ঢাকা ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিদেশে পাচার হওয়া ৪১ কোটি টাকা ফেরত আনা হয়েছে: দুদক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মানিলন্ডারিংয়ের দুই মামলায় এখন পর্যন্ত বিদেশে পাচার হওয়া দুই ব্যক্তির প্রায় ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকা ফেরত আনা হয়েছে। এছাড়া দুই ব্যক্তির ইংল্যান্ডে থাকা ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯১ পাউন্ড এবং এক ব্যক্তির হংকংয়ে থাকা ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার আদালতের আদেশের মাধ্যমে ফ্রিজ করা হয়েছে।

অর্থ পাচার নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) হাইকোর্টে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদক ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধে ৪৭টি মামলায় আদালতে চার্জশিট দিয়েছে। অপরদিকে ৮৮টি মামলা তদন্ত করছে দুদক। এর মধ্যে বিভিন্ন মামলায় চার ব্যক্তির বিদেশে অর্থ/সম্পদ/ফ্রিজ/অবরুদ্ধ করা ও ফেরত আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৯ সালের কাফরুল থানার এক মামলায় পাচারকৃত প্রায় ২১ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এছাড়া একই সালে ক্যান্টনমেন্ট থানায় এক মামলায় গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা ফেরত এনে রাষ্ট্রের অনুকুলে জমা করা হয়েছে।

২০১৪ সালে রমনা থানার মামলায় ব্রিটেনে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আট লাখ আট হাজার ৫৩৮ পাউন্ড ফ্রিজ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে গুলশান থানার এক মামলায় মোরশেদ খানের ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালের ক্যান্টনমেন্ট থানার এক মামলায় গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের চার লাখ ১৮ হাজার ৮৫৩ পাউন্ড ফ্রিজ করা হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে গত ২২ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সব ধরনের তথ্য চেয়েছেন। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব, দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

আদালতে দুদক আইনজীবী বলেন, আমরা ২০২০ সাল পর্যন্ত ডাটা দিয়েছি। তখন আদালত বলেন, এগুলোতো আগে করছেন। …পুরাতন কাহিনী বলে তো লাভ নেই। তখন খুরশীদ আলম খান বলেন, আমরা লেটেস্ট যতগুলো করেছি সবগুলোর ডাটা দিয়েছি। আপনাদের সামনে দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেন, ২২ তারিখের পর (২২ নভেম্বর) কী করছেন?

তখন খুরশীদ আলম খান বলেন, ২২ তারিখের পর সমস্ত ডাটা যোগ করে প্রতিবেদন দিয়েছি। আদালত বলেন, কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? জবাবে খুরশীদ আলম বলেন, টিল টুডে আমরা কী করেছি, সেটা দিয়েছি।

এক পর্যায়ে আদালত বলেন, এরাতো দেশের মধ্যেই আছে। বাইরের তো কেউ নেই। এরপর আদালত টাকা পাচারকারীদের বিষয়ে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তথ্য জানাতে বলেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বিদেশে পাচার হওয়া ৪১ কোটি টাকা ফেরত আনা হয়েছে: দুদক

আপডেট সময় ০৮:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মানিলন্ডারিংয়ের দুই মামলায় এখন পর্যন্ত বিদেশে পাচার হওয়া দুই ব্যক্তির প্রায় ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকা ফেরত আনা হয়েছে। এছাড়া দুই ব্যক্তির ইংল্যান্ডে থাকা ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯১ পাউন্ড এবং এক ব্যক্তির হংকংয়ে থাকা ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার আদালতের আদেশের মাধ্যমে ফ্রিজ করা হয়েছে।

অর্থ পাচার নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) হাইকোর্টে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদক ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধে ৪৭টি মামলায় আদালতে চার্জশিট দিয়েছে। অপরদিকে ৮৮টি মামলা তদন্ত করছে দুদক। এর মধ্যে বিভিন্ন মামলায় চার ব্যক্তির বিদেশে অর্থ/সম্পদ/ফ্রিজ/অবরুদ্ধ করা ও ফেরত আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৯ সালের কাফরুল থানার এক মামলায় পাচারকৃত প্রায় ২১ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এছাড়া একই সালে ক্যান্টনমেন্ট থানায় এক মামলায় গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা ফেরত এনে রাষ্ট্রের অনুকুলে জমা করা হয়েছে।

২০১৪ সালে রমনা থানার মামলায় ব্রিটেনে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আট লাখ আট হাজার ৫৩৮ পাউন্ড ফ্রিজ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে গুলশান থানার এক মামলায় মোরশেদ খানের ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালের ক্যান্টনমেন্ট থানার এক মামলায় গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের চার লাখ ১৮ হাজার ৮৫৩ পাউন্ড ফ্রিজ করা হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে গত ২২ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সব ধরনের তথ্য চেয়েছেন। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব, দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

আদালতে দুদক আইনজীবী বলেন, আমরা ২০২০ সাল পর্যন্ত ডাটা দিয়েছি। তখন আদালত বলেন, এগুলোতো আগে করছেন। …পুরাতন কাহিনী বলে তো লাভ নেই। তখন খুরশীদ আলম খান বলেন, আমরা লেটেস্ট যতগুলো করেছি সবগুলোর ডাটা দিয়েছি। আপনাদের সামনে দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেন, ২২ তারিখের পর (২২ নভেম্বর) কী করছেন?

তখন খুরশীদ আলম খান বলেন, ২২ তারিখের পর সমস্ত ডাটা যোগ করে প্রতিবেদন দিয়েছি। আদালত বলেন, কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? জবাবে খুরশীদ আলম বলেন, টিল টুডে আমরা কী করেছি, সেটা দিয়েছি।

এক পর্যায়ে আদালত বলেন, এরাতো দেশের মধ্যেই আছে। বাইরের তো কেউ নেই। এরপর আদালত টাকা পাচারকারীদের বিষয়ে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তথ্য জানাতে বলেছেন।