ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র হচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ বাংলাদেশের বাজারে চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য আড়তদার ও মজুতদারদের দায়ী করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাল নিয়ে চালবাজি বন্ধ করুন, ভালো হয়ে যান।

বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চালের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে সরকার। দুই দফা বন্যায় ফসলহানি, সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকা এবং পার্শবর্তী দেশ ভারত চাল রফতানি বন্ধ করার খবরে বাজারে দ্রুত দাম বাড়ছে।

আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা, বিদেশ থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করার পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের বাজার। এমনকি বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির জন্য বাকিতে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিয়েও কোনো সুফল মিলছে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চালের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে কোনো খাদ্য সংকট নেই। চালের দাম নিয়ে চালবাজি হচ্ছে, রাজনীতি হচ্ছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী রোববার থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হবে। চাল কেজিপ্রতি ১৫ টাকা ও আটা ১৭ টাকা দরে বিক্রি হবে। সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য মজুদ আছে বলেও তিনি দাবি করেন।

খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে দেশে এক কোটি মেট্রিক টনের ওপরে খাদ্য মজুদ আছে। এই চাল কৃষকদের ঘরে আছে, আড়তদার ও মজুতদারদের হাতে আছে। শিগগিরই আমাদের আরো আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল আসছে।

চালের মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শহিদুর রহমান বলেন, দেশে এ বছর ফলন কম ও সরকারি পর্যায়ে আমদানি কম হওয়ায় এবং ভারতে চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বাজারেও উর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক চাল আমদানি করে তা দ্রুত ভোক্তা পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি অস্থির থাকবে।

ওদিকে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে চালকল মালিকদের কারসাজি ও সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছে টাস্কফোর্স। চালের দাম বৃদ্ধির কারসাজিতে জড়িত থাকার দায়ে গত সোমবার টাস্কফোর্সের অভিযানে রশিদ এগ্রো ফুড ও অটো রাইচ মিলের মালিক এবং কেন্দ্রীয় চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদের প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আব্দুর রশিদের ১৩টি গোডাউনের মধ্যে একটিতেই ৪/৫ মাস আগে কেনা দুই লাখ টন ধানের সন্ধান মিলে। এছাড়া টাস্কফোর্সের অনুসন্ধানে রশিদের অন্যান্য গোডাউনেও মজুদকৃত ব্যাপক ধানের সন্ধান মিলেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র হচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:২৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ বাংলাদেশের বাজারে চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য আড়তদার ও মজুতদারদের দায়ী করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাল নিয়ে চালবাজি বন্ধ করুন, ভালো হয়ে যান।

বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চালের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে সরকার। দুই দফা বন্যায় ফসলহানি, সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকা এবং পার্শবর্তী দেশ ভারত চাল রফতানি বন্ধ করার খবরে বাজারে দ্রুত দাম বাড়ছে।

আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা, বিদেশ থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করার পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের বাজার। এমনকি বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির জন্য বাকিতে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিয়েও কোনো সুফল মিলছে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চালের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে কোনো খাদ্য সংকট নেই। চালের দাম নিয়ে চালবাজি হচ্ছে, রাজনীতি হচ্ছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী রোববার থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হবে। চাল কেজিপ্রতি ১৫ টাকা ও আটা ১৭ টাকা দরে বিক্রি হবে। সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য মজুদ আছে বলেও তিনি দাবি করেন।

খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে দেশে এক কোটি মেট্রিক টনের ওপরে খাদ্য মজুদ আছে। এই চাল কৃষকদের ঘরে আছে, আড়তদার ও মজুতদারদের হাতে আছে। শিগগিরই আমাদের আরো আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল আসছে।

চালের মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শহিদুর রহমান বলেন, দেশে এ বছর ফলন কম ও সরকারি পর্যায়ে আমদানি কম হওয়ায় এবং ভারতে চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বাজারেও উর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক চাল আমদানি করে তা দ্রুত ভোক্তা পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি অস্থির থাকবে।

ওদিকে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে চালকল মালিকদের কারসাজি ও সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছে টাস্কফোর্স। চালের দাম বৃদ্ধির কারসাজিতে জড়িত থাকার দায়ে গত সোমবার টাস্কফোর্সের অভিযানে রশিদ এগ্রো ফুড ও অটো রাইচ মিলের মালিক এবং কেন্দ্রীয় চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদের প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আব্দুর রশিদের ১৩টি গোডাউনের মধ্যে একটিতেই ৪/৫ মাস আগে কেনা দুই লাখ টন ধানের সন্ধান মিলে। এছাড়া টাস্কফোর্সের অনুসন্ধানে রশিদের অন্যান্য গোডাউনেও মজুদকৃত ব্যাপক ধানের সন্ধান মিলেছে।