ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সার্ক কার্যকর করতে বাংলাদেশ-নেপাল একমত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতার রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড:বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ৬.৫ টনের শক্তিশালী চুম্বকের সফল পরীক্ষা, বিশাল ‘সূর্য’ বানাচ্ছে চীন ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নতুন দাবানল নিয়ে শঙ্কায় ফ্রান্স নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কি মির্জা ফখরুলের জুতা টানার যোগ্যতা রাখে: রাশেদ খাঁন ইসিকে স্বাধীনভাবে চোখ কান খুলে দায়িত্ব পালন করতে বলেছি: গোলাম পরওয়ার মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী হত্যায় গাড়িচালকের মৃত্যুদণ্ড ‘ইরান ভেনেজুয়েলা নয়’, তেহরান-কারাকাস ঐতিহাসিক সম্পর্কে ফাটল সিআইডির নতুন প্রধান ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন

রোহিঙ্গাদের আরাকানে ফেরার কোনো উপায়ই রাখছে না মিয়ানমার: অ্যামনেস্টি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

অং সান সু চি জাতির ভাষণে এবং মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে দাবি করলেও রাখাইনে যে এখনও রোহিঙ্গাদের বাড়ি পোড়ানো হচ্ছে, তার প্রমাণ তুলে ধরেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশাল। স্থানীয়ভাবে পাওয়া ভিডিও এবং উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি শুক্রবার বলেছে, রোহিঙ্গারা ফিরলে যে থাকবে, সেই উপায়ও রাখছে না মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর আসতে থাকে। রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান নিয়ে সমালোচনার মুখে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চি বলেছিলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে সেনা অভিযান চলছে না।

দুদিন আগে জাতিসংঘে ভাষণে মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভান থিও বলেন, রাখাইনে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে। তাদের বক্তব্যের পর অ্যামনেস্টি শুক্রবার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, রাখাইনে এখনও যে বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে, তার অন্তত তিনটি ভিডিও পেয়েছেন তারা।

২২ সেপ্টেম্বরের উপগ্রহ চিত্রেও রোহিঙ্গা গ্রামে জ্বালিয়ে দেওয়া ঘর থেকে ওড়া ধোঁয়া চিহ্নিত করার কথাও জানায় মানবাধিকার সংস্থাটি। অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, এই প্রমাণ অং সান সু চির বক্তব্যের অসারতা তুলে ধরেছে।

“তিন সপ্তাহ পরেও আমরা দেখছি, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসান হয়নি। রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর, গ্রাম জ্বলছেই। মনে হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফেরার কোনো উপায়ই রাখা হচ্ছে না।”

রাখাইনে এই জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধে মিয়ানমারকে চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার ৪ লাখ রোহিঙ্গা গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বাংলাদেশে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সার্ক কার্যকর করতে বাংলাদেশ-নেপাল একমত

রোহিঙ্গাদের আরাকানে ফেরার কোনো উপায়ই রাখছে না মিয়ানমার: অ্যামনেস্টি

আপডেট সময় ১১:২২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

অং সান সু চি জাতির ভাষণে এবং মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে দাবি করলেও রাখাইনে যে এখনও রোহিঙ্গাদের বাড়ি পোড়ানো হচ্ছে, তার প্রমাণ তুলে ধরেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশাল। স্থানীয়ভাবে পাওয়া ভিডিও এবং উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি শুক্রবার বলেছে, রোহিঙ্গারা ফিরলে যে থাকবে, সেই উপায়ও রাখছে না মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর আসতে থাকে। রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান নিয়ে সমালোচনার মুখে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চি বলেছিলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে সেনা অভিযান চলছে না।

দুদিন আগে জাতিসংঘে ভাষণে মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভান থিও বলেন, রাখাইনে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে। তাদের বক্তব্যের পর অ্যামনেস্টি শুক্রবার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, রাখাইনে এখনও যে বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে, তার অন্তত তিনটি ভিডিও পেয়েছেন তারা।

২২ সেপ্টেম্বরের উপগ্রহ চিত্রেও রোহিঙ্গা গ্রামে জ্বালিয়ে দেওয়া ঘর থেকে ওড়া ধোঁয়া চিহ্নিত করার কথাও জানায় মানবাধিকার সংস্থাটি। অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, এই প্রমাণ অং সান সু চির বক্তব্যের অসারতা তুলে ধরেছে।

“তিন সপ্তাহ পরেও আমরা দেখছি, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসান হয়নি। রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর, গ্রাম জ্বলছেই। মনে হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফেরার কোনো উপায়ই রাখা হচ্ছে না।”

রাখাইনে এই জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধে মিয়ানমারকে চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার ৪ লাখ রোহিঙ্গা গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বাংলাদেশে।