবারের বিষয়ে জানান, তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে। স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে নিয়ে তিনি থাকেন বাড্ডা এলাকায়। জেসমিন একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাদের দুই সন্তান আছে। তারা নানির কাছে থেকে লেখাপড়া করে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক সীমা আহম্মেদ নামের ওই নারীর জানান, মোবাইলটি তার ছেলে স্যামি আহম্মেদের। তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। মাঝে-মাঝে তারা বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। সেদিন তিনি ছেলেকে নিয়ে রিকশায় করে রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন। পথে মোবাইলটি হারিয়ে ফেলেন। মোবাইলে চার্জ ছিল না। তাই কলও করা যাচ্ছিল না। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একপর্যায়ে সিম চালু পান। ফোন করলে এক রিকশাচালক ধরেন। তিনি মোবাইলটি পাওয়ার কথা জানান। মোবাইলটি নিয়ে যেতে বলেন। তারা পুলিশকে এ তথ্য জানান। পরে আমিনুল পুলিশের কাছে মোবাইলটি পৌঁছে দেন।

গুলশান থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল কাদির বলেন, মার্কিন নাগরিক সীমা আহম্মেদ তার ছেলেকে নিয়ে রিকশায় চড়ে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন। সে সময় মোবাইলটি পড়ে যায়। পরে তিনি গুলশান থানায় জিডি করেন। মোবাইলটিতে রোবট তৈরির একটি প্রকল্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত ছিল। আমিনুল মোবাইলটি পেয়ে সততার সঙ্গে ফেরত দিয়েছেন।

এসআই আরও বলেন, আমি প্রায় সাত বছরে সাড়ে চার হাজার মোবাইল উদ্ধার করেছি। কিন্তু কখনোই এমন সততার দৃষ্টান্ত দেখিনি। আমাদের সবার আমিনুলের কাছ থেকে শেখা উচিত।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আইফোন পেয়ে ফিরিয়ে দিলেন রিকশাচালক আমিনুল

আপডেট সময় ১১:৩২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মার্কিন এক নাগরিকের আইফোন পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম নামের এক রিকশাচালক । তিনি রাজধানীর গুলশান এলাকায় রিকশা চালান।

গত ৫ আগস্ট রিকশায় যাত্রী বসার গদির ফাঁকে বন্ধ অবস্থায় তিনি একটি মোবাইল (আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স) পান। ৯ আগস্ট পুলিশের মাধ্যমে মোবাইলটি তিনি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেন।

আমিনুল বলেন, ৮ বছর যাবত গুলশান এলাকায় রিকশা চালাই। ৫ আগস্ট গুলশান-২ নম্বর এলাকায় যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর আমি গদির ফাঁকে মোবাইলটি দেখতে পাই। মোবাইলটি বন্ধ অবস্থায় ছিল। চার্জ না থাকায় চালু করা যাচ্ছিল না। ফলে মোবাইলের মালিক কে, তা বুঝতে পারছিলাম না।

আমিনুল জানান, তিনি মোবাইলফোনটি চালু করার পর এক নারীর ফোন আসে। ওই নারী মোবাইলের মালিকানা দাবি করেন। তখন তিনি ওই নারীকে মোবাইল নিয়ে যেতে বলেন। পরে পুলিশের মাধ্যমে মালিকের কাছে মোবাইলটি ফিরিয়ে দেন।

আমিনুল তার পরিবারের বিষয়ে জানান, তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে। স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে নিয়ে তিনি থাকেন বাড্ডা এলাকায়। জেসমিন একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাদের দুই সন্তান আছে। তারা নানির কাছে থেকে লেখাপড়া করে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক সীমা আহম্মেদ নামের ওই নারীর জানান, মোবাইলটি তার ছেলে স্যামি আহম্মেদের। তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। মাঝে-মাঝে তারা বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। সেদিন তিনি ছেলেকে নিয়ে রিকশায় করে রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন। পথে মোবাইলটি হারিয়ে ফেলেন। মোবাইলে চার্জ ছিল না। তাই কলও করা যাচ্ছিল না। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একপর্যায়ে সিম চালু পান। ফোন করলে এক রিকশাচালক ধরেন। তিনি মোবাইলটি পাওয়ার কথা জানান। মোবাইলটি নিয়ে যেতে বলেন। তারা পুলিশকে এ তথ্য জানান। পরে আমিনুল পুলিশের কাছে মোবাইলটি পৌঁছে দেন।

গুলশান থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল কাদির বলেন, মার্কিন নাগরিক সীমা আহম্মেদ তার ছেলেকে নিয়ে রিকশায় চড়ে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন। সে সময় মোবাইলটি পড়ে যায়। পরে তিনি গুলশান থানায় জিডি করেন। মোবাইলটিতে রোবট তৈরির একটি প্রকল্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত ছিল। আমিনুল মোবাইলটি পেয়ে সততার সঙ্গে ফেরত দিয়েছেন।

এসআই আরও বলেন, আমি প্রায় সাত বছরে সাড়ে চার হাজার মোবাইল উদ্ধার করেছি। কিন্তু কখনোই এমন সততার দৃষ্টান্ত দেখিনি। আমাদের সবার আমিনুলের কাছ থেকে শেখা উচিত।