ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন যার ডাকে এতদিন আন্দোলন করেছি সেদিন তিনিই আমাকে তাড়িয়ে দিলেন: ইসহাক সরকার আগুন নিয়ে খেলবেন না: হিজবুল্লাহকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করলেন ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য রাশিয়া সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করবে: পুতিন ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প ভুল সংশোধনীর মাধ্যমে জোরদার হবে: অর্থমন্ত্রী হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জামায়াত কর্মীকে হত্যা সংসদে শক্ত প্রভাবের চেষ্টায় এনসিপি, দুর্বল জামায়াত: রুমিন ফারহানা আমেরিকা অপমানিত, ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: জার্মানি ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি চায় না শিক্ষার্থীরা : হুইপ বকুল

আইনি মোড় নিল টুইট-যুদ্ধ, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা বিজেপি নেতার

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

তথাগত রায় ও সায়নী ঘোষের টুইট-যুদ্ধ এবার আইনি মোড় নিল। টলি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা ত্রিপুরা এবং মেঘালয়ের সাবেক রাজ্যপাল। হিন্দুধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করার দায় এখন সায়নীর ঘাড়ে।

তথাগত রায় তার টুইটার প্রোফাইলে অভিযোগপত্রের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেই সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের টুইটার থেকে একটি গ্রাফিক শেয়ার হয়েছিল। একটি শিবলিঙ্গের ছবি। তাতে কন্ডোম পরাচ্ছেন এক নারী।

গ্রাফিক থেকে বোঝা যাচ্ছে, নারীকে এইডস সচেতনতার বিজ্ঞাপনের ম্যাসকট ‘বুলাদি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রাফিকের ভেতরে লেখা, ‘বুলাদির শিবরাত্রি’। পোস্টের ক্যাপশনে ছিল, ‘এর থেকে বেশি কার্যকরী হতে পারেন না ঈশ্বর’।

বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের অভিযোগ, হিন্দু ধর্মের পবিত্রতাকে নষ্ট করছেন সায়নী। শনিবার কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানায় সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগে মামলা করেছেন তিনি।

অভিযোগপত্রে লেখা, ‘আমি শিবের ভক্ত। ১৯৯৬ সালে শিবের পূজা দেওয়ার জন্য পায়ে হেঁটে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা করেছিলাম। অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের এই ছবিটি দেখে আমার ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হয়েছে। আমার আবেদন, আপনারা এই বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুন সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে।’

অভিযোগপত্রের ছবি শেয়ার করে তথাগত ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সায়নী ঘোষ, আপনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে গুয়াহাটি থেকে একজন ব্যক্তি আমায় জানিয়েছেন, তার ভাবাবেগও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনিও মামলা করবেন। আশা করি, পুলিশ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।’

তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সায়নী ঘোষ। নিজের টুইটার প্রোফাইল থেকে টুইট করে জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করার পর তিনি এই ছবিটি সরিয়ে ফেলেছিলেন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কখনো কারোর ধর্মকে তিনি আঘাত করতে চাননি।

তার ভাষায়, ‘আমি আগেই বলেছি যে ২০১৫ সালের টুইটটির বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম। যেই মুহূর্তে সেটিকে আমার নজরে আনা হয়, আমি সেটার তীব্র নিন্দা করে সবাইকে জানিয়ে ডিলিট করি…। তবে আজকের এই বিষয়টাকে কেন্দ্র করে যে বিদ্বেষের সম্মুখীন আমায় হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ জানান, ‘আইনি প্রক্রিয়া চলবে নিজের মতো। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব আমি। তবে তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। মানুষ সব বুঝতে পারছেন। তারাই বিচার করবেন।’

শুক্রবার সকাল থেকেই টুইটারে বাক-যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তথাগত রায় ও সায়নী ঘোষের মধ্যে। তার আগের দিন একটি বাংলা চ্যানেলে অতিথি বক্তা হিসেব উপস্থিত হয়েছিলেন সায়নী। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘যেভাবে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানটিকে রণধ্বনিতে পরিণত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভুল। উপরন্তু, এটি বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যেও পড়ে না। ঈশ্বরের নাম ভালোবেসে বলা উচিত।’

সায়নীর বিশ্বাস সাম্প্রতিক টুইট যুদ্ধেরই ফলাফল এটা। তাকে এই পথে হারানোর চেষ্টা করছেন তথাগত রায়। তিনি তার আগের বক্তব্যে অনড় বলেই জানান। তার কথায়, ‘এই সব কিছুর প্রতি আমার একটাই প্রতিক্রিয়া, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। এটাই মেনে চলব আমি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন

আইনি মোড় নিল টুইট-যুদ্ধ, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা বিজেপি নেতার

আপডেট সময় ১১:১০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

তথাগত রায় ও সায়নী ঘোষের টুইট-যুদ্ধ এবার আইনি মোড় নিল। টলি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা ত্রিপুরা এবং মেঘালয়ের সাবেক রাজ্যপাল। হিন্দুধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করার দায় এখন সায়নীর ঘাড়ে।

তথাগত রায় তার টুইটার প্রোফাইলে অভিযোগপত্রের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেই সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের টুইটার থেকে একটি গ্রাফিক শেয়ার হয়েছিল। একটি শিবলিঙ্গের ছবি। তাতে কন্ডোম পরাচ্ছেন এক নারী।

গ্রাফিক থেকে বোঝা যাচ্ছে, নারীকে এইডস সচেতনতার বিজ্ঞাপনের ম্যাসকট ‘বুলাদি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রাফিকের ভেতরে লেখা, ‘বুলাদির শিবরাত্রি’। পোস্টের ক্যাপশনে ছিল, ‘এর থেকে বেশি কার্যকরী হতে পারেন না ঈশ্বর’।

বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের অভিযোগ, হিন্দু ধর্মের পবিত্রতাকে নষ্ট করছেন সায়নী। শনিবার কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানায় সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগে মামলা করেছেন তিনি।

অভিযোগপত্রে লেখা, ‘আমি শিবের ভক্ত। ১৯৯৬ সালে শিবের পূজা দেওয়ার জন্য পায়ে হেঁটে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা করেছিলাম। অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের এই ছবিটি দেখে আমার ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হয়েছে। আমার আবেদন, আপনারা এই বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুন সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে।’

অভিযোগপত্রের ছবি শেয়ার করে তথাগত ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সায়নী ঘোষ, আপনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে গুয়াহাটি থেকে একজন ব্যক্তি আমায় জানিয়েছেন, তার ভাবাবেগও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনিও মামলা করবেন। আশা করি, পুলিশ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।’

তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সায়নী ঘোষ। নিজের টুইটার প্রোফাইল থেকে টুইট করে জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করার পর তিনি এই ছবিটি সরিয়ে ফেলেছিলেন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কখনো কারোর ধর্মকে তিনি আঘাত করতে চাননি।

তার ভাষায়, ‘আমি আগেই বলেছি যে ২০১৫ সালের টুইটটির বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম। যেই মুহূর্তে সেটিকে আমার নজরে আনা হয়, আমি সেটার তীব্র নিন্দা করে সবাইকে জানিয়ে ডিলিট করি…। তবে আজকের এই বিষয়টাকে কেন্দ্র করে যে বিদ্বেষের সম্মুখীন আমায় হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ জানান, ‘আইনি প্রক্রিয়া চলবে নিজের মতো। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব আমি। তবে তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। মানুষ সব বুঝতে পারছেন। তারাই বিচার করবেন।’

শুক্রবার সকাল থেকেই টুইটারে বাক-যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তথাগত রায় ও সায়নী ঘোষের মধ্যে। তার আগের দিন একটি বাংলা চ্যানেলে অতিথি বক্তা হিসেব উপস্থিত হয়েছিলেন সায়নী। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘যেভাবে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানটিকে রণধ্বনিতে পরিণত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভুল। উপরন্তু, এটি বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যেও পড়ে না। ঈশ্বরের নাম ভালোবেসে বলা উচিত।’

সায়নীর বিশ্বাস সাম্প্রতিক টুইট যুদ্ধেরই ফলাফল এটা। তাকে এই পথে হারানোর চেষ্টা করছেন তথাগত রায়। তিনি তার আগের বক্তব্যে অনড় বলেই জানান। তার কথায়, ‘এই সব কিছুর প্রতি আমার একটাই প্রতিক্রিয়া, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। এটাই মেনে চলব আমি।’