ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারকে সমাজচ্যুত, সর্দারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগে বিশারাবাড়ীর গ্রাম্য সর্দার হেবজু মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর বাবা। গত শনিবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে তিনি এই অভিযোগ দায়ের করেন। কসবা থানায় করা অভিযোগ নং-১০৭৪।

উপজেলার বিশারবাড়ী মসজিদের ইমাম ওবায়দুল হক (৫০) এর নিকট এক মাদরাসা ছাত্রীকে কোরআন শিখতে দেওয়া হয়েছিল। ইমাম বিভিন্ন কৌশলে কুফুরি করে তার বাবা-মাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে ইমাম তাকে ফুসলিয়ে গর্ভপাতের ঔষধ খাওয়ায়। এতে তার মৃত বাচ্চা প্রসব হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদের ইমামকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে হেবজু মিয়া সর্দারসহ কয়েকজন সর্দার।

হেবজু সর্দারের নেতৃত্বে সালিশের মাধ্যমে সমাজচ্যুত করে একঘরে করা হয় ছাত্রীর পরিবারকে। ছাত্রীর বাবা এ ঘটনায় কসবা থানায় অভিযোগ দেন। পরে তিনি ন্যায় বিচারের আশায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে মামলা করলে আদালত পিবিআইকে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশনা দেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এদিকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ওবায়দুল্লাহকে গ্রেফতারসহ ও ছাত্রীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার নির্দেশদাতাকে গ্রেফতারের দাবিতে কসবা সচেতন নাগরিক সমাজ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা পরিষদ মানববন্ধন করে এবং পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি স্বাতী চৌধূরী জানান, সেই ছাত্রীর সকল প্রকার দায়িত্ব নিয়েছেন মহিলা পরিষদ। তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অধিকার কেউ রাখে না। এটা সম্পূর্ন সংবিধান বিরোধী। তাই সমাজচ্যুত করার নির্দেশদাতাকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, বিশারাবাড়ীর ধর্ষণ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার বিষয়ে হেবজু সর্দারের নামে অভিযোগ এসেছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারকে সমাজচ্যুত, সর্দারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:১৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগে বিশারাবাড়ীর গ্রাম্য সর্দার হেবজু মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর বাবা। গত শনিবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে তিনি এই অভিযোগ দায়ের করেন। কসবা থানায় করা অভিযোগ নং-১০৭৪।

উপজেলার বিশারবাড়ী মসজিদের ইমাম ওবায়দুল হক (৫০) এর নিকট এক মাদরাসা ছাত্রীকে কোরআন শিখতে দেওয়া হয়েছিল। ইমাম বিভিন্ন কৌশলে কুফুরি করে তার বাবা-মাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে ইমাম তাকে ফুসলিয়ে গর্ভপাতের ঔষধ খাওয়ায়। এতে তার মৃত বাচ্চা প্রসব হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদের ইমামকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে হেবজু মিয়া সর্দারসহ কয়েকজন সর্দার।

হেবজু সর্দারের নেতৃত্বে সালিশের মাধ্যমে সমাজচ্যুত করে একঘরে করা হয় ছাত্রীর পরিবারকে। ছাত্রীর বাবা এ ঘটনায় কসবা থানায় অভিযোগ দেন। পরে তিনি ন্যায় বিচারের আশায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে মামলা করলে আদালত পিবিআইকে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশনা দেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এদিকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ওবায়দুল্লাহকে গ্রেফতারসহ ও ছাত্রীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার নির্দেশদাতাকে গ্রেফতারের দাবিতে কসবা সচেতন নাগরিক সমাজ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা পরিষদ মানববন্ধন করে এবং পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি স্বাতী চৌধূরী জানান, সেই ছাত্রীর সকল প্রকার দায়িত্ব নিয়েছেন মহিলা পরিষদ। তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অধিকার কেউ রাখে না। এটা সম্পূর্ন সংবিধান বিরোধী। তাই সমাজচ্যুত করার নির্দেশদাতাকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, বিশারাবাড়ীর ধর্ষণ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার বিষয়ে হেবজু সর্দারের নামে অভিযোগ এসেছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।