ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনিশ্চিত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সেনাবাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করায় দেশটির সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে আলোচনা চলছিল তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে ওয়ার্কিং কমিটির যে বৈঠকের কথা ছিল তা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ৪ ফেব্রুয়ারি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তবে পররাষ্ট্র সচিব আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারে যারাই থাকুক, প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা আগের মতোই এগোবে। আগের পরিকল্পনা ধরেই সংকটের সমাধান চায় ঢাকা।’

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকটি আগেই নির্ধারণ ছিল। তবে বর্তমান পরিপেক্ষিতে বৈঠকটি এগিয়ে আনা হয়েছে। আমরা আমাদের জাতিসংঘে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে বলেছি, বৈঠকে সম্প্রতি ইস্যুটির প্রাধন্যে যেন রোহিঙ্গা ইস্যু চাপা পড়ে না যায়।’

মিয়ানমারে থাকা বাংলাদেশি কূটনীতিক ও অন্যান্যদের চলাচল এখনো নিয়ন্ত্রিত বলেও জানান মাসুদ বিন মোমেন।

অভ্যুত্থানের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পূর্ব নির্ধারিত আলোচনার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে মিয়ানমার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি চীনের উদ্যোগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করে বাংলাদেশ। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হওয়ার সিদ্ধান্তও হয়।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে পরের কয়েক মাসে গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে আসে। সবমিলিয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিভিন্ন সময় মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিলেও গত সাড়ে তিন বছরে নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি। সবশেষ চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আশ্বাস দিয়েছিল। যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষে প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে বলে আশা করছিল বাংলাদেশ। তবে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংকটে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনিশ্চিত

আপডেট সময় ০৮:১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সেনাবাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করায় দেশটির সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে আলোচনা চলছিল তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে ওয়ার্কিং কমিটির যে বৈঠকের কথা ছিল তা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ৪ ফেব্রুয়ারি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তবে পররাষ্ট্র সচিব আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারে যারাই থাকুক, প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা আগের মতোই এগোবে। আগের পরিকল্পনা ধরেই সংকটের সমাধান চায় ঢাকা।’

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকটি আগেই নির্ধারণ ছিল। তবে বর্তমান পরিপেক্ষিতে বৈঠকটি এগিয়ে আনা হয়েছে। আমরা আমাদের জাতিসংঘে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে বলেছি, বৈঠকে সম্প্রতি ইস্যুটির প্রাধন্যে যেন রোহিঙ্গা ইস্যু চাপা পড়ে না যায়।’

মিয়ানমারে থাকা বাংলাদেশি কূটনীতিক ও অন্যান্যদের চলাচল এখনো নিয়ন্ত্রিত বলেও জানান মাসুদ বিন মোমেন।

অভ্যুত্থানের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পূর্ব নির্ধারিত আলোচনার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে মিয়ানমার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি চীনের উদ্যোগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করে বাংলাদেশ। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হওয়ার সিদ্ধান্তও হয়।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে পরের কয়েক মাসে গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে আসে। সবমিলিয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিভিন্ন সময় মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিলেও গত সাড়ে তিন বছরে নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি। সবশেষ চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আশ্বাস দিয়েছিল। যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষে প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে বলে আশা করছিল বাংলাদেশ। তবে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংকটে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।