ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জাতিসংঘ বলেছে যে, বিশ্ব সবই দেখছে। জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা মিয়ানমারকে অং সান সু চি ও অন্য কর্মকর্তাদের মুক্তি দেয়ার এবং সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী মানুষের প্রতি সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক উপ-হাইকমিশনার নাদা আল নাশিফ বলেন, ‘বিশ্ব সবই দেখছে। মিয়ানমারের প্রতিবাদী জনগণের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি কারো দৃষ্টির বাইরে থাকবে না।’ খবর আল জাজিরার।

শুক্রবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের জরুরি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। নাশিফ বলেন, ‘এটি পরিষ্কার যে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী কিংবা প্রাণঘাতী নয়- নির্বিচারে এমন কোনো অস্ত্র ব্যবহার গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

৪৭ সদস্যের জেনেভা ফোরাম বিনা ভোটে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। যদিও রাশিয়া ও চীন এই প্রস্তাবে একমত হয়নি। তবে মিয়ানমারের দূত বলেছেন যে ভোট ছাড়া এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীদের দ্বারা এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ওই প্রস্তাবে মিয়ানমারের ওপর শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, এই সপ্তাহে ফোরামে ফিরে আসার পর থেকে মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রথম মন্তব্যে জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্য দেশকেও তা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত তদন্তকারী অফিসার অ্যানড্রু টমাস জানিয়েছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত অবিলম্বে মিয়ানমারের উপরে আর্থিক, সামরিক এবং সফর সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা।

তার কথায়, ‘বিভিন্ন রিপোর্ট ও ছবি থেকে আমরা এই প্রমাণ পেয়েছি যে গত কয়েক দিনে বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনার নির্দেশে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োগ করেছে পুলিশ। যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এই পরিস্থিতিতে আমার প্রস্তাব, অবিলম্বে মিয়ানমারের সেনা কর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক।’ প্রায় একই বার্তা দিয়েছেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব। তিনিও জানিয়েছেন, সেনা অভ্যুত্থানের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাদের সরকার মিয়ানমারে সুষ্ঠু গণতন্ত্র ফেরানোর দাবি জানিয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। দেশটির রাজনৈতিক নেতা, সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের আটক করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছে সাধারণ মানুষ কিন্তু তাদের ওপর সামরিক বাহিনী হামলা চালাচ্ছে বলে খবর বের হয়েছে। এরপরই জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি এলো।

এর আগে নিউজিল্যান্ড মিয়ানমারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এছাড়া মিয়ানমারের সামরিক নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ১২:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জাতিসংঘ বলেছে যে, বিশ্ব সবই দেখছে। জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা মিয়ানমারকে অং সান সু চি ও অন্য কর্মকর্তাদের মুক্তি দেয়ার এবং সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী মানুষের প্রতি সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক উপ-হাইকমিশনার নাদা আল নাশিফ বলেন, ‘বিশ্ব সবই দেখছে। মিয়ানমারের প্রতিবাদী জনগণের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি কারো দৃষ্টির বাইরে থাকবে না।’ খবর আল জাজিরার।

শুক্রবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের জরুরি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। নাশিফ বলেন, ‘এটি পরিষ্কার যে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী কিংবা প্রাণঘাতী নয়- নির্বিচারে এমন কোনো অস্ত্র ব্যবহার গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

৪৭ সদস্যের জেনেভা ফোরাম বিনা ভোটে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। যদিও রাশিয়া ও চীন এই প্রস্তাবে একমত হয়নি। তবে মিয়ানমারের দূত বলেছেন যে ভোট ছাড়া এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীদের দ্বারা এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ওই প্রস্তাবে মিয়ানমারের ওপর শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, এই সপ্তাহে ফোরামে ফিরে আসার পর থেকে মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রথম মন্তব্যে জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্য দেশকেও তা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত তদন্তকারী অফিসার অ্যানড্রু টমাস জানিয়েছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত অবিলম্বে মিয়ানমারের উপরে আর্থিক, সামরিক এবং সফর সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা।

তার কথায়, ‘বিভিন্ন রিপোর্ট ও ছবি থেকে আমরা এই প্রমাণ পেয়েছি যে গত কয়েক দিনে বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনার নির্দেশে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োগ করেছে পুলিশ। যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এই পরিস্থিতিতে আমার প্রস্তাব, অবিলম্বে মিয়ানমারের সেনা কর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক।’ প্রায় একই বার্তা দিয়েছেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব। তিনিও জানিয়েছেন, সেনা অভ্যুত্থানের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাদের সরকার মিয়ানমারে সুষ্ঠু গণতন্ত্র ফেরানোর দাবি জানিয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। দেশটির রাজনৈতিক নেতা, সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের আটক করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছে সাধারণ মানুষ কিন্তু তাদের ওপর সামরিক বাহিনী হামলা চালাচ্ছে বলে খবর বের হয়েছে। এরপরই জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি এলো।

এর আগে নিউজিল্যান্ড মিয়ানমারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এছাড়া মিয়ানমারের সামরিক নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।