ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘আর্মেনিয়া পিছু না হটা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে আজারবাইজান’

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

দক্ষিণ ককেশাসের নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সম্প্রতি যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল তা দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং এ সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষ্মণ নেই।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট এলহাম আলিয়েভ এক টুইটবার্তায় বলেছেন, আর্মেনিয়ার সেনারা নাগোর্নো কারাবাখ অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নিলেই কেবল ওই দেশটির সঙ্গে তারা সংলাপে বসতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি এ অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য ইউরোপকে দায়ী করে ইউরোপের নীতিকে শান্তি বিরোধী হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট এলহাম দ্রুত যুদ্ধ অবসানে আর্মেনিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইউরোপীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা মিনস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মিনস্ক বর্তমানে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের এই কড়া বক্তব্যের পর আর্মেনিয়ার সেনারা আজারবাইজানের রাজধানীর উপকণ্ঠে বেশ কয়েকটি উপশহরে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে ওই এলাকার বাড়িঘর ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দু’পক্ষের গোলাবিনিময়ের মধ্যে পড়ে আজারবাইজানের অনেক বেসামরিক নাগরিকও আহত হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন সময় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সেনাদের মধ্যে যুদ্ধ চলছে যখন মিনস্ক গ্রুপসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য সংস্থা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় বসার জন্য আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ইরানও বেসামরিক মানুষ হতাহত ঠেকানোর জন্য যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজ এক বিবৃতিতে বিতর্কিত এলাকা নিয়ে সংকট সমাধানে সহায়তার জন্য তেহরানের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বলেছেন, আজারবাইজানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সেখান থেকে আর্মেনিয় সেনা প্রত্যাহার এবং আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ইরান প্রস্তাব তুলে ধরেছে যাতে যতদ্রুত সম্ভব যুদ্ধের অবসান ঘটে।

ইরানের মতো এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশও যেমন কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরঘিজিস্তান এমনকি তুর্কমেনিস্তানও যুদ্ধ বন্ধের জন্য দুদেশের প্রতিই আহ্বান জানিয়েছে। আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামরিক উপায়ে এ সংকটের সমাধান হবে না বরং রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান বেহেশতিপুর বলেছেন, যুদ্ধরত দুই দেশই ইরানের প্রতিবেশী। তাই একমাত্র সংঘাত অবসান ও সমঝোতা হলে ইরানের স্বার্থও রক্ষিত হবে।

মোটকথা বলা যায়, যুদ্ধ ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে এবং সামরিক উপায়ে এ সংকটের সমাধান হবে না বরং দ্বিপক্ষীয় কিংবা বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে যেভাবেই হোক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা না হলে নিঃসন্দেহে সংঘাত চলতে থাকলে বিদেশিরা এ অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপের সুযোগ পাবে যার পরিণতিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আরো বেশী বিবাদ তৈরি হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

‘আর্মেনিয়া পিছু না হটা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে আজারবাইজান’

আপডেট সময় ১০:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

দক্ষিণ ককেশাসের নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সম্প্রতি যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল তা দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং এ সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষ্মণ নেই।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট এলহাম আলিয়েভ এক টুইটবার্তায় বলেছেন, আর্মেনিয়ার সেনারা নাগোর্নো কারাবাখ অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নিলেই কেবল ওই দেশটির সঙ্গে তারা সংলাপে বসতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি এ অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য ইউরোপকে দায়ী করে ইউরোপের নীতিকে শান্তি বিরোধী হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট এলহাম দ্রুত যুদ্ধ অবসানে আর্মেনিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইউরোপীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা মিনস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মিনস্ক বর্তমানে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের এই কড়া বক্তব্যের পর আর্মেনিয়ার সেনারা আজারবাইজানের রাজধানীর উপকণ্ঠে বেশ কয়েকটি উপশহরে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে ওই এলাকার বাড়িঘর ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দু’পক্ষের গোলাবিনিময়ের মধ্যে পড়ে আজারবাইজানের অনেক বেসামরিক নাগরিকও আহত হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন সময় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সেনাদের মধ্যে যুদ্ধ চলছে যখন মিনস্ক গ্রুপসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য সংস্থা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় বসার জন্য আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ইরানও বেসামরিক মানুষ হতাহত ঠেকানোর জন্য যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজ এক বিবৃতিতে বিতর্কিত এলাকা নিয়ে সংকট সমাধানে সহায়তার জন্য তেহরানের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বলেছেন, আজারবাইজানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সেখান থেকে আর্মেনিয় সেনা প্রত্যাহার এবং আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ইরান প্রস্তাব তুলে ধরেছে যাতে যতদ্রুত সম্ভব যুদ্ধের অবসান ঘটে।

ইরানের মতো এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশও যেমন কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরঘিজিস্তান এমনকি তুর্কমেনিস্তানও যুদ্ধ বন্ধের জন্য দুদেশের প্রতিই আহ্বান জানিয়েছে। আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামরিক উপায়ে এ সংকটের সমাধান হবে না বরং রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান বেহেশতিপুর বলেছেন, যুদ্ধরত দুই দেশই ইরানের প্রতিবেশী। তাই একমাত্র সংঘাত অবসান ও সমঝোতা হলে ইরানের স্বার্থও রক্ষিত হবে।

মোটকথা বলা যায়, যুদ্ধ ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে এবং সামরিক উপায়ে এ সংকটের সমাধান হবে না বরং দ্বিপক্ষীয় কিংবা বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে যেভাবেই হোক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা না হলে নিঃসন্দেহে সংঘাত চলতে থাকলে বিদেশিরা এ অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপের সুযোগ পাবে যার পরিণতিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আরো বেশী বিবাদ তৈরি হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।