ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বঙ্গবন্ধুর খুনিকে সংসদে এনে বসান খালেদা: প্রধানমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

১৫ আগস্টের খুনিদের জিয়াউর রহমান দায়মুক্তি দিয়ে, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরির মাধ্যমে পুরস্কৃত করেছিলেন। আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া আরও একধাপ উপরে গিয়ে জনগণের সংসদে একজন খুনিকে এনে বসান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাংসদ আলী আশরাফের ওপর আনীত শোক প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটা নির্বাচন হয়। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনটা করেছিল। যাতে সকল রাজনৈতিক দল বয়কট করেছিল। অর্থাৎ ভোটারবিহীন নির্বাচন, সারাদেশে সেনাবাহিনী নামিয়ে দিয়ে, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে নির্বাচনটা করা হয়। সেই নির্বাচনে কর্নেল রশিদকে কুমিল্লার চান্দিনা থেকে নির্বাচিত করে সংসদে নিয়ে আসে। এবং বিরোধী দলের নেতার আসনে বসিয়েছিল। আরেকজন হলো চুয়াডাঙ্গা থেকে কর্নেল (বজলুল) হুদাকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, তিনি (আলী আশরাফ) যে এলাকা থেকে নির্বাচন করতেন, এই চান্দিনা এলাকা, যেখানে জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি কর্নেল রশিদের বাড়ি। তার পাশেই খন্দকার মোশতাকের। পরবর্তী সময়ে ওই আসনে আবার জনগণের ভোটে আলী আশরাফই বিজয়ী হয়েছিলেন।’

অধ্যাপক আলী আশরাফ সবসময় আদর্শ নিয়ে চলতেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি সবসময় ১৫ আগস্টের হত্যার বিরোধিতা করেছেন। ৩ নভেম্বর জেলহত্যার বিরোধিতা করেছেন এবং এই মামলার সাক্ষীও ছিলেন। আমরা একজন দক্ষ সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি। যিনি প্রবীণ সাংসদ হিসেবে নবীন সাংসদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়েছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আলী আশরাফ সমসাময়িক রাজনীতি, অর্থনীতি বিষয়ে ১৫টি বই লিখেছেন। এগুলো আগামী প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবে।’

আমরা অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে হারিয়েছি উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার পর আমি প্রতিনিয়ত খবর নিয়েছি। আশা ছিল বেঁচে ফিরে আসবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য অনেক চেষ্টা করেও তাকে আমরা ফিরিয়ে আনতে পারলাম না। না ফেরার দেশেই তিনি চলে গেছেন। এই সংসদের অনেক সদস্যকে আমরা হারিয়েছি। এটা সত্যিই দুঃখজনক।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মরহুম আলী আশরাফের মৃত্যুতে আনা শোকপ্রস্তাব সর্বসন্মতক্রমে গ্রহণ করা হয়। তার আগে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন।

পরে আলী আশরাফসহ মৃত্যুবরণকারীদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সাংসদ রুহুল আমিন মাদানী।

অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সরকারি দলের প্রবীণ সাংসদ মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুহম্মদ ফারুক খান, সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হক, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির সাংসদ মসিউর রহমান রাঙ্গা, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, বিকল্প ধারার আব্দুল মান্নান, গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মো. মনসুর আহমেদ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বঙ্গবন্ধুর খুনিকে সংসদে এনে বসান খালেদা: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

১৫ আগস্টের খুনিদের জিয়াউর রহমান দায়মুক্তি দিয়ে, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরির মাধ্যমে পুরস্কৃত করেছিলেন। আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া আরও একধাপ উপরে গিয়ে জনগণের সংসদে একজন খুনিকে এনে বসান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাংসদ আলী আশরাফের ওপর আনীত শোক প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটা নির্বাচন হয়। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনটা করেছিল। যাতে সকল রাজনৈতিক দল বয়কট করেছিল। অর্থাৎ ভোটারবিহীন নির্বাচন, সারাদেশে সেনাবাহিনী নামিয়ে দিয়ে, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে নির্বাচনটা করা হয়। সেই নির্বাচনে কর্নেল রশিদকে কুমিল্লার চান্দিনা থেকে নির্বাচিত করে সংসদে নিয়ে আসে। এবং বিরোধী দলের নেতার আসনে বসিয়েছিল। আরেকজন হলো চুয়াডাঙ্গা থেকে কর্নেল (বজলুল) হুদাকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, তিনি (আলী আশরাফ) যে এলাকা থেকে নির্বাচন করতেন, এই চান্দিনা এলাকা, যেখানে জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি কর্নেল রশিদের বাড়ি। তার পাশেই খন্দকার মোশতাকের। পরবর্তী সময়ে ওই আসনে আবার জনগণের ভোটে আলী আশরাফই বিজয়ী হয়েছিলেন।’

অধ্যাপক আলী আশরাফ সবসময় আদর্শ নিয়ে চলতেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি সবসময় ১৫ আগস্টের হত্যার বিরোধিতা করেছেন। ৩ নভেম্বর জেলহত্যার বিরোধিতা করেছেন এবং এই মামলার সাক্ষীও ছিলেন। আমরা একজন দক্ষ সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি। যিনি প্রবীণ সাংসদ হিসেবে নবীন সাংসদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়েছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আলী আশরাফ সমসাময়িক রাজনীতি, অর্থনীতি বিষয়ে ১৫টি বই লিখেছেন। এগুলো আগামী প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবে।’

আমরা অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে হারিয়েছি উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার পর আমি প্রতিনিয়ত খবর নিয়েছি। আশা ছিল বেঁচে ফিরে আসবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য অনেক চেষ্টা করেও তাকে আমরা ফিরিয়ে আনতে পারলাম না। না ফেরার দেশেই তিনি চলে গেছেন। এই সংসদের অনেক সদস্যকে আমরা হারিয়েছি। এটা সত্যিই দুঃখজনক।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মরহুম আলী আশরাফের মৃত্যুতে আনা শোকপ্রস্তাব সর্বসন্মতক্রমে গ্রহণ করা হয়। তার আগে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন।

পরে আলী আশরাফসহ মৃত্যুবরণকারীদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সাংসদ রুহুল আমিন মাদানী।

অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সরকারি দলের প্রবীণ সাংসদ মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুহম্মদ ফারুক খান, সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হক, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির সাংসদ মসিউর রহমান রাঙ্গা, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, বিকল্প ধারার আব্দুল মান্নান, গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মো. মনসুর আহমেদ।