ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

দুস্থদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন, বিত্তবানদের প্রধানমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শুধু নিজে আরাম-আয়েশে থাকার চিন্তাটা বাদ দিয়ে সমাজের দুস্থ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের উন্নয়নে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দারিদ্র্য থাকবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ‘মুজিববর্ষে গৃহহীন মানুষকে সরকারের সচিবগণের গৃহ উপহার’ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের ৮০ জন সিনিয়র সচিব/সচিব নিজ নিজ এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে ১৬০টি গৃহহীন, ভূমিহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করেন। এ অনুষ্ঠান থেকে সচিবদের নির্মিত ঘরের চাবি দুস্থ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সচিবদের গৃহনির্মাণ কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিত্তশালীরা এভাবে তার নিজ নিজ এলাকায় প্রত্যেকেই যদি অন্তত কিছু দুস্থ পরিবারের দিকে ফিরে তাকায়; ঘর নাই তো ঘর করে দিল, তাদের কিছু কাজের ব্যবস্থা করে দিল, তাদের সহযোগিতা করলো।

শেখ হাসিনা বলেন, শুধু নিজে ভালো থাকবো, নিজে সুন্দর থাকবো, নিজে আরাম আয়েশে থাকবো আর আমার দেশের মানুষ, আমার এলাকার মানুষ তারা কষ্টে থাকবে- এটা তো মানবতা না, এটা তো হয় না।

বিত্তবানদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের কাছে আমার এটা অনুরোধ থাকবে, আপনারা যার যার নিজ নিজ স্কুলে যেখানে পড়াশোনা করেছেন সেই স্কুলগুলোর উন্নয়নের জন্য কাজ করেন। আপনি যে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন সেই গ্রামে যে কয়টা মানুষকে পারেন সহযোগিতা করেন। সবাই মিলে সম্মিলিত কাজ করলে এ দেশে দারিদ্র্য থাকবে না।

জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সরকার দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করে যাচ্ছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা জাতির পিতাকে উদ্বৃত করে বলেন, জাতির পিতা বলেছেন, আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে। এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন।

দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্পের কথা আবারও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যদি একটু কিছু করে যেতে পারি মানুষের জন্য এটাই আমার জীবনের সার্থকতা। কী পেলাম, না পেলাম সেই চিন্তা আমি কখনো করি না। আমার চিন্তা একটাই কতটুকু আমি মানুষের জন্য করতে পারলাম, দেশের মানুষের জন্য করতে পারলাম, আপনাদের জন্য করতে পারলাম।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ভূমি নেই, জমি নেই এবং ভূমি আছে জমি নেই- এই দুই ক্যাটাগরিতে দেশে সর্বমোট ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি গৃহহীন পরিবার রয়েছে। ১৮ হাজার ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার সবাইকে ঘর নির্মাণ করে দেবে।

১৯৯৭ সালের অসহায় ও দুস্থ গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রকল্প শুরু করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গৃহ নির্মাণ কর্মসূচিতে আবারও গতি আসে। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

দুস্থদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন, বিত্তবানদের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:০২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

শুধু নিজে আরাম-আয়েশে থাকার চিন্তাটা বাদ দিয়ে সমাজের দুস্থ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের উন্নয়নে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দারিদ্র্য থাকবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ‘মুজিববর্ষে গৃহহীন মানুষকে সরকারের সচিবগণের গৃহ উপহার’ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের ৮০ জন সিনিয়র সচিব/সচিব নিজ নিজ এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে ১৬০টি গৃহহীন, ভূমিহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করেন। এ অনুষ্ঠান থেকে সচিবদের নির্মিত ঘরের চাবি দুস্থ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সচিবদের গৃহনির্মাণ কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিত্তশালীরা এভাবে তার নিজ নিজ এলাকায় প্রত্যেকেই যদি অন্তত কিছু দুস্থ পরিবারের দিকে ফিরে তাকায়; ঘর নাই তো ঘর করে দিল, তাদের কিছু কাজের ব্যবস্থা করে দিল, তাদের সহযোগিতা করলো।

শেখ হাসিনা বলেন, শুধু নিজে ভালো থাকবো, নিজে সুন্দর থাকবো, নিজে আরাম আয়েশে থাকবো আর আমার দেশের মানুষ, আমার এলাকার মানুষ তারা কষ্টে থাকবে- এটা তো মানবতা না, এটা তো হয় না।

বিত্তবানদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের কাছে আমার এটা অনুরোধ থাকবে, আপনারা যার যার নিজ নিজ স্কুলে যেখানে পড়াশোনা করেছেন সেই স্কুলগুলোর উন্নয়নের জন্য কাজ করেন। আপনি যে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন সেই গ্রামে যে কয়টা মানুষকে পারেন সহযোগিতা করেন। সবাই মিলে সম্মিলিত কাজ করলে এ দেশে দারিদ্র্য থাকবে না।

জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সরকার দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করে যাচ্ছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা জাতির পিতাকে উদ্বৃত করে বলেন, জাতির পিতা বলেছেন, আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে। এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন।

দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্পের কথা আবারও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যদি একটু কিছু করে যেতে পারি মানুষের জন্য এটাই আমার জীবনের সার্থকতা। কী পেলাম, না পেলাম সেই চিন্তা আমি কখনো করি না। আমার চিন্তা একটাই কতটুকু আমি মানুষের জন্য করতে পারলাম, দেশের মানুষের জন্য করতে পারলাম, আপনাদের জন্য করতে পারলাম।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ভূমি নেই, জমি নেই এবং ভূমি আছে জমি নেই- এই দুই ক্যাটাগরিতে দেশে সর্বমোট ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি গৃহহীন পরিবার রয়েছে। ১৮ হাজার ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার সবাইকে ঘর নির্মাণ করে দেবে।

১৯৯৭ সালের অসহায় ও দুস্থ গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রকল্প শুরু করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গৃহ নির্মাণ কর্মসূচিতে আবারও গতি আসে। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে পুনর্বাসন করা হয়েছে।