ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ওসিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ওসিসহ ১১ পুলিশ সদস্য ও পুলিশের কথিত ২ সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে পায়ে গুলি করার অভিযোগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ফেনীর আমলি আদালতে (ছাগলনাইয়া) এ মামলা করা হয়।

মামলার বাদীর নাম গিয়াস উদ্দিন। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পূর্ব পাঠানগড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একজন পিকআপ ভ্যানের চালক।

পরে বিচারক কামরুল হাসান ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং ফেনীর পুলিশ সুপারকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মোর্শেদ, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, খোরশেদ আলম; সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ফিরোজ আলম, মাহবুব আলম সরকার; সাবেক কনস্টেবল সুকান্ত বড়ুয়া, মো. নুরুল আমিন, মো. মাঈন উদ্দিন, মো. নুরুল করিম, মো. সিরাজুল ইসলাম এবং পুলিশের কথিত সোর্স ছাগলনাইয়া উপজেলার এলনাপাথর গ্রামের আবুল হাসেম ও আবুল খায়ের।

বাদী অভিযোগ করেন, ছাগলনাইয়ার এলনাপাথর গ্রামের আবুল হাসেম ও আবুল খায়ের বাদীকে নানা সময় মাদক ব্যবসা করার জন্য বলেন। কিন্ত তিনি রাজি হননি। ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকেলে তিনি ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ এলাকায় মাটি বহনের কাজ করছিলেন। এ সময় ছাগলনাইয়া থানার তৎকালীন ওসির বরাত দিয়ে আবুল হাসেম ও আবুল খায়ের তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে পাশের একটি ইটভাটায় নিয়ে যান তাঁরা। সেখান থেকে চোখ বেঁধে রাতে তাঁকে উপজেলার শুভপুর-চম্পকনগর রাস্তার পাশে নিয়ে জমিতে শুইয়ে তাঁকে আসামিরা পিটিয়ে আহত করেন।

বাদী আরও অভিযোগ করেন, শুভপুর-চম্পকনগর রাস্তার পাশে ছাগলনাইয়া থানার ওসি শটগান নিয়ে পিকআপ ভ্যানের চালক গিয়াস উদ্দিনের দুই পায়ের ঊরুতে গুলি করেন। এরপর তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির তিন দিন পর অস্ত্রোপচার করে তার ডান পা কেটে ফেলা হয়। ওই সময় ছাগলনাইয়া থানা–পুলিশ তার কাছ থেকে ১ হাজার ৪০০টি ইয়াবা পাওয়ার কথা বলে তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ১ নভেম্বর ওই মামলার খবর নিতে তিনি ফেনী জজ আদালতে যান। এ সময় মামলার ১২ নম্বর আসামি আবুল হাসেম তাকে গালমন্দ ও পুলিশকে দিয়ে ক্রসফায়ার করার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ওসি এম এম মোর্শেদ বলেন, গিয়াস উদ্দিন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শুভপুর এলাকায় ঘটনার দিন রাতে মাদক ব্যবসায়ীরা একত্র হয়েছিলেন। খবর পেয়ে সেখানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে গিয়াস উদ্দিন আহত হন। তার কাছে ১ হাজার ৪০০টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। সাবেক ওসি দাবি করেন, পুলিশের বিরুদ্ধে গিয়াস উদ্দিনের করা মামলাটি বানোয়াট। উল্টো তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদকের মামলার তদন্তে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ওসিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ১০:১০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ওসিসহ ১১ পুলিশ সদস্য ও পুলিশের কথিত ২ সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে পায়ে গুলি করার অভিযোগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ফেনীর আমলি আদালতে (ছাগলনাইয়া) এ মামলা করা হয়।

মামলার বাদীর নাম গিয়াস উদ্দিন। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পূর্ব পাঠানগড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একজন পিকআপ ভ্যানের চালক।

পরে বিচারক কামরুল হাসান ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং ফেনীর পুলিশ সুপারকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মোর্শেদ, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, খোরশেদ আলম; সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ফিরোজ আলম, মাহবুব আলম সরকার; সাবেক কনস্টেবল সুকান্ত বড়ুয়া, মো. নুরুল আমিন, মো. মাঈন উদ্দিন, মো. নুরুল করিম, মো. সিরাজুল ইসলাম এবং পুলিশের কথিত সোর্স ছাগলনাইয়া উপজেলার এলনাপাথর গ্রামের আবুল হাসেম ও আবুল খায়ের।

বাদী অভিযোগ করেন, ছাগলনাইয়ার এলনাপাথর গ্রামের আবুল হাসেম ও আবুল খায়ের বাদীকে নানা সময় মাদক ব্যবসা করার জন্য বলেন। কিন্ত তিনি রাজি হননি। ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকেলে তিনি ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ এলাকায় মাটি বহনের কাজ করছিলেন। এ সময় ছাগলনাইয়া থানার তৎকালীন ওসির বরাত দিয়ে আবুল হাসেম ও আবুল খায়ের তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে পাশের একটি ইটভাটায় নিয়ে যান তাঁরা। সেখান থেকে চোখ বেঁধে রাতে তাঁকে উপজেলার শুভপুর-চম্পকনগর রাস্তার পাশে নিয়ে জমিতে শুইয়ে তাঁকে আসামিরা পিটিয়ে আহত করেন।

বাদী আরও অভিযোগ করেন, শুভপুর-চম্পকনগর রাস্তার পাশে ছাগলনাইয়া থানার ওসি শটগান নিয়ে পিকআপ ভ্যানের চালক গিয়াস উদ্দিনের দুই পায়ের ঊরুতে গুলি করেন। এরপর তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির তিন দিন পর অস্ত্রোপচার করে তার ডান পা কেটে ফেলা হয়। ওই সময় ছাগলনাইয়া থানা–পুলিশ তার কাছ থেকে ১ হাজার ৪০০টি ইয়াবা পাওয়ার কথা বলে তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ১ নভেম্বর ওই মামলার খবর নিতে তিনি ফেনী জজ আদালতে যান। এ সময় মামলার ১২ নম্বর আসামি আবুল হাসেম তাকে গালমন্দ ও পুলিশকে দিয়ে ক্রসফায়ার করার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ওসি এম এম মোর্শেদ বলেন, গিয়াস উদ্দিন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শুভপুর এলাকায় ঘটনার দিন রাতে মাদক ব্যবসায়ীরা একত্র হয়েছিলেন। খবর পেয়ে সেখানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে গিয়াস উদ্দিন আহত হন। তার কাছে ১ হাজার ৪০০টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। সাবেক ওসি দাবি করেন, পুলিশের বিরুদ্ধে গিয়াস উদ্দিনের করা মামলাটি বানোয়াট। উল্টো তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদকের মামলার তদন্তে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।