ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ক্যাচ মিস আর বেহিসেবি বোলিংয়ে হতাশার হার টাইগারদের

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

১৭১ রানের শক্তিশালী স্কোর করেও জিততে পারল না বাংলাদেশ। সুপার-১২-র প্রথম ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়ল টাইগাররা। ১৭২ টার্গেট সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে ৭ বল বাকি থাকতে হাতে ৫ উইকেট নিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের জয়ে নায়ক চরিত আশালঙ্কা এবং ভানুকা রাজাপক্ষে। দু’জনের বিধ্বংসী ব্যাট থেকে বেরোল যথাক্রমে ৪৯ বলে ৮০ এবং ৩১ বলে ৫৩।

চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েও টাইগারদের ক্যাচ মিস আর বেহিসেবি বোলিংয়ের সুযোগে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় লঙ্কানরা।। ওপেনার লিটন দাসের কল্যাণে দুইবার ১৪ ও ২৩ রানে ক্যাচ তুলে দিয়ে লাইফ পাওয়া ভানুকা রাজাপক্ষ শেষ পর্যন্ত খেলেন ৩১ বলে ৫৩ রানের ঝড়ো ইনিংস। ১৪ রানে আফিফের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্রথমবার। আর ২৩ রানে মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে দ্বিতীয় দফায় লিটনের কল্যাণে লাইফ পান রাজাপক্ষ।

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস করায় ম্যাচে আর ফেরা হয়নি বাংলাদেশের। টাইগারদের এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে দাপটের সঙ্গেই ম্যাচ জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। রবিবার আরব আমিরাতের শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে মোহাম্মদ নাঈম ও মুশফিকুর রহিমের জোড়া ফিফটিতে ভর করে ৪ উইকেটে ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৭ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। দলের জয়ে ৪৯ বলে ৫টি চার ও ৫টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন চারিথ আসালঙ্কা। দুইবার লাইফ পেয়ে ৩১ বলে ৫৩ রান করে ফেরেন ভানুকা রাজাপক্ষ।

এদিন টস জিতে বাংলাদেশ দলকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনীতে মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফিরেন লিটন দাস। ৫.৫ ওভারে ১৬ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৬ রান করে ফেরেন এ ওপেনার। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৭ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১০ রান করে দলীয় ৫৬ রানে ফেরেন সাকিব। করুনারত্নের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এ অলরাউন্ডার।

এরপর নাঈমের সঙ্গে দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে তাড়া গড়েন ৭৩ রানের জুটি। ৫২ বলে ৬২ রান করে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। তার বিদায়ে ১৬.১ ওভারে ১২৯ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ইনিংসের শুরু থেকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া মুশফিকু রহিম ৩২ বলে চারটি বাউন্ডারি আর দুটি ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন। মুশফিকের ফিফটির পর রান আউট হয়ে ফেরেন আফিফ হোসেন। ১৮.৩ ওভারে ১৫০ রানে ফেরেন তিনি।

এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন মুশফিকুর রহিম। ৩৭ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৭ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন মুশফিক। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে ১৭১ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ দল। ১৭২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারাল শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের চতুর্থ বলে নাসুম আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন লঙ্কান তারকা ওপেনার কুশাল পেরেরা। দলীয় ২ রানে ফেরেন তিনি।

এরপর চারিথ আসালঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়েন পাথুম নিসাঙ্কা। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা নিসাঙ্কা ও আসালঙ্কার মধ্যকার জুটির বিচ্ছেদ ঘটান সাকিব আল হাসান। এই অফস্পিনারের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২১ বলে ২৪ রান করেন পাথুম নিসাঙ্কা।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন আভিস্কা ফার্নান্দো। তাকে রানের খাতা খুলতে দেননি সাকিব। সাকিবের পর লংকান শিবিরে আঘাত হানেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ওয়ানেন্দু হাসারঙ্গা ডি সিলভা। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ৯.৪ ওভারে ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলংকা। এরপর আফিফ হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান দুইবার ভানুকা রাজাপক্ষকে আউট করার সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু লিটন দাস দুইবার ক্যাচ ফেলে দেওয়ায় চারিথ আসালঙ্কা-রাজাপক্ষ দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে যান।

শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য ১০ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭ রান। খেলার এমন সময় নাসুম আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ভানুকা রাজাপক্ষ। তার আগে মাত্র ৩১ বলে তিন চার ও তিন ছক্কায় খেলেন ৫৩ রানের ঝড়ো ইনিংস। তার এমন নান্দনিক ইনিংসে ভর করেই জয় পায় শ্রীলঙ্কা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ক্যাচ মিস আর বেহিসেবি বোলিংয়ে হতাশার হার টাইগারদের

আপডেট সময় ০৭:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

১৭১ রানের শক্তিশালী স্কোর করেও জিততে পারল না বাংলাদেশ। সুপার-১২-র প্রথম ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়ল টাইগাররা। ১৭২ টার্গেট সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে ৭ বল বাকি থাকতে হাতে ৫ উইকেট নিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের জয়ে নায়ক চরিত আশালঙ্কা এবং ভানুকা রাজাপক্ষে। দু’জনের বিধ্বংসী ব্যাট থেকে বেরোল যথাক্রমে ৪৯ বলে ৮০ এবং ৩১ বলে ৫৩।

চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েও টাইগারদের ক্যাচ মিস আর বেহিসেবি বোলিংয়ের সুযোগে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় লঙ্কানরা।। ওপেনার লিটন দাসের কল্যাণে দুইবার ১৪ ও ২৩ রানে ক্যাচ তুলে দিয়ে লাইফ পাওয়া ভানুকা রাজাপক্ষ শেষ পর্যন্ত খেলেন ৩১ বলে ৫৩ রানের ঝড়ো ইনিংস। ১৪ রানে আফিফের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্রথমবার। আর ২৩ রানে মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে দ্বিতীয় দফায় লিটনের কল্যাণে লাইফ পান রাজাপক্ষ।

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস করায় ম্যাচে আর ফেরা হয়নি বাংলাদেশের। টাইগারদের এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে দাপটের সঙ্গেই ম্যাচ জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। রবিবার আরব আমিরাতের শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে মোহাম্মদ নাঈম ও মুশফিকুর রহিমের জোড়া ফিফটিতে ভর করে ৪ উইকেটে ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৭ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। দলের জয়ে ৪৯ বলে ৫টি চার ও ৫টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন চারিথ আসালঙ্কা। দুইবার লাইফ পেয়ে ৩১ বলে ৫৩ রান করে ফেরেন ভানুকা রাজাপক্ষ।

এদিন টস জিতে বাংলাদেশ দলকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনীতে মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফিরেন লিটন দাস। ৫.৫ ওভারে ১৬ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৬ রান করে ফেরেন এ ওপেনার। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৭ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১০ রান করে দলীয় ৫৬ রানে ফেরেন সাকিব। করুনারত্নের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এ অলরাউন্ডার।

এরপর নাঈমের সঙ্গে দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে তাড়া গড়েন ৭৩ রানের জুটি। ৫২ বলে ৬২ রান করে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। তার বিদায়ে ১৬.১ ওভারে ১২৯ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ইনিংসের শুরু থেকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া মুশফিকু রহিম ৩২ বলে চারটি বাউন্ডারি আর দুটি ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন। মুশফিকের ফিফটির পর রান আউট হয়ে ফেরেন আফিফ হোসেন। ১৮.৩ ওভারে ১৫০ রানে ফেরেন তিনি।

এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন মুশফিকুর রহিম। ৩৭ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৭ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন মুশফিক। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে ১৭১ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ দল। ১৭২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারাল শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের চতুর্থ বলে নাসুম আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন লঙ্কান তারকা ওপেনার কুশাল পেরেরা। দলীয় ২ রানে ফেরেন তিনি।

এরপর চারিথ আসালঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়েন পাথুম নিসাঙ্কা। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা নিসাঙ্কা ও আসালঙ্কার মধ্যকার জুটির বিচ্ছেদ ঘটান সাকিব আল হাসান। এই অফস্পিনারের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২১ বলে ২৪ রান করেন পাথুম নিসাঙ্কা।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন আভিস্কা ফার্নান্দো। তাকে রানের খাতা খুলতে দেননি সাকিব। সাকিবের পর লংকান শিবিরে আঘাত হানেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ওয়ানেন্দু হাসারঙ্গা ডি সিলভা। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ৯.৪ ওভারে ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলংকা। এরপর আফিফ হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান দুইবার ভানুকা রাজাপক্ষকে আউট করার সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু লিটন দাস দুইবার ক্যাচ ফেলে দেওয়ায় চারিথ আসালঙ্কা-রাজাপক্ষ দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে যান।

শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য ১০ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭ রান। খেলার এমন সময় নাসুম আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ভানুকা রাজাপক্ষ। তার আগে মাত্র ৩১ বলে তিন চার ও তিন ছক্কায় খেলেন ৫৩ রানের ঝড়ো ইনিংস। তার এমন নান্দনিক ইনিংসে ভর করেই জয় পায় শ্রীলঙ্কা।