ঢাকা ০৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম জেনেও চুপ ছিল মন্ত্রণালয়

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর সেবার নামে ডাকাতি আরও একমাস আগেই এসব তথ্য জমা পড়েছিল মন্ত্রণালয়ে। লিখিতভাবে এসব অভিযোগের কথা জানিয়েছিলেন সেখানে নিয়োগ পাওয়া সরকারি চিকিৎসকরা। পরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিলেও শাহেদের রিজেন্টের বিপক্ষে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি মন্ত্রণালয়। যদিও এখন এসবের দায় নিতে চান না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রিজেন্টে অভিযানের পরে শাহেদনামায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন অধ্যায়। আর সেই সঙ্গে জমাট বাঁধছে নানা প্রশ্ন।

এই করোনাকালে রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে সেখানে নিয়োগ দেয়া হয় বেশ কয়েকজন সরকারি চিকিৎসক। ১১ মে নিয়োগের দিনেই তাদের কাছে মৌখিক নির্দেশ আসে সেদিনই কর্মস্থলে যোগ দেয়ার। মধ্যরাতে খোদ শাহেদই চিকিৎসকদের ফোন দেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে। আর হাসপাতালে যোগদানের পরের অভিজ্ঞতা আরো ভয়াবহ।

জাতীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, উনি আমাকে প্রথমেই পরিচয় দেন প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র সচিব হিসেবে। ডাক্তারদের সুরক্ষার ব্যাপারে, করোনা রোগীদের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ব্যাপারে, কোনো কিছুতেই আমি অভ্যস্ত ছিলাম না। পরে জানতে পারলাম যে, এখানে এক্সরে মেশিন নাই, প্যাথলজিস্ট নাই; প্যাথলজির কোনো কাজকর্ম চলে না।

এরই মধ্যে শাহেদের বিশেষ চাহিদা মেটাতে আইসিউইতে তাৎক্ষণিক যোগদানের আদেশ পান এনেস্থেশিয়ার এক জুনিয়র কনসালটেন্ট। যদিও কাজ করতে গিয়ে দেখেন নামেই আইসিইউ। বাস্তবে সেখানে এমন সেবা দেয়ার ন্যূনতম সুবিধা ছিল না। ১৫ মে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। তিন দিনের মধ্যে রিজেন্ট থেকে তুলে নেয়া হয় সরকারি সব চিকিৎসককে।

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শরীফ সামিরুল আলম বলেন, আমি অ্যাপলিকেশন্স লিখেছি ওখানে দেখবেন যে, কোনো ডাক্তার ছিল না, কোনো নার্স ছিল না। সব মিলিয়ে আইসিইউ’র মতো সেটআপটা ওইখানে ছিল না।

এবার সমীকরণটা মেলানো যাক। যদি এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের রিজেন্টে নিয়োগের আদেশ তুলে নেয়া হয়। তবে চিঠিতে লেখা হাসপাতালের অনিয়মের বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নেয়নি মন্ত্রণালয়। সে সময় দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন দায় এড়ানোর কথা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) সিরাজুল ইসলামকে ফোন করে সময় সংবাদের পরিচয় দেয়ার পর তিনি বলেন, আমি এখন কথা বলবো না।

মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, তখন আমি প্রশ্ন তুললাম, বেসরকারি হাসপাতালে আমরা সরকারি ডাক্তার কেন দেবো? তখন আমাকে বলা হলো যে, ওইখানে তো ৩৯তম বিসিএস থেকেও কতজন ডাক্তারকে যেন পদায়ন করা হয়েছে।

সেখানে যে একটা ঝামেলা হচ্ছে সেটা তো আপনারা বুঝতে পারছিলেন, এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না, ওটা আমি তখন বুঝতে পারিনি।

এদিকে এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক। তিনি রাজি হননি কথা বলতেও।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম জেনেও চুপ ছিল মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় ০৫:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর সেবার নামে ডাকাতি আরও একমাস আগেই এসব তথ্য জমা পড়েছিল মন্ত্রণালয়ে। লিখিতভাবে এসব অভিযোগের কথা জানিয়েছিলেন সেখানে নিয়োগ পাওয়া সরকারি চিকিৎসকরা। পরে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিলেও শাহেদের রিজেন্টের বিপক্ষে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি মন্ত্রণালয়। যদিও এখন এসবের দায় নিতে চান না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রিজেন্টে অভিযানের পরে শাহেদনামায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন অধ্যায়। আর সেই সঙ্গে জমাট বাঁধছে নানা প্রশ্ন।

এই করোনাকালে রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে সেখানে নিয়োগ দেয়া হয় বেশ কয়েকজন সরকারি চিকিৎসক। ১১ মে নিয়োগের দিনেই তাদের কাছে মৌখিক নির্দেশ আসে সেদিনই কর্মস্থলে যোগ দেয়ার। মধ্যরাতে খোদ শাহেদই চিকিৎসকদের ফোন দেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে। আর হাসপাতালে যোগদানের পরের অভিজ্ঞতা আরো ভয়াবহ।

জাতীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, উনি আমাকে প্রথমেই পরিচয় দেন প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র সচিব হিসেবে। ডাক্তারদের সুরক্ষার ব্যাপারে, করোনা রোগীদের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ব্যাপারে, কোনো কিছুতেই আমি অভ্যস্ত ছিলাম না। পরে জানতে পারলাম যে, এখানে এক্সরে মেশিন নাই, প্যাথলজিস্ট নাই; প্যাথলজির কোনো কাজকর্ম চলে না।

এরই মধ্যে শাহেদের বিশেষ চাহিদা মেটাতে আইসিউইতে তাৎক্ষণিক যোগদানের আদেশ পান এনেস্থেশিয়ার এক জুনিয়র কনসালটেন্ট। যদিও কাজ করতে গিয়ে দেখেন নামেই আইসিইউ। বাস্তবে সেখানে এমন সেবা দেয়ার ন্যূনতম সুবিধা ছিল না। ১৫ মে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। তিন দিনের মধ্যে রিজেন্ট থেকে তুলে নেয়া হয় সরকারি সব চিকিৎসককে।

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শরীফ সামিরুল আলম বলেন, আমি অ্যাপলিকেশন্স লিখেছি ওখানে দেখবেন যে, কোনো ডাক্তার ছিল না, কোনো নার্স ছিল না। সব মিলিয়ে আইসিইউ’র মতো সেটআপটা ওইখানে ছিল না।

এবার সমীকরণটা মেলানো যাক। যদি এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের রিজেন্টে নিয়োগের আদেশ তুলে নেয়া হয়। তবে চিঠিতে লেখা হাসপাতালের অনিয়মের বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নেয়নি মন্ত্রণালয়। সে সময় দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন দায় এড়ানোর কথা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) সিরাজুল ইসলামকে ফোন করে সময় সংবাদের পরিচয় দেয়ার পর তিনি বলেন, আমি এখন কথা বলবো না।

মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, তখন আমি প্রশ্ন তুললাম, বেসরকারি হাসপাতালে আমরা সরকারি ডাক্তার কেন দেবো? তখন আমাকে বলা হলো যে, ওইখানে তো ৩৯তম বিসিএস থেকেও কতজন ডাক্তারকে যেন পদায়ন করা হয়েছে।

সেখানে যে একটা ঝামেলা হচ্ছে সেটা তো আপনারা বুঝতে পারছিলেন, এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না, ওটা আমি তখন বুঝতে পারিনি।

এদিকে এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক। তিনি রাজি হননি কথা বলতেও।