ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আলমারির ড্রয়ারে মিলল শিশুর মরদেহ, সন্দেহভাজনকে গণপিটুনিতে হত্যা নতুন বিনিয়োগ আনতে ২৭ দেশে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি

মামুনুল-ফয়জুলের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙেন তারা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের বক্তব্য শুনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছেন মিঠুন ও নাহিদ।

পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে রোববার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-০৩ এর বিচারক দেলোয়ার হোসেনের আদালতে তারা দোষ স্বীকার করে এ জবানবন্দি দেন।

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর মামলার দুই আসামি মাদ্রাসাছাত্র আবু বক্কর ওরফে মিঠুন (১৯) ও সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদকে (২০) এর আগে রোববার দুপুর ২টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দি শেষে বিকেল সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এ নিয়ে এ মামলায় গ্রেফতারকৃত চার আসামি দু’দিনে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে মামলার প্রধান দুই আসামি মাদ্রাসাছাত্র আবু বক্কর ওরফে মিঠুন ও সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের কথা স্বীকার করেন। তারা মামুনুল হক ও ফয়জুলের বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের সিদ্ধান্ত নেন। ভাঙচুরের ঘটনার দুই/তিনদিন আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

তারা কুষ্টিয়ার জুগিয়া এলাকার মাদ্রাসা ইবনে মাসউদ (রা.) এর হেফজ বিভাগের ছাত্র।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা কুষ্টিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার জানান, শহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চারজনকে (মাদ্রাসার দুই ছাত্র ও দুই শিক্ষক) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) তৎসহ ৪২৭/৩৪ ধারায় মামলায় আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার (০৮ ডিসেম্বর) রিমান্ড শুনানি শেষে মাদ্রাসার দুই ছাত্রের পাঁচদিন এবং দুই শিক্ষকের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তাদের মধ্যে চারদিনের রিমান্ড শেষে শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেনের খাস কামরায় মাদ্রাসার দুই শিক্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা হলেন মিরপুর উপজেলার ধুবইল গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মো. আল আমীন (২৭) এবং পাবনা জেলার দিয়াড় বামুন্দি গ্রামের আজিজুল মণ্ডলের ছেলে মো. ইউসুফ আলী (২৭)।

রোববার (১৩ ডিসেম্বর) পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে দুপুরে দুই ছাত্রকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে দুর্বৃত্তরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভির ফুজেট সংগ্রহ করে পুলিশ। পরদিন শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে ও তাদের সহযোগী দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

মামুনুল-ফয়জুলের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙেন তারা

আপডেট সময় ০৮:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের বক্তব্য শুনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছেন মিঠুন ও নাহিদ।

পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে রোববার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-০৩ এর বিচারক দেলোয়ার হোসেনের আদালতে তারা দোষ স্বীকার করে এ জবানবন্দি দেন।

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর মামলার দুই আসামি মাদ্রাসাছাত্র আবু বক্কর ওরফে মিঠুন (১৯) ও সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদকে (২০) এর আগে রোববার দুপুর ২টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দি শেষে বিকেল সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এ নিয়ে এ মামলায় গ্রেফতারকৃত চার আসামি দু’দিনে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে মামলার প্রধান দুই আসামি মাদ্রাসাছাত্র আবু বক্কর ওরফে মিঠুন ও সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের কথা স্বীকার করেন। তারা মামুনুল হক ও ফয়জুলের বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের সিদ্ধান্ত নেন। ভাঙচুরের ঘটনার দুই/তিনদিন আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

তারা কুষ্টিয়ার জুগিয়া এলাকার মাদ্রাসা ইবনে মাসউদ (রা.) এর হেফজ বিভাগের ছাত্র।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা কুষ্টিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার জানান, শহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চারজনকে (মাদ্রাসার দুই ছাত্র ও দুই শিক্ষক) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) তৎসহ ৪২৭/৩৪ ধারায় মামলায় আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার (০৮ ডিসেম্বর) রিমান্ড শুনানি শেষে মাদ্রাসার দুই ছাত্রের পাঁচদিন এবং দুই শিক্ষকের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তাদের মধ্যে চারদিনের রিমান্ড শেষে শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেনের খাস কামরায় মাদ্রাসার দুই শিক্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা হলেন মিরপুর উপজেলার ধুবইল গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মো. আল আমীন (২৭) এবং পাবনা জেলার দিয়াড় বামুন্দি গ্রামের আজিজুল মণ্ডলের ছেলে মো. ইউসুফ আলী (২৭)।

রোববার (১৩ ডিসেম্বর) পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে দুপুরে দুই ছাত্রকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে দুর্বৃত্তরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভির ফুজেট সংগ্রহ করে পুলিশ। পরদিন শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে ও তাদের সহযোগী দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করে।