ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নিজের নামে পদ্মা সেতুর নামকরণ চান না প্রধানমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দৈর্ঘ্যের দিক থেকে বিশ্বের ১১তম সেতু পদ্মা সেতুর নাম কী হবে তা নিয়েও মানুষের মধ্যে উৎসাহ রয়েছে। সেতুটির নাম কি পদ্মাসেতুই থাকছে নাকি কারো নামে নামকরণ করা হচ্ছে তা অনেকেই জানতে চান।

জোর দাবি রয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে এই সেতুর নামকরণের।

দেশের প্রধান নদী পদ্মার উপর দিয়ে হচ্ছে বহুল আলোচিত এবং প্রতীক্ষিত এই পদ্মা সেতু। সেতুর উপর দিয়ে চলাচল এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের উপর বসানো হয়েছে ৪১তম অর্থাৎ সর্বশেষ স্প্যানটি। পদ্মা নদীতে এখন দৃশ্যমান পদ্মাসেতুর ৬.১৫ কিলোমিটার। এর মধ্য দিয়ে প্রমত্তা পদ্মার সঙ্গে যুদ্ধ করে নদীগর্ভে পিলার স্থাপন এবং তার উপর স্প্যান বসানোর চ্যালেঞ্জিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর পর পরই মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে পদ্মা সেতু চালু হবে।

স্বপ্নের এই সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে টানা তিন মেয়াদের এই সরকারের প্রথম মেয়াদেই পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। সরকারের এই উদ্যোগ শুরুতেই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জর মুখে পড়ে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নেয়। এর পর বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হবে। নিজেদের টাকায় শুরু হয় পদ্ম সেতু বাস্তবায়নের কাজ। শেখ হাসিনার এই সাহসী ঘোষণা এবং বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রসংশিত হয়েছে।

সঙ্গত কারণেই শুরু থেকে পদ্মা সেতুর নামকরণ শেখ হাসিনার নামে করার দাবি ওঠে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন দিক থেকে এই দাবি তোলা হয়। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্যরা কথা বলেছেন এবং অনেকেই শেখ হাসিনার নামে নামকরণের দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের নামে সেতুর নামকরণ চান না বলে সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। তিনি পদ্মা নদীর নামেই সেতুর নাম চান।

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পদ্মা নদীর নামেই পদ্মা সেতু হবে। পরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, নদীর নাম অনুযায়ীই পদ্মা সেতুর নাম ‘পদ্মা সেতু’ থাকছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, সারা দেশের মানুষ চায় শেখ হাসিনার নামেই পদ্মা সেতুর নামকরণ করা হোক। কারণ, পদ্মা সেতু নিয়ে যত ষড়যন্ত্র হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাই মোকাবিলা করেছেন। এ কারণে দেশবাসী শেখ হাসিনার নামেই সেতুর নামকরণ চায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজে চান না। যেহেতু পদ্মা সেতু নিয়ে এত ষড়যন্ত্র হয়েছে তাই পদ্মার নামেই সেতুর নাম থাক সেটাই তিনি চান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

নিজের নামে পদ্মা সেতুর নামকরণ চান না প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দৈর্ঘ্যের দিক থেকে বিশ্বের ১১তম সেতু পদ্মা সেতুর নাম কী হবে তা নিয়েও মানুষের মধ্যে উৎসাহ রয়েছে। সেতুটির নাম কি পদ্মাসেতুই থাকছে নাকি কারো নামে নামকরণ করা হচ্ছে তা অনেকেই জানতে চান।

জোর দাবি রয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে এই সেতুর নামকরণের।

দেশের প্রধান নদী পদ্মার উপর দিয়ে হচ্ছে বহুল আলোচিত এবং প্রতীক্ষিত এই পদ্মা সেতু। সেতুর উপর দিয়ে চলাচল এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের উপর বসানো হয়েছে ৪১তম অর্থাৎ সর্বশেষ স্প্যানটি। পদ্মা নদীতে এখন দৃশ্যমান পদ্মাসেতুর ৬.১৫ কিলোমিটার। এর মধ্য দিয়ে প্রমত্তা পদ্মার সঙ্গে যুদ্ধ করে নদীগর্ভে পিলার স্থাপন এবং তার উপর স্প্যান বসানোর চ্যালেঞ্জিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর পর পরই মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে পদ্মা সেতু চালু হবে।

স্বপ্নের এই সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে টানা তিন মেয়াদের এই সরকারের প্রথম মেয়াদেই পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। সরকারের এই উদ্যোগ শুরুতেই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জর মুখে পড়ে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নেয়। এর পর বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হবে। নিজেদের টাকায় শুরু হয় পদ্ম সেতু বাস্তবায়নের কাজ। শেখ হাসিনার এই সাহসী ঘোষণা এবং বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রসংশিত হয়েছে।

সঙ্গত কারণেই শুরু থেকে পদ্মা সেতুর নামকরণ শেখ হাসিনার নামে করার দাবি ওঠে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন দিক থেকে এই দাবি তোলা হয়। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্যরা কথা বলেছেন এবং অনেকেই শেখ হাসিনার নামে নামকরণের দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের নামে সেতুর নামকরণ চান না বলে সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। তিনি পদ্মা নদীর নামেই সেতুর নাম চান।

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পদ্মা নদীর নামেই পদ্মা সেতু হবে। পরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, নদীর নাম অনুযায়ীই পদ্মা সেতুর নাম ‘পদ্মা সেতু’ থাকছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, সারা দেশের মানুষ চায় শেখ হাসিনার নামেই পদ্মা সেতুর নামকরণ করা হোক। কারণ, পদ্মা সেতু নিয়ে যত ষড়যন্ত্র হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাই মোকাবিলা করেছেন। এ কারণে দেশবাসী শেখ হাসিনার নামেই সেতুর নামকরণ চায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজে চান না। যেহেতু পদ্মা সেতু নিয়ে এত ষড়যন্ত্র হয়েছে তাই পদ্মার নামেই সেতুর নাম থাক সেটাই তিনি চান।