ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী সীমান্তে বিজিবি এখন সাহস ফিরে পেয়েছে: রাশেদ খান জনবান্ধব নয় গরিবের ওপর চাপানো বাজেট:সংসদে রফিকুল ইসলাম খান বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ আটক যেপথে গেছেন শেখ হাসিনা, সেপথে যাবেন তারেক রহমান: মামুনুল হক চাঁদাবাজির সাজা এখন মুচলেকা: সংসদে জামায়াতের টিপ্পনি কক্সবাজার যাওয়ার পথে রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া শিশু ফিরে পেল পাকিস্তানি পরিবার ঢাকা-কুয়ালালামপুর কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় বদির অনুপস্থিতিতে মাদকের ‘দায়িত্বে’ কে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন গয়েশ্বর

ভোট না দেওয়ায় টিউবওয়েল তুলে নিয়ে গেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নীলফামারীর জলঢাকায় ভোট না দেওয়ায় গুচ্ছগ্রাম থেকে অনুদানের টিউবওয়েল তুলে নিয়ে গেছে নৌকা প্রতীকের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুল। তিনি রোববার বিকালে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত চৌকিদারদের পাঠিয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ২নং ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নেকবক্ত বাজার সংলগ্ন গুচ্ছগ্রামের দবির উদ্দিনের বাড়িতে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সদ্য চেয়ারম্যান নির্বাচিত মুকুলের সুপারিশে প্রায় ৮ মাস পূর্বে ওই অনুদানের টিউবওয়েলটি উপজেলা থেকে পেয়েছিলেন গুচ্ছগ্রামের মৃত আইন উদ্দিনের ছেলে দবির উদ্দিন। গত ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার নৌকায় ভোট না দিয়ে প্রতিপক্ষ লাঙ্গল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী রোকনুজ্জামান খোকনের পক্ষে নির্বাচন করায় গ্রাম পুলিশদের দিয়ে এই অমানবিক কাজটি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই এলাকায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন শেষ হতে না হতেই শপথ গ্রহণের আগে কিভাবে তিনি গ্রাম পুলিশদের ব্যবহার করে এমন অমানবিক কাজটি করতে পারেন?

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দবির উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমি দীর্ঘকাল ধরে মুকুল চেয়ারম্যান সমর্থক ছিলাম, তার গত নির্বাচনগুলোতে আমার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই আমার বাড়িতে টিউবওয়েল না থাকায় তার সুপারিশে পানি খাওয়ার জন্য এই টিউবওয়েলটি পেয়েছিলাম উপজেলা থেকে। গেল নির্বাচনের আগে তার আচরণ ভালো ছিল না সেজন্য আমি তার প্রতিপক্ষ রোকনুজ্জামান খোকনের লাঙ্গল মার্কায় ভোট করি। সে জন্য উনি আমার বাড়িতে ৩ জন গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে দিয়ে টিউবওয়েলটি তুলে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, টিউবওয়েলটি নিয়ে যাওয়ায় পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে এখন বিপাকে পরতে হলো।

এলাকার আতিয়ার রহমান জানায়, আমরা গরীব মানুষ, তাই বলে কি আমাদের নিয়ে যা খুশি তাই করবে ওরা? একজন চেয়ারম্যান মানুষের এমন স্বভাব মেনে নেওয়ার মতো না।

গ্রামপুলিশ রশিদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে টিউবওয়েলটি নিয়ে আসতে বলেছেন, তাই আমরা দবিরের বাড়ি থেকে টিউবওয়েল নিয়ে এসেছি।

সাইফুল ইসলাম মুকুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে এ টিউবওয়েল দিয়েছি, আমার ইচ্ছায় আবার নিয়ে এসেছি।

এ বিষয়ে ইউএনও মাহবুব হাসান বলেছেন, শুনেছি। তবে, অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী

ভোট না দেওয়ায় টিউবওয়েল তুলে নিয়ে গেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান!

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নীলফামারীর জলঢাকায় ভোট না দেওয়ায় গুচ্ছগ্রাম থেকে অনুদানের টিউবওয়েল তুলে নিয়ে গেছে নৌকা প্রতীকের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুল। তিনি রোববার বিকালে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত চৌকিদারদের পাঠিয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ২নং ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নেকবক্ত বাজার সংলগ্ন গুচ্ছগ্রামের দবির উদ্দিনের বাড়িতে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সদ্য চেয়ারম্যান নির্বাচিত মুকুলের সুপারিশে প্রায় ৮ মাস পূর্বে ওই অনুদানের টিউবওয়েলটি উপজেলা থেকে পেয়েছিলেন গুচ্ছগ্রামের মৃত আইন উদ্দিনের ছেলে দবির উদ্দিন। গত ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার নৌকায় ভোট না দিয়ে প্রতিপক্ষ লাঙ্গল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী রোকনুজ্জামান খোকনের পক্ষে নির্বাচন করায় গ্রাম পুলিশদের দিয়ে এই অমানবিক কাজটি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই এলাকায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন শেষ হতে না হতেই শপথ গ্রহণের আগে কিভাবে তিনি গ্রাম পুলিশদের ব্যবহার করে এমন অমানবিক কাজটি করতে পারেন?

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দবির উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমি দীর্ঘকাল ধরে মুকুল চেয়ারম্যান সমর্থক ছিলাম, তার গত নির্বাচনগুলোতে আমার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই আমার বাড়িতে টিউবওয়েল না থাকায় তার সুপারিশে পানি খাওয়ার জন্য এই টিউবওয়েলটি পেয়েছিলাম উপজেলা থেকে। গেল নির্বাচনের আগে তার আচরণ ভালো ছিল না সেজন্য আমি তার প্রতিপক্ষ রোকনুজ্জামান খোকনের লাঙ্গল মার্কায় ভোট করি। সে জন্য উনি আমার বাড়িতে ৩ জন গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে দিয়ে টিউবওয়েলটি তুলে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, টিউবওয়েলটি নিয়ে যাওয়ায় পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে এখন বিপাকে পরতে হলো।

এলাকার আতিয়ার রহমান জানায়, আমরা গরীব মানুষ, তাই বলে কি আমাদের নিয়ে যা খুশি তাই করবে ওরা? একজন চেয়ারম্যান মানুষের এমন স্বভাব মেনে নেওয়ার মতো না।

গ্রামপুলিশ রশিদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে টিউবওয়েলটি নিয়ে আসতে বলেছেন, তাই আমরা দবিরের বাড়ি থেকে টিউবওয়েল নিয়ে এসেছি।

সাইফুল ইসলাম মুকুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে এ টিউবওয়েল দিয়েছি, আমার ইচ্ছায় আবার নিয়ে এসেছি।

এ বিষয়ে ইউএনও মাহবুব হাসান বলেছেন, শুনেছি। তবে, অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।