ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান

আইন প্রণেতারাই আইন ভাঙছেন: সুজন

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার এখতিয়ার সংসদ সদস্যদের নেই। এ নিয়ে মন্তব্য করে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই আইন ভঙ্গ করেছেন। এমপিদের ক্ষমতা সংবিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ। তাদের ক্ষমতা কখনোই সার্বভৌম নয়।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৫৩, ৬৩ ও ১৩৩ ধারা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট এবং বিচার বিভাগ নিয়ে মন্তব্য করা যায়না। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিও একটি আইন। কিন্তু সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে এমপিরা এই আইন ভঙ্গ করেছেন। বিচার বিভাগ নিয়ে এভাবে তারা কোন মন্তব্য করতে পারেননা। তিনি বলেন, বিচারক ও নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ নিয়ে এখনো কোন আইন হয়নি। এমপিরা কোন অপরাধ করলে এমপিরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননা। কোন এমপি অপরাধ করলে সংসদের সুনাম যদি ক্ষুন্ন হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যারা সংসদের মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুন্ন করছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। লেখক, গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আমরা সবসময়ই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলছি। কিন্তু এখন এই রাষ্ট্রের জন্য সবচে বেশি দরকার বিচার বিভাগের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ নিয়ে সমালোচনা ও কথা বার্তা হচ্ছে। এখন যা দরকার সেটি হলো এর সম্মান ও মর্যাদা যাতে ক্ষুন্ন না হয়। সৈয়দ আবুল মকসুদ আরো বলেন, কোন দেশের বিচার ব্যবস্থা সেই দেশের সামগ্রীক রাজনৈতিক অবস্থার বাইরে নয়। বিচার ব্যবস্থা দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার বাইরে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। তবে, সেটাই সবচেয়ে ভাল বিচার ব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের সবচেয়ে দূর্বল ব্যাক্তিটি সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাক্তির সঙ্গে ন্যায়বিচার পায়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, বিচার বিভাগে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা। দেশের মানুষের মানবাধিকার যদি ক্ষুন্ন হয়, তা দেখার দায়িত্ব উচ্চ আদালতের। এখন উচ্চ আদালতের যদি স্বাধীনতা না থাকে তাহলে আর কিছুই থাকেনা। তাই সবার আগে উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা প্রয়োজন। আপিল বিভাগের রায়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যদি সংসদ মনে করে থাকে সংবিধানের সংশোধনী আনবে, তাহলে সংশোধনী আনুক। আপনারা যদি আন্তরিক হোন তাহলে সংবিধানের আরেকটি সংশোধনী আনুন যে বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ড. আসিফ নজরুল বলেন, সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য হয়তো সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রয়োজন। কিন্তু আস্থা অনাস্থা আর বাজেট প্রণয়ন ছাড়া ৭০ অনুচ্ছেদ এর আর কোন প্রযোজন নেই-এমন একটি আইন আপনারা করুন।

সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের আলোচনার এখতিয়ার সংসদ সদস্যদের নেই। এ নিয়ে সংসদে যে আলোচনা হয়েছে তা করতে গিয়ে সাংসদেরা নিজেরাই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সাংসদেরা সেদিন কি আলোচনা করেছিলেন তা ইউটিউব থেকে ডাউনলোড করে সংসদ সদস্যদের দেখার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তাহলেই তারা উপলব্ধি করবেন যে তারা আসলে কি বলেছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শাহ আমানতে রান্নার সরঞ্জামে সোনা পাচার, আটক ১

আইন প্রণেতারাই আইন ভাঙছেন: সুজন

আপডেট সময় ০১:৪১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার এখতিয়ার সংসদ সদস্যদের নেই। এ নিয়ে মন্তব্য করে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই আইন ভঙ্গ করেছেন। এমপিদের ক্ষমতা সংবিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ। তাদের ক্ষমতা কখনোই সার্বভৌম নয়।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৫৩, ৬৩ ও ১৩৩ ধারা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট এবং বিচার বিভাগ নিয়ে মন্তব্য করা যায়না। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিও একটি আইন। কিন্তু সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে এমপিরা এই আইন ভঙ্গ করেছেন। বিচার বিভাগ নিয়ে এভাবে তারা কোন মন্তব্য করতে পারেননা। তিনি বলেন, বিচারক ও নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ নিয়ে এখনো কোন আইন হয়নি। এমপিরা কোন অপরাধ করলে এমপিরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননা। কোন এমপি অপরাধ করলে সংসদের সুনাম যদি ক্ষুন্ন হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যারা সংসদের মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুন্ন করছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। লেখক, গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আমরা সবসময়ই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলছি। কিন্তু এখন এই রাষ্ট্রের জন্য সবচে বেশি দরকার বিচার বিভাগের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ নিয়ে সমালোচনা ও কথা বার্তা হচ্ছে। এখন যা দরকার সেটি হলো এর সম্মান ও মর্যাদা যাতে ক্ষুন্ন না হয়। সৈয়দ আবুল মকসুদ আরো বলেন, কোন দেশের বিচার ব্যবস্থা সেই দেশের সামগ্রীক রাজনৈতিক অবস্থার বাইরে নয়। বিচার ব্যবস্থা দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার বাইরে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। তবে, সেটাই সবচেয়ে ভাল বিচার ব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের সবচেয়ে দূর্বল ব্যাক্তিটি সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাক্তির সঙ্গে ন্যায়বিচার পায়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, বিচার বিভাগে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা। দেশের মানুষের মানবাধিকার যদি ক্ষুন্ন হয়, তা দেখার দায়িত্ব উচ্চ আদালতের। এখন উচ্চ আদালতের যদি স্বাধীনতা না থাকে তাহলে আর কিছুই থাকেনা। তাই সবার আগে উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা প্রয়োজন। আপিল বিভাগের রায়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যদি সংসদ মনে করে থাকে সংবিধানের সংশোধনী আনবে, তাহলে সংশোধনী আনুক। আপনারা যদি আন্তরিক হোন তাহলে সংবিধানের আরেকটি সংশোধনী আনুন যে বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ড. আসিফ নজরুল বলেন, সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য হয়তো সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রয়োজন। কিন্তু আস্থা অনাস্থা আর বাজেট প্রণয়ন ছাড়া ৭০ অনুচ্ছেদ এর আর কোন প্রযোজন নেই-এমন একটি আইন আপনারা করুন।

সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের আলোচনার এখতিয়ার সংসদ সদস্যদের নেই। এ নিয়ে সংসদে যে আলোচনা হয়েছে তা করতে গিয়ে সাংসদেরা নিজেরাই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সাংসদেরা সেদিন কি আলোচনা করেছিলেন তা ইউটিউব থেকে ডাউনলোড করে সংসদ সদস্যদের দেখার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তাহলেই তারা উপলব্ধি করবেন যে তারা আসলে কি বলেছিলেন।