ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলুপ্ত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিকল্প নেই: আলী রীয়াজ রাজধানীর ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার পরের সরকারের জন্য অর্থনীতিতে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ রয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা যারা নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক চায় না,তাদের পক্ষে এ দেশের নারী সমাজ থাকতে পারে না. : সালাহউদ্দিন কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের মন্তব্য কলঙ্কজনক: তারেক রহমান ২-০ গোলে ভারতকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ তফশিল ঘোষণার ৩৬ দিনের মধ্যে দলীয় ১৫ নেতাকর্মী নিহত: টিআইবি বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব দেশ পুনর্গঠন করা: তারেক রহমান নোয়াখালীতে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ

বন্যার জন্য দায়ী সরকারের ভারতপন্থী নতজানু পররাষ্ট্রনীতি: ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশে বন্যার জন্য সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার তিস্তা চুক্তির কথা ফলাও করে প্রচার করলেও গত এক দশকে সে চুক্তি করতে পারেনি। উজানে ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে নদী অববাহিকার মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে।

সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষকে আশা দিয়ে এক দশকেও সরকার তিস্তা চুক্তি করতে পারেনি। অথচ একের পর এক ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহার, বিদ্যুৎ ক্রয়সহ অসংখ্য অসম চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অন্যদিকে সীমান্তে প্রায় প্রতিদিন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করছে। সে বিষয়েও সরকার কোনো কার্যকরী প্রতিবাদ জানাতে সাহস পায়নি।

‘এই সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে প্রায় প্রতি বছর বাংলাদেশের নদী অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষেরা এই বন্যায় আক্রান্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ভারত বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ভারত অভিন্ন নদীগুলোর সকল বাঁধ-ব্যারেজের গেট খুলে দেয়ায় উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে বাংলাদেশের ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা, মহানন্দ, পদ্মা, তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকায় ৩৪টি জেলা ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি জেলায় এক মাসের মধ্যে ২-৩বার বন্যার পানি উজান থেকে এসে বাড়ি-ঘর, ফসলের ক্ষেত ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

ফখরুল বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদী ১৫৪টি। একমাত্র পদ্মার ফারাক্কা বাঁধ ব্যতীত কোনটারই কোনো পানি বণ্টন চুক্তি ভারতের অনীহার কারণে সম্পূর্ণ হয়নি।

করোনাভাইরাসের মতোই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও সরকার উদাসীন ও নিষ্ক্রিয় এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় যেমন সরকার একেবারেই ব্যর্থ, চরম উদাসীনতা, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ঠিক তেমনি বন্যার বিষয়েও সরকারের নিরবতা, নিষ্ক্রিয়তা মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করছে। উজানে ভারত থেকে বন্যার পানি নেমে আসায় সম্পদহানি, বাড়িঘর ভেঙে যাওয়া, গবাদি পশুর মৃত্যু, ফসলহানি দেশের মানুষকে সীমাহীন কষ্ট ও অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের মধ্যে ফেলেছে।’

মির্জা ফখরুল অরও বলেন, “একজন মন্ত্রী তো বলেই ফেললেন ‘বন্যার বিষয়ে এতোটুকু চিন্তিত নই’- ভালো কথা। এই যে প্রতিদিন গণমাধ্যমে আসছে- আমরা বন্যার্ত মানুষের আহজারি ও তাদের অসহায়ত্ব কথা, সহায় সম্বল হারিয়ে সড়কের অথবা বাঁধের ওপরে আশ্রয় নেওয়া শিশু সন্তান, বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অভুক্ত থাকা- এই বিষয়গুলো তাদের চিন্তিত করে না।”

‘কারণ সরকার তো ধরাছোঁয়ার বাইরে। জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয় না। এসব দুর্যোগ এলে বরং তারা খুশি হন এ কারণে যে, তাতে দুর্নীতির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।’-যোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব

বন্যার জন্য দায়ী সরকারের ভারতপন্থী নতজানু পররাষ্ট্রনীতি: ফখরুল

আপডেট সময় ০৮:৫১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশে বন্যার জন্য সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার তিস্তা চুক্তির কথা ফলাও করে প্রচার করলেও গত এক দশকে সে চুক্তি করতে পারেনি। উজানে ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে নদী অববাহিকার মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে।

সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষকে আশা দিয়ে এক দশকেও সরকার তিস্তা চুক্তি করতে পারেনি। অথচ একের পর এক ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহার, বিদ্যুৎ ক্রয়সহ অসংখ্য অসম চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অন্যদিকে সীমান্তে প্রায় প্রতিদিন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করছে। সে বিষয়েও সরকার কোনো কার্যকরী প্রতিবাদ জানাতে সাহস পায়নি।

‘এই সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে প্রায় প্রতি বছর বাংলাদেশের নদী অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষেরা এই বন্যায় আক্রান্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ভারত বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ভারত অভিন্ন নদীগুলোর সকল বাঁধ-ব্যারেজের গেট খুলে দেয়ায় উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে বাংলাদেশের ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা, মহানন্দ, পদ্মা, তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকায় ৩৪টি জেলা ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি জেলায় এক মাসের মধ্যে ২-৩বার বন্যার পানি উজান থেকে এসে বাড়ি-ঘর, ফসলের ক্ষেত ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

ফখরুল বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদী ১৫৪টি। একমাত্র পদ্মার ফারাক্কা বাঁধ ব্যতীত কোনটারই কোনো পানি বণ্টন চুক্তি ভারতের অনীহার কারণে সম্পূর্ণ হয়নি।

করোনাভাইরাসের মতোই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও সরকার উদাসীন ও নিষ্ক্রিয় এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় যেমন সরকার একেবারেই ব্যর্থ, চরম উদাসীনতা, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ঠিক তেমনি বন্যার বিষয়েও সরকারের নিরবতা, নিষ্ক্রিয়তা মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করছে। উজানে ভারত থেকে বন্যার পানি নেমে আসায় সম্পদহানি, বাড়িঘর ভেঙে যাওয়া, গবাদি পশুর মৃত্যু, ফসলহানি দেশের মানুষকে সীমাহীন কষ্ট ও অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের মধ্যে ফেলেছে।’

মির্জা ফখরুল অরও বলেন, “একজন মন্ত্রী তো বলেই ফেললেন ‘বন্যার বিষয়ে এতোটুকু চিন্তিত নই’- ভালো কথা। এই যে প্রতিদিন গণমাধ্যমে আসছে- আমরা বন্যার্ত মানুষের আহজারি ও তাদের অসহায়ত্ব কথা, সহায় সম্বল হারিয়ে সড়কের অথবা বাঁধের ওপরে আশ্রয় নেওয়া শিশু সন্তান, বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অভুক্ত থাকা- এই বিষয়গুলো তাদের চিন্তিত করে না।”

‘কারণ সরকার তো ধরাছোঁয়ার বাইরে। জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয় না। এসব দুর্যোগ এলে বরং তারা খুশি হন এ কারণে যে, তাতে দুর্নীতির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।’-যোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।