ঢাকা ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেপ্টেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মহামারী করোনার কারণে এখনো স্থবির পুরো শিক্ষাঙ্গন। আটকে গেছে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কবে অনুষ্ঠিত হবে কিংবা কিভাবে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। এবার জানা গেল, আসছে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে শুরু হতে পারে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে সবকিছু সচল হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নতুনভাবে প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এজন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে পার্শ্ববর্তী ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। নতুনভাবে কেন্দ্র বাড়িয়ে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।

এর আগে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এ পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্থগিত পরীক্ষার পরবর্তী সময় ঘোষণা না করায় অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী। এ অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অন্তত ১৫ দিন পর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ড থেকে জানা গেছে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী কমিয়ে একটি বেঞ্চে একজন করে বসানো হবে। ক্লাসরুমে যতগুলো বেঞ্চ থাকবে ততজন পরীক্ষার্থীর সিট নির্ধারণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে পার্শ্ববর্তী ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর গেটের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হবে। পরিদর্শক ও পরীক্ষার্থীরা ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে ভেতরে প্রবেশ করবেন।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাদের কাছে শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চলতি বছর সারাদেশে কোথায় কোন কেন্দ্রে কতজন পরীক্ষার্থী রয়েছে সে তথ্য পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত কেন্দ্র হিসেবে পরীক্ষা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, পরীক্ষা অবশ্যই নিতে হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের জন্য সেই পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। পরীক্ষা আয়োজনে আমাদের সব প্রস্তুতি অনেক আগেই শেষ হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দিলে পরীক্ষা শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করতে আমরা একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছি। পরীক্ষার জন্য পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। মাঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জরিপ করে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে।

পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষায় পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ক্লাসের মধ্যে এক বেঞ্চে একজন করে পরীক্ষার্থী বসানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে জানিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে বিদ্যালয় খোলার ১৫ দিন পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেপ্টেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা

আপডেট সময় ০৯:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মহামারী করোনার কারণে এখনো স্থবির পুরো শিক্ষাঙ্গন। আটকে গেছে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কবে অনুষ্ঠিত হবে কিংবা কিভাবে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। এবার জানা গেল, আসছে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে শুরু হতে পারে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে সবকিছু সচল হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নতুনভাবে প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এজন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে পার্শ্ববর্তী ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। নতুনভাবে কেন্দ্র বাড়িয়ে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।

এর আগে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এ পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্থগিত পরীক্ষার পরবর্তী সময় ঘোষণা না করায় অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী। এ অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অন্তত ১৫ দিন পর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ড থেকে জানা গেছে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী কমিয়ে একটি বেঞ্চে একজন করে বসানো হবে। ক্লাসরুমে যতগুলো বেঞ্চ থাকবে ততজন পরীক্ষার্থীর সিট নির্ধারণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে পার্শ্ববর্তী ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর গেটের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হবে। পরিদর্শক ও পরীক্ষার্থীরা ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে ভেতরে প্রবেশ করবেন।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাদের কাছে শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চলতি বছর সারাদেশে কোথায় কোন কেন্দ্রে কতজন পরীক্ষার্থী রয়েছে সে তথ্য পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত কেন্দ্র হিসেবে পরীক্ষা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, পরীক্ষা অবশ্যই নিতে হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের জন্য সেই পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। পরীক্ষা আয়োজনে আমাদের সব প্রস্তুতি অনেক আগেই শেষ হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দিলে পরীক্ষা শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করতে আমরা একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছি। পরীক্ষার জন্য পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। মাঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জরিপ করে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে।

পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষায় পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ক্লাসের মধ্যে এক বেঞ্চে একজন করে পরীক্ষার্থী বসানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে জানিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে বিদ্যালয় খোলার ১৫ দিন পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করা হবে।