ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই সনদকে অস্বীকার করে বিএনপি জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করছে:নাহিদ ইসলাম দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী মিরপুরে সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩২ ঘণ্টার বিভীষিকা, যেভাবে বেঁচে ফিরল ১২ বছরের কিশোরী ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ প্রতিটি ক্লাশরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, শ্রেণিকক্ষেই স্কুলছাত্রের বিষপান খেলা শেষ, খোদা হাফেজ : মাহফুজ আলম জুলাইয়ের ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা দেশে ফিরলে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে: রুমিন ফারহানা

থেমে নেই ঘাট বাণিজ্য, লাশের গাড়ি থেকেও ‘বকশিশ’ নেয় ওরা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

নানা সমস্যায় জর্জরিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এই নৌরুট। থেমে নেই চাঁদাবাজি। নানা সমস্যায় বছরের বেশিরভাগ সময়ই যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি লেগেই থাকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে।

নানা অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পরিচয়পত্র ব্যবহার না করে যাত্রীদের সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করে থাকে ঘাট এলাকার একটি অসাধু চক্র। ফেরিতে জুয়ার ফাঁদ, যাত্রীবাহী বাসের ভুয়া টিকিট বিক্রি, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্বসহ বকশিশের নামে দিতে হয় নগদ টাকা।

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া অথবা দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়া প্রান্তে যানবাহনগুলো ফেরি পারাপার করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিটিসি) কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পদ্মা পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়া অথবা পাটুরিয়া প্রান্তে ফেরি থেকে নামার সময় প্রতি গাড়ী থেকে নেওয়া হয় ১০ টাকা করে বকশিশ।

বকশিশ নেওয়া থেকে বাদ যায় না রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। এমনকি লাশের স্বজনদের গাড়ি থেকেও নেওয়া হয় এই বকশিশ। বকশিশ না দিলে খারাপ আচরণ করে ফেরিতে দায়িত্ব পালনরত এসব কর্মচারীরা। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নেওয়া এই বকশিশ যেন একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাস ও ট্রাক চালক বলেন, বকশিশ যেন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে দৌলতদিয়া ঘাটে। বকশিশ না দিলে খারাপ ব্যবহার করে কর্মচারীরা। যাত্রীরা বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে কারা টাকা নেয় সেটা চেনা যায় না। বিশেষ করে আইডি কার্ড প্রদর্শন না করাসহ সুনির্দিষ্ট পোশাক না থাকার কারণে অনেক সময় তাদের টাকা গচ্চা যায়। অনেক সময় জাল টিকিট বিক্রি করে হয়রানির শিকার হতে হয়।

বকশিশ আদায়কারীদের দাবি, ফেরিতে গাড়ি সিরিয়াল করার জন্য চালকদের কাছ থেকে তারা ১০টাকা করে চেয়ে নেন। কেউ খুশি হলে দেয় আবার কেউ দেয় না।

বিআইডব্লিউটিসির একটি সূত্র জানায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ১০ টাকা করে নিলে প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা হয় যা মাসে শেষে দাঁড়ায় ৬ লক্ষ টাকা।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিটিসির দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, এই বিষয়টি বিআইডব্লিউটিসির অন্য একটি বিভাগের দায়িত্ব। তাই আমি কোন মন্তব্য করবো না।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের মেরিন বিভাগের (এজিএম) মো. আব্দুর সাত্তার মিয়া বকশিশেরর বিষয়টি শিকার করে বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা বলে এটি নেওয়া হয়। তাছাড়া তারা কম বেতন পায় বলে এটি নিয়ে থাকে। তবে লাশের গাড়ি থেকে মানবিক দিক বিবেচনা করে টাকা নেওয়া হয় না, যদি কেউ নিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসির) কার্গো ও ফেরী বিভাগের জিএম (কমার্স) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, বকশিশ নেবার কোন সুযোগ নেই। বকশিশের বিষয় বন্ধের ব্যাপারে তিনি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়াতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই সনদকে অস্বীকার করে বিএনপি জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করছে:নাহিদ ইসলাম

থেমে নেই ঘাট বাণিজ্য, লাশের গাড়ি থেকেও ‘বকশিশ’ নেয় ওরা!

আপডেট সময় ০৯:১০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

নানা সমস্যায় জর্জরিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এই নৌরুট। থেমে নেই চাঁদাবাজি। নানা সমস্যায় বছরের বেশিরভাগ সময়ই যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি লেগেই থাকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে।

নানা অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পরিচয়পত্র ব্যবহার না করে যাত্রীদের সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করে থাকে ঘাট এলাকার একটি অসাধু চক্র। ফেরিতে জুয়ার ফাঁদ, যাত্রীবাহী বাসের ভুয়া টিকিট বিক্রি, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্বসহ বকশিশের নামে দিতে হয় নগদ টাকা।

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া অথবা দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়া প্রান্তে যানবাহনগুলো ফেরি পারাপার করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিটিসি) কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পদ্মা পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়া অথবা পাটুরিয়া প্রান্তে ফেরি থেকে নামার সময় প্রতি গাড়ী থেকে নেওয়া হয় ১০ টাকা করে বকশিশ।

বকশিশ নেওয়া থেকে বাদ যায় না রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। এমনকি লাশের স্বজনদের গাড়ি থেকেও নেওয়া হয় এই বকশিশ। বকশিশ না দিলে খারাপ আচরণ করে ফেরিতে দায়িত্ব পালনরত এসব কর্মচারীরা। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নেওয়া এই বকশিশ যেন একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাস ও ট্রাক চালক বলেন, বকশিশ যেন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে দৌলতদিয়া ঘাটে। বকশিশ না দিলে খারাপ ব্যবহার করে কর্মচারীরা। যাত্রীরা বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে কারা টাকা নেয় সেটা চেনা যায় না। বিশেষ করে আইডি কার্ড প্রদর্শন না করাসহ সুনির্দিষ্ট পোশাক না থাকার কারণে অনেক সময় তাদের টাকা গচ্চা যায়। অনেক সময় জাল টিকিট বিক্রি করে হয়রানির শিকার হতে হয়।

বকশিশ আদায়কারীদের দাবি, ফেরিতে গাড়ি সিরিয়াল করার জন্য চালকদের কাছ থেকে তারা ১০টাকা করে চেয়ে নেন। কেউ খুশি হলে দেয় আবার কেউ দেয় না।

বিআইডব্লিউটিসির একটি সূত্র জানায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ১০ টাকা করে নিলে প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা হয় যা মাসে শেষে দাঁড়ায় ৬ লক্ষ টাকা।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিটিসির দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, এই বিষয়টি বিআইডব্লিউটিসির অন্য একটি বিভাগের দায়িত্ব। তাই আমি কোন মন্তব্য করবো না।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের মেরিন বিভাগের (এজিএম) মো. আব্দুর সাত্তার মিয়া বকশিশেরর বিষয়টি শিকার করে বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা বলে এটি নেওয়া হয়। তাছাড়া তারা কম বেতন পায় বলে এটি নিয়ে থাকে। তবে লাশের গাড়ি থেকে মানবিক দিক বিবেচনা করে টাকা নেওয়া হয় না, যদি কেউ নিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসির) কার্গো ও ফেরী বিভাগের জিএম (কমার্স) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, বকশিশ নেবার কোন সুযোগ নেই। বকশিশের বিষয় বন্ধের ব্যাপারে তিনি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়াতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।