ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ইরান খুব ভালো থাকবে: ট্রাম্প উপজেলা পরিষদে কক্ষ বরাদ্দ পাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা, সংসদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মা হারা কন্যার বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি, আবেগাপ্লুত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কর্তন করে হাসপাতালে স্ত্রী সংসদে গাড়ি চাইলেন হাসনাত, জামায়াত আমির বললেন, ছোটদের ‘না’ বলতে নেই অনলাইন ভ্যাট রিটার্নে অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা : এনবিআর চেয়ারম্যান ৪ ঘণ্টা পর জামিন পেলেন বাচ্চাসহ কারাগারে পাঠানো সেই মহিলা লীগ নেত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

‘বাজে মুশফিকে’ আড়ালে ‘দুর্দান্ত মুশফিক’

অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

মাঝেমধ্যেই কাঠগড়ায় ওঠে তাঁর কিপিং। সহজ স্টাম্পিং হাতছাড়া করেন। হাতছাড়া হয় সহজ কিংবা কঠিন ক্যাচ। পায়ের জড়তায় অতিরিক্ত রান পেয়ে যায় প্রতিপক্ষ। ব্যাটিংয়ে অনেক প্রশংসা কুড়োলেও উইকেটকিপিং নিয়ে প্রায়ই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মুশফিকুর রহিমকে। আজ যেমন মিস করলেন ডেভিড ওয়ার্নারের স্টাম্পিং!

অস্ট্রেলীয় ওপেনার তখন ৭৩ রানে ব্যাট করছিলেন। ৫৭তম ওভারে মিরাজকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে এসেছেন ডাউন দ্য উইকেটে। বল নেমে গিয়েছিলেন বেশ নিচে। বল একটু নিচু হয়ে আসায় ব্যাটে পাননি। মুশফিকও উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে বলটা গ্লাভসে জমা করে স্টাম্প ভাঙতে পারেননি। ওয়ার্নার যতক্ষণে ক্রিজে ফিরেছেন, ঠিকমতো বলটা ধরতে পারলে তাঁকে তিনবার স্টাম্পিং করতে পারতেন মুশফিক।
গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নার ৮৮ রানে অপরাজিত। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২ উইকেটে ২২৫। এ কারণে বেশি করে চোখে বিঁধছে মুশফিকের এই অমার্জনীয় ভুল। অথচ এই মুশফিকই বাজপাখির ক্ষিপ্রতায় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে লুফে নিয়েছিলেন রেনশের ক্যাচ। সেই ছবিটাই শুধু নয়, পুরো সিরিজে দুর্দান্ত কিপিং করে চলা মুশফিক সেই প্রচেষ্টাগুলোকেও যেন ম্লান করে দিলেন। উইকেটকিপার মুশফিকের সেই পুরোনো ভূতটা ফিরে এসে আড়াল করে দিল উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত হয়ে দেখা দেওয়া মুশফিককে।

কিপিং নিয়ে মুশফিককে সবচেয়ে বড় ঝড়টা সামলাতে হয়েছে গত মার্চে শ্রীলঙ্কা সফরে। গল টেস্টে তিনি খেলেছিলেন শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে। বিকল্প হিসেবে ওই টেস্টে উইকেটকিপিং করেছেন লিটন দাস। কলম্বোয় শততম টেস্টের আগে লিটন চোটে পড়লে আবারও মুশফিক ফিরে পান তাঁর বিশ্বস্ত গ্লাভস। মুশফিক উইকেটকিপিং করবেন কি না, মৃদু গুঞ্জন ছিল এবার অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগেও। টেস্ট অধিনায়কের চোট না থাকলেও হোম সিরিজে স্কোয়াডে একজন বিকল্প উইকেটকিপার দেখেই উঠেছিল গুঞ্জন। তবে শেষ পর্যন্ত মুশফিকই সামলাচ্ছেন উইকেটের পেছনের দায়িত্ব।

ওয়ার্নারের স্টাম্পিং মিসের আগ পর্যন্ত দায়িত্বটা যে মুশফিক দুর্দান্তভাবে সামলেছেন, সেটি তো দেখাই যাচ্ছে। ঢাকা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে সাকিব-তামিমের অবদান সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হলেও মুশফিকের উইকেটকিপিংয়ের কথাও বলতে হবে। সৌম্য সরকারের সহায়তায় উসমান খাজাকে রানআউট করে প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখার কাজটা দারুণভাবে করেছিলেন। পরের দিন সাকিবের বলে থিতু হয়ে যাওয়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে স্টাম্পিং করেছেন দারুণ ক্ষিপ্রতায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ডেভিড ওয়ার্নার-স্টিভেন স্মিথের জমে যাওয়া জুটি ভেঙেছে মুশফিকের হাত ধরে। সাকিবের বল কাট করতে গিয়ে মুশফিকের গ্লাভসে তুলে দিয়েছিলেন স্মিথ।

তবে এই সিরিজের সেরা ক্যাচটা বোধ হয় মুশফিক নিয়েছেন চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ম্যাট রেনশের ক্যাচটা যেভাবে ঝাঁপিয়ে এক হাতে লুফে নিয়েছেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক, চোখে লেগে থাকবে অনেক দিন। ব্যাটিংয়ের মতো উইকেটের পেছনেও চ্যালেঞ্জ নিয়ে নেমেছেন মুশফিক।

টেকনিক্যাল কিংবা মনস্তাত্ত্বিক কোনো সমস্যায় পড়লে জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় শরণ নেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার নাজমুল আবেদীনের।  নাজমুল বলেছিলেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট মুশফিক উইকেটকিপিংয়ে আরও ভালো করতে কী পরিমাণ ঘাম ঝরাচ্ছেন। এই সিরিজের আগে বিশেষ প্রস্তুতি ছিল তাঁর কিপিং নিয়ে।

সেটার সুফল মিলছিল। উইকেটের পেছনেও দুর্দান্ত মুশফিক…এই আলোচনাটা জমে উঠতে না উঠতেই একটা ভুলের তির এসে বিঁধল। দল প্রত্যাশামতো সাফল্য না পেলে অধিনায়কের কিছু কৌশলও চোখে বেঁধে। রক্ষণ নাকি আক্রমণ—এই ভারসাম্য খুঁজে পেতেও আজ অধিনায়ক মুশফিককে বেশ বেগ পেতে দেখা গেল।
তবে টেস্ট ক্রিকেটটা এমনই। সিনেমা এখনো অনেক বাকি। শেষ দৃশ্যে মুশফিক কী করেন, সেটাই দেখার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ইরান খুব ভালো থাকবে: ট্রাম্প

‘বাজে মুশফিকে’ আড়ালে ‘দুর্দান্ত মুশফিক’

আপডেট সময় ০৭:৩৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

মাঝেমধ্যেই কাঠগড়ায় ওঠে তাঁর কিপিং। সহজ স্টাম্পিং হাতছাড়া করেন। হাতছাড়া হয় সহজ কিংবা কঠিন ক্যাচ। পায়ের জড়তায় অতিরিক্ত রান পেয়ে যায় প্রতিপক্ষ। ব্যাটিংয়ে অনেক প্রশংসা কুড়োলেও উইকেটকিপিং নিয়ে প্রায়ই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মুশফিকুর রহিমকে। আজ যেমন মিস করলেন ডেভিড ওয়ার্নারের স্টাম্পিং!

অস্ট্রেলীয় ওপেনার তখন ৭৩ রানে ব্যাট করছিলেন। ৫৭তম ওভারে মিরাজকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে এসেছেন ডাউন দ্য উইকেটে। বল নেমে গিয়েছিলেন বেশ নিচে। বল একটু নিচু হয়ে আসায় ব্যাটে পাননি। মুশফিকও উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে বলটা গ্লাভসে জমা করে স্টাম্প ভাঙতে পারেননি। ওয়ার্নার যতক্ষণে ক্রিজে ফিরেছেন, ঠিকমতো বলটা ধরতে পারলে তাঁকে তিনবার স্টাম্পিং করতে পারতেন মুশফিক।
গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নার ৮৮ রানে অপরাজিত। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২ উইকেটে ২২৫। এ কারণে বেশি করে চোখে বিঁধছে মুশফিকের এই অমার্জনীয় ভুল। অথচ এই মুশফিকই বাজপাখির ক্ষিপ্রতায় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে লুফে নিয়েছিলেন রেনশের ক্যাচ। সেই ছবিটাই শুধু নয়, পুরো সিরিজে দুর্দান্ত কিপিং করে চলা মুশফিক সেই প্রচেষ্টাগুলোকেও যেন ম্লান করে দিলেন। উইকেটকিপার মুশফিকের সেই পুরোনো ভূতটা ফিরে এসে আড়াল করে দিল উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত হয়ে দেখা দেওয়া মুশফিককে।

কিপিং নিয়ে মুশফিককে সবচেয়ে বড় ঝড়টা সামলাতে হয়েছে গত মার্চে শ্রীলঙ্কা সফরে। গল টেস্টে তিনি খেলেছিলেন শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে। বিকল্প হিসেবে ওই টেস্টে উইকেটকিপিং করেছেন লিটন দাস। কলম্বোয় শততম টেস্টের আগে লিটন চোটে পড়লে আবারও মুশফিক ফিরে পান তাঁর বিশ্বস্ত গ্লাভস। মুশফিক উইকেটকিপিং করবেন কি না, মৃদু গুঞ্জন ছিল এবার অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগেও। টেস্ট অধিনায়কের চোট না থাকলেও হোম সিরিজে স্কোয়াডে একজন বিকল্প উইকেটকিপার দেখেই উঠেছিল গুঞ্জন। তবে শেষ পর্যন্ত মুশফিকই সামলাচ্ছেন উইকেটের পেছনের দায়িত্ব।

ওয়ার্নারের স্টাম্পিং মিসের আগ পর্যন্ত দায়িত্বটা যে মুশফিক দুর্দান্তভাবে সামলেছেন, সেটি তো দেখাই যাচ্ছে। ঢাকা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে সাকিব-তামিমের অবদান সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হলেও মুশফিকের উইকেটকিপিংয়ের কথাও বলতে হবে। সৌম্য সরকারের সহায়তায় উসমান খাজাকে রানআউট করে প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখার কাজটা দারুণভাবে করেছিলেন। পরের দিন সাকিবের বলে থিতু হয়ে যাওয়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে স্টাম্পিং করেছেন দারুণ ক্ষিপ্রতায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ডেভিড ওয়ার্নার-স্টিভেন স্মিথের জমে যাওয়া জুটি ভেঙেছে মুশফিকের হাত ধরে। সাকিবের বল কাট করতে গিয়ে মুশফিকের গ্লাভসে তুলে দিয়েছিলেন স্মিথ।

তবে এই সিরিজের সেরা ক্যাচটা বোধ হয় মুশফিক নিয়েছেন চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ম্যাট রেনশের ক্যাচটা যেভাবে ঝাঁপিয়ে এক হাতে লুফে নিয়েছেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক, চোখে লেগে থাকবে অনেক দিন। ব্যাটিংয়ের মতো উইকেটের পেছনেও চ্যালেঞ্জ নিয়ে নেমেছেন মুশফিক।

টেকনিক্যাল কিংবা মনস্তাত্ত্বিক কোনো সমস্যায় পড়লে জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় শরণ নেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার নাজমুল আবেদীনের।  নাজমুল বলেছিলেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট মুশফিক উইকেটকিপিংয়ে আরও ভালো করতে কী পরিমাণ ঘাম ঝরাচ্ছেন। এই সিরিজের আগে বিশেষ প্রস্তুতি ছিল তাঁর কিপিং নিয়ে।

সেটার সুফল মিলছিল। উইকেটের পেছনেও দুর্দান্ত মুশফিক…এই আলোচনাটা জমে উঠতে না উঠতেই একটা ভুলের তির এসে বিঁধল। দল প্রত্যাশামতো সাফল্য না পেলে অধিনায়কের কিছু কৌশলও চোখে বেঁধে। রক্ষণ নাকি আক্রমণ—এই ভারসাম্য খুঁজে পেতেও আজ অধিনায়ক মুশফিককে বেশ বেগ পেতে দেখা গেল।
তবে টেস্ট ক্রিকেটটা এমনই। সিনেমা এখনো অনেক বাকি। শেষ দৃশ্যে মুশফিক কী করেন, সেটাই দেখার।