ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয়তাবাদের কথা বলে একটি দল বিদেশি নাগরিকদের প্রার্থী করছে: আসিফ মাহমুদ দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক: প্রধান উপদেষ্টা আমেরিকা-ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায় জামায়াত: রেজাউল করিম ‘নির্বাচিত হলে এমপিদের পরিবারের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতিবছর দিতে হবে’:শফিকুর রহমান দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগকে দেখতে চায় না: খোকন যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি তারাই ধর্মের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিভাজন করতে চায় : সালাহউদ্দিন জবি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশ নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়তে পারে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভোটার মাইগ্রেশন অস্বাভাবিক: নজরুল ইসলাম

নির্বাচন কমিশন একটা ঠুঁটো জগন্নাথ: ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য এখন যে নির্বাচন কমিশন আছে, সেটা একটা ঠুঁটো জগন্নাথ। লজ্জা-শরম বলতে কিছু নাই।

ঢাকা শহরের পাশে ১০ শতাংশ ভোটও না, আমরা মনে করি ৫ শতাংশও পড়েনি। বলছে নির্বাচন সন্তুষ্ট হয়েছে। একটা মানুষের লজ্জা-শরম থাকে, এদের তাও নাই। তারা বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ’

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব মন্তব্য করেন।

‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি নির্বাচনে গেছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, কথাটাতো মিথ্যা বলেননি। নির্বাচনতো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে ২০১৪ সাল থেকেই। আপনারা ক্ষমতায় আসার পর সু-পরিকল্পিতভাবে দেশের মানুষ যাতে পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে না পারে সে ব্যবস্থা করেছেন। ১৫৪ জনকে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে ক্ষমতায় গেছেন। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন, পুলিশকে ব্যবহার করেছেন। মিডিয়াকে ব্যবহার করেছেন।

এই সরকারের অধীনে দেশ নিরাপদ নয়, দেশের মানুষ নিরাপদ নয় জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তার প্রমাণ মা-বোনেরা এখন নিরাপদে চলা-ফেরা করতে পারে না। বিনা-বিচারে হত্যা, এখানে তাদের মতের সঙ্গে যারা একমত নয়, তাদের গুম করে নেয় অথবা হত্যা করা হয়। যে পুলিশ মানুষের নিরাপত্তা দেবে সেই পুলিশ কক্সবাজারে সাবেক সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। সেখানের ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। মানুষ কোথায় যাবে। যাদের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া। তাদের দ্বারাই হত্যাকাণ্ড হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি আজ স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই পদত্যাগ করুন, অতীতের সব নির্বাচন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। এটাই একমাত্র সমাধান। কোভিড বলেন আর যাই বলেন নির্বাচিত সরকার ছাড়া কোনো সমস্যারই সমাধান হবে না।

যুব-তরুণ ছাত্র সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আসুন আমরা শপথ গ্রহণ করি। এদেশের জনগণের অধিকার ভোটের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। আজকে কেউ কথা বলতে পারবে না, কেউ লিখতে পারবে না। সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারেব না। এর চেয়ে বড় নির্যাতন নিপীড়ন ও স্বাধীনতা হরণ আর কি থাকতে পারে। এরা এখন সম্পূর্ণভাবে একটি কতৃত্ববাদী সরকারে পরিণত হয়েছে। এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। ভিন্নকথা বললেই মামলা। বাড়ির নারীরাও বাদ যায় না, তাদেরও মামলার শিকার হতে হয়। আমি সব দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাই, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট একদলীয় সরকাকে সরিয়ে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, মহানগর দক্ষিণের সহ সভাপতি ইউনুস মৃধা, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান, শামসুল হক শামসু, মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম নকি, কৃষক দল নেতা হাসান জাফির তুহিন, তাঁতী দল নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয়তাবাদের কথা বলে একটি দল বিদেশি নাগরিকদের প্রার্থী করছে: আসিফ মাহমুদ

নির্বাচন কমিশন একটা ঠুঁটো জগন্নাথ: ফখরুল

আপডেট সময় ০৩:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য এখন যে নির্বাচন কমিশন আছে, সেটা একটা ঠুঁটো জগন্নাথ। লজ্জা-শরম বলতে কিছু নাই।

ঢাকা শহরের পাশে ১০ শতাংশ ভোটও না, আমরা মনে করি ৫ শতাংশও পড়েনি। বলছে নির্বাচন সন্তুষ্ট হয়েছে। একটা মানুষের লজ্জা-শরম থাকে, এদের তাও নাই। তারা বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ’

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব মন্তব্য করেন।

‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি নির্বাচনে গেছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, কথাটাতো মিথ্যা বলেননি। নির্বাচনতো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে ২০১৪ সাল থেকেই। আপনারা ক্ষমতায় আসার পর সু-পরিকল্পিতভাবে দেশের মানুষ যাতে পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে না পারে সে ব্যবস্থা করেছেন। ১৫৪ জনকে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে ক্ষমতায় গেছেন। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন, পুলিশকে ব্যবহার করেছেন। মিডিয়াকে ব্যবহার করেছেন।

এই সরকারের অধীনে দেশ নিরাপদ নয়, দেশের মানুষ নিরাপদ নয় জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তার প্রমাণ মা-বোনেরা এখন নিরাপদে চলা-ফেরা করতে পারে না। বিনা-বিচারে হত্যা, এখানে তাদের মতের সঙ্গে যারা একমত নয়, তাদের গুম করে নেয় অথবা হত্যা করা হয়। যে পুলিশ মানুষের নিরাপত্তা দেবে সেই পুলিশ কক্সবাজারে সাবেক সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। সেখানের ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। মানুষ কোথায় যাবে। যাদের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া। তাদের দ্বারাই হত্যাকাণ্ড হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি আজ স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই পদত্যাগ করুন, অতীতের সব নির্বাচন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। এটাই একমাত্র সমাধান। কোভিড বলেন আর যাই বলেন নির্বাচিত সরকার ছাড়া কোনো সমস্যারই সমাধান হবে না।

যুব-তরুণ ছাত্র সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আসুন আমরা শপথ গ্রহণ করি। এদেশের জনগণের অধিকার ভোটের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। আজকে কেউ কথা বলতে পারবে না, কেউ লিখতে পারবে না। সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারেব না। এর চেয়ে বড় নির্যাতন নিপীড়ন ও স্বাধীনতা হরণ আর কি থাকতে পারে। এরা এখন সম্পূর্ণভাবে একটি কতৃত্ববাদী সরকারে পরিণত হয়েছে। এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। ভিন্নকথা বললেই মামলা। বাড়ির নারীরাও বাদ যায় না, তাদেরও মামলার শিকার হতে হয়। আমি সব দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাই, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট একদলীয় সরকাকে সরিয়ে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, মহানগর দক্ষিণের সহ সভাপতি ইউনুস মৃধা, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান, শামসুল হক শামসু, মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম নকি, কৃষক দল নেতা হাসান জাফির তুহিন, তাঁতী দল নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।