ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইরানে বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি জানাল শিক্ষা বোর্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান

কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ, শনাক্ত ২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়া এক পরিবারের স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে দুইজনকে শনাক্ত করেছে র‌্যাব। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার সঙ্গে তিনজন জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছিল ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ। তাদের মধ্যে দুইজনকে শনাক্ত করতে পেরেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব।

বুধবার রাত দেড়টার দিকে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামে ওই রিসোর্টটি থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে র‌্যাব। কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, বুধবার সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে যান তিনি। ওঠেন শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে। সেখান থেকে বিকালে যান সৈকতের লাবনী পয়েন্টে। সেখানে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় তার স্বামীর। এর জের ধরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার ৮ মাসের সন্তান ও স্বামীকে কয়েকজন নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি অটোরিকশায় জোর করে শহরের একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানে নিয়ে তিনজন ধর্ষণ করে। তারপর নেওয়া হয় হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে। বিষয়টি কাউকে জানালে তার স্বামী-সন্তানকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর বাইর থেকে হোটেল কক্ষ বন্ধ করে দুর্বৃত্তরা বেরিয়ে যায়।

ওই নারী আরও জানায়, জিয়া গেস্ট ইনের তৃতীয় তলা থেকে জানালা দিয়ে এক যুবকের সহায়তায় কক্ষের দরজা খোলেন তিনি। তারপর পুলিশের জাতীয় সেবা ৯৯৯ এ কল দেন। সেখান থেকে বলা হয় জিডি করার কথা। তারপর পাশের একজনের সহযোগিতায় কল দেন র‌্যাব-১৫ এর কাছে। তারা এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তার স্বামী ও সন্তানকেও উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ‘সামান্য ধাক্কাধাক্কির কারণে তারা আমার এতো বড় ক্ষতি করল। অপরিচিত বলে শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেলেও সে জায়গা ও দুর্বৃত্তদের চিনতে পারিনি। বারবার হাতে পায়ে ধরেও তারা আমার স্ত্রীকে ফেরত দেয়নি। বেড়াতে এসেছিলাম বেতন পাওয়ার খুশিতে। খুশিটা আর রইলো না। এখন স্ত্রীর অবস্থা ভালো না তাকে নিয়ে চিন্তায় আছি।’

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে স্বামী-সন্তান ও গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি শোনার পর থেকেই ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব। এখন পর্যন্ত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে আমরা শনাক্ত করেছি। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্দোলনে ‘আহতদের খোঁজ মেলেনি’, হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে (পিবিআই)

কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ, শনাক্ত ২

আপডেট সময় ০৪:৪৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়া এক পরিবারের স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে দুইজনকে শনাক্ত করেছে র‌্যাব। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার সঙ্গে তিনজন জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছিল ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ। তাদের মধ্যে দুইজনকে শনাক্ত করতে পেরেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব।

বুধবার রাত দেড়টার দিকে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামে ওই রিসোর্টটি থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে র‌্যাব। কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, বুধবার সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে যান তিনি। ওঠেন শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে। সেখান থেকে বিকালে যান সৈকতের লাবনী পয়েন্টে। সেখানে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় তার স্বামীর। এর জের ধরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার ৮ মাসের সন্তান ও স্বামীকে কয়েকজন নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি অটোরিকশায় জোর করে শহরের একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানে নিয়ে তিনজন ধর্ষণ করে। তারপর নেওয়া হয় হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে। বিষয়টি কাউকে জানালে তার স্বামী-সন্তানকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর বাইর থেকে হোটেল কক্ষ বন্ধ করে দুর্বৃত্তরা বেরিয়ে যায়।

ওই নারী আরও জানায়, জিয়া গেস্ট ইনের তৃতীয় তলা থেকে জানালা দিয়ে এক যুবকের সহায়তায় কক্ষের দরজা খোলেন তিনি। তারপর পুলিশের জাতীয় সেবা ৯৯৯ এ কল দেন। সেখান থেকে বলা হয় জিডি করার কথা। তারপর পাশের একজনের সহযোগিতায় কল দেন র‌্যাব-১৫ এর কাছে। তারা এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তার স্বামী ও সন্তানকেও উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ‘সামান্য ধাক্কাধাক্কির কারণে তারা আমার এতো বড় ক্ষতি করল। অপরিচিত বলে শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেলেও সে জায়গা ও দুর্বৃত্তদের চিনতে পারিনি। বারবার হাতে পায়ে ধরেও তারা আমার স্ত্রীকে ফেরত দেয়নি। বেড়াতে এসেছিলাম বেতন পাওয়ার খুশিতে। খুশিটা আর রইলো না। এখন স্ত্রীর অবস্থা ভালো না তাকে নিয়ে চিন্তায় আছি।’

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে স্বামী-সন্তান ও গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি শোনার পর থেকেই ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব। এখন পর্যন্ত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে আমরা শনাক্ত করেছি। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।