ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি তেল নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: জ্বালানি বিভাগ নৈতিক স্খলন প্রমাণিত, জামায়াতের এমপি নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার টাঙ্গাইলে পৃথক হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড ৪২ কর্মদিবসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পরীক্ষার ফল প্রকাশ বস্ত্র খাতের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের এমপির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মোংলায় মানববন্ধন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন শিক্ষা ও কারিগরি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও করিডোর নিয়ে চীন-বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রোহিঙ্গাদের ৬০ শতাংশ শিশু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের কক্সবাজরে আশ্রয় নেওয়া পৌনে চার লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে দুই লাখের বেশি শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘের এ সংস্থার শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান জ্যঁ লিবিকে উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এসব বলা হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই মানবিক সঙ্কট ক্রমশ বড় আকার ধারণ করছে। আর এই সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের মোট সংখ্যার ৬০ শতাংশই শিশু। এছাড়া মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ক্যাম্পে হামলার পর সেনা অভিযানের প্রেক্ষাপটে গত ২৫ অগাস্টের পর থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল চলছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ইতোমধ্যে দুই লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে তারা ধারণা করছেন।

ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে ইউনিসেফের সহায়তার জরুরি সামগ্রী কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জানিয়ে লিবি বলেন, বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ক্যাম্পগুলোতে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার। সেজন্য প্রাথমিকভাবে ৭৩ লাখ ডলার প্রয়োজন। এছাড়া প্রতিদিন যে সংখ্যায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে তা ‘নজিরবিহীন’। ৪ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেবল ছয় দিনেই দুই লাখ ২০ হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় পাওয়া বিপুল সংখ্যক শিশু বহুদিন ঠিকমত ঘুমাতে পারেনি। তারা ক্ষুধার্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ছে। রাখাইন থেকে দীর্ঘ দুর্গম পথ পেরিয়ে আসতে গিয়ে তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখনই তাদের চিকিৎসা প্রয়োজন। এছাড়া এই শিশুরা এখনও ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা প্রয়োজন, সেই সঙ্গে প্রয়োজন মানসিক সহায়তা। আমরা দেখেছি, ক্যাম্পগুলোতে অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। বাংলাদেশে আসার পথেই অনেক মা সন্তান প্রসব করেছেন।

তিনি আরো বলেন, তারা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন সেইসব শিশুদের নিয়ে, যারা পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এরকম ১ হাজার ১২৮ জন শিশুকে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো শনাক্ত করতে পেরেছে এবং আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে। এছাড়া এ পরিস্থিতিতে দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা শিশুর জন্য জরুরি সহায়তা প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরগুলো প্রতিদিনই বড় হচ্ছে এবং সেখানে সুপেয় পানি ও পয়নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি তেল নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: জ্বালানি বিভাগ

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রোহিঙ্গাদের ৬০ শতাংশ শিশু

আপডেট সময় ০৯:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের কক্সবাজরে আশ্রয় নেওয়া পৌনে চার লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে দুই লাখের বেশি শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘের এ সংস্থার শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান জ্যঁ লিবিকে উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এসব বলা হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই মানবিক সঙ্কট ক্রমশ বড় আকার ধারণ করছে। আর এই সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের মোট সংখ্যার ৬০ শতাংশই শিশু। এছাড়া মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ক্যাম্পে হামলার পর সেনা অভিযানের প্রেক্ষাপটে গত ২৫ অগাস্টের পর থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল চলছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ইতোমধ্যে দুই লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে তারা ধারণা করছেন।

ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে ইউনিসেফের সহায়তার জরুরি সামগ্রী কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জানিয়ে লিবি বলেন, বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ক্যাম্পগুলোতে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার। সেজন্য প্রাথমিকভাবে ৭৩ লাখ ডলার প্রয়োজন। এছাড়া প্রতিদিন যে সংখ্যায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে তা ‘নজিরবিহীন’। ৪ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেবল ছয় দিনেই দুই লাখ ২০ হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় পাওয়া বিপুল সংখ্যক শিশু বহুদিন ঠিকমত ঘুমাতে পারেনি। তারা ক্ষুধার্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ছে। রাখাইন থেকে দীর্ঘ দুর্গম পথ পেরিয়ে আসতে গিয়ে তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখনই তাদের চিকিৎসা প্রয়োজন। এছাড়া এই শিশুরা এখনও ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা প্রয়োজন, সেই সঙ্গে প্রয়োজন মানসিক সহায়তা। আমরা দেখেছি, ক্যাম্পগুলোতে অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। বাংলাদেশে আসার পথেই অনেক মা সন্তান প্রসব করেছেন।

তিনি আরো বলেন, তারা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন সেইসব শিশুদের নিয়ে, যারা পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এরকম ১ হাজার ১২৮ জন শিশুকে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো শনাক্ত করতে পেরেছে এবং আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে। এছাড়া এ পরিস্থিতিতে দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা শিশুর জন্য জরুরি সহায়তা প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরগুলো প্রতিদিনই বড় হচ্ছে এবং সেখানে সুপেয় পানি ও পয়নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।