ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০০ কোটি ডলার ঋণ নাকি অনুদান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন ‘এখানে খোঁচাখুঁচির কিছু নাই’ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে’ খুলে দেওয়া হচ্ছে: ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ একটি ‘ভুল’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন দাবি এমপি হানজালার টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের নিজেদের তৈরি দুর্যোগ: স্পিকার বাংলাদেশকে ২ কোটি ১৯ লাখ হাম-রুবেলার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২শ’ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এলাকার সড়কের জন্য ‘ভিক্ষা’ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ আত্মীয়ের কুলখানি শেষে ফিরছিলেন বাড়ি, পথে কাভার্ড ভ্যান কেড়ে নিল মা-ছেলের প্রাণ বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন

ঠাকুরগাঁওয়ে শিশু নির্যাতনকারী রমজান গ্রেফতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মাছ চুরির অপবাদে এক শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনে অভিযুক্ত রমজান আলীকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নির্যাতিত শিশু জুয়েল রানা (৯) ৮ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর সরকারপাড়া গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে। সে পূর্ব মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।

গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মল্লিকপুর তামলাই দিঘি পাড়ের পাশে জনৈক জহিরুল ইসলামের বাড়ির পাশে শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়।

নির্যাতিতি শিশুর বাবা মনির উদ্দিন জানান, বিনা কারণে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রমজান আলী আমার ছেলেকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মেরেছে। এমন একটি মাসুম শিশুকে কেউ এভাবে মারতে পারে? আমি এর সঠিক বিচার চাই। আমার ছেলে চুরি করেনি, রমজান মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে।

রমজান আলী অভিযোগের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি প্রায় প্রতিদিনই জাল দিয়ে মাছ ধরি। আর জুয়েল এসে আমার জাল থেকে, না বলেই মাছ নিয়ে চলে যায়। আমি তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি। সে নিষেধ শোনে না। সেদিন তাকে ধরে ইয়ার্কি করে বেঁধে বলেছি, তোকে এভাবে বেঁধে মারব। এ সময় তাকে দু-একটা বাড়ি দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। তাকে অনেক মারপিট করা হয়নি। পরিবারের লোকজন মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।

জুয়েলের বাবা মনির উদ্দিন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাছ চুরির অপবাদে জুয়েলকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করেন একই গ্রামের রমজান আলী বাসু। এই নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রমজান আলী বাসু বলেন, হাসি তামাশা করে তাকে বেঁধে দুইটা বাড়ি দিয়েছি। নির্যাতন করিনি।

পীরগঞ্জ থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় বলেন, জুয়েল বাসায় গিয়ে ভয়ে কাউকে বিষয়টি না জানিয়ে চুপ করে থাকে। রাতে পায়ের ব্যথায় ছটফট করলে বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারে পরিবারের লোকজন। আহত শিশু জুয়েলকে বাবা-মা পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পরদিন পায়ে অনেক ব্যথা থাকলেও ভয়ে বাসায় কিছু বলেনি শিশুটি। অবশেষে ব্যথায় থাকতে না পেরে সোমবার বন্ধুর মাধ্যমে বাবা-মাকে বিষয়টি জানায় সে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিশু জুয়েলকে তার পরিবার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়
বলে জানান পীরগঞ্জ থানার ওসি।

অভিযুক্ত আসামি রমজান আলীকে (৪৮) গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিশু নির্যাতনের এই ঘটনা নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। আইনজীবী এবং মানবাধিকারকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম বাংলানিউজকে বলেন, কোথাও আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা এবং সত্যি অপরাধ হলে মামলা দায়ের করা। এ ক্ষেত্রে এজাহার দায়েরের জন্য অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই। আর শিশু আইনে তো শিশু নির্যাতনকে গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছে। পুলিশ যদি শিশুটিকে নির্যাতনের সংবাদ পেয়েও এটি না করে থাকে তাহলে শিশু আইন, ফৌজদারি কার্যবিধির লঙ্ঘন করেছে। একইসঙ্গে সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারেরও এখানে লঙ্ঘন হয়েছে। উচ্চ আদালত বন্ধ না থাকলে আমরা বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে নিয়ে আসতাম। এর আগেও অনেকগুলি শিশু নির্যাতনের ঘটনা আমরা আদালতের নজরে এনেছি এবং প্রতিকার পেয়েছি৷ এ অবস্থায় মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে ঘটনা খোঁজ নিয়ে পুলিশকে মামলা দায়েরের নির্দেশ প্রদান করা এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা করা। সেই ক্ষমতা কমিশনের আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ঠাকুরগাঁওয়ে শিশু নির্যাতনকারী রমজান গ্রেফতার

আপডেট সময় ১২:১১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মাছ চুরির অপবাদে এক শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনে অভিযুক্ত রমজান আলীকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নির্যাতিত শিশু জুয়েল রানা (৯) ৮ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর সরকারপাড়া গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে। সে পূর্ব মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।

গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মল্লিকপুর তামলাই দিঘি পাড়ের পাশে জনৈক জহিরুল ইসলামের বাড়ির পাশে শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়।

নির্যাতিতি শিশুর বাবা মনির উদ্দিন জানান, বিনা কারণে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রমজান আলী আমার ছেলেকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মেরেছে। এমন একটি মাসুম শিশুকে কেউ এভাবে মারতে পারে? আমি এর সঠিক বিচার চাই। আমার ছেলে চুরি করেনি, রমজান মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে।

রমজান আলী অভিযোগের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি প্রায় প্রতিদিনই জাল দিয়ে মাছ ধরি। আর জুয়েল এসে আমার জাল থেকে, না বলেই মাছ নিয়ে চলে যায়। আমি তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি। সে নিষেধ শোনে না। সেদিন তাকে ধরে ইয়ার্কি করে বেঁধে বলেছি, তোকে এভাবে বেঁধে মারব। এ সময় তাকে দু-একটা বাড়ি দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। তাকে অনেক মারপিট করা হয়নি। পরিবারের লোকজন মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।

জুয়েলের বাবা মনির উদ্দিন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাছ চুরির অপবাদে জুয়েলকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করেন একই গ্রামের রমজান আলী বাসু। এই নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রমজান আলী বাসু বলেন, হাসি তামাশা করে তাকে বেঁধে দুইটা বাড়ি দিয়েছি। নির্যাতন করিনি।

পীরগঞ্জ থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় বলেন, জুয়েল বাসায় গিয়ে ভয়ে কাউকে বিষয়টি না জানিয়ে চুপ করে থাকে। রাতে পায়ের ব্যথায় ছটফট করলে বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারে পরিবারের লোকজন। আহত শিশু জুয়েলকে বাবা-মা পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পরদিন পায়ে অনেক ব্যথা থাকলেও ভয়ে বাসায় কিছু বলেনি শিশুটি। অবশেষে ব্যথায় থাকতে না পেরে সোমবার বন্ধুর মাধ্যমে বাবা-মাকে বিষয়টি জানায় সে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিশু জুয়েলকে তার পরিবার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়
বলে জানান পীরগঞ্জ থানার ওসি।

অভিযুক্ত আসামি রমজান আলীকে (৪৮) গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিশু নির্যাতনের এই ঘটনা নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। আইনজীবী এবং মানবাধিকারকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম বাংলানিউজকে বলেন, কোথাও আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা এবং সত্যি অপরাধ হলে মামলা দায়ের করা। এ ক্ষেত্রে এজাহার দায়েরের জন্য অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই। আর শিশু আইনে তো শিশু নির্যাতনকে গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছে। পুলিশ যদি শিশুটিকে নির্যাতনের সংবাদ পেয়েও এটি না করে থাকে তাহলে শিশু আইন, ফৌজদারি কার্যবিধির লঙ্ঘন করেছে। একইসঙ্গে সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারেরও এখানে লঙ্ঘন হয়েছে। উচ্চ আদালত বন্ধ না থাকলে আমরা বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে নিয়ে আসতাম। এর আগেও অনেকগুলি শিশু নির্যাতনের ঘটনা আমরা আদালতের নজরে এনেছি এবং প্রতিকার পেয়েছি৷ এ অবস্থায় মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে ঘটনা খোঁজ নিয়ে পুলিশকে মামলা দায়েরের নির্দেশ প্রদান করা এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা করা। সেই ক্ষমতা কমিশনের আছে।