ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পণ্ড মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করলেন বাবা-মা, নেপথ্যে ‘একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক’ বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি, এবার পাহাড় কাটাও বন্ধ করব: হুমাম খুলনার তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, মেয়েকে হত্যার বর্ণনা দিলেন মা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রীর জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ইরানের দিকে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করা আছে: ট্রাম্প

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ১ মাসে থাকা-খাওয়ার খরচ ২০ কোটি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা চিকিৎসার জন্য খাজনার থেকে বাজনা বেশি হয়ে যাচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা শুরু হয়েছে গত মাস থেকে। আর এই ১ মাসে চিকিৎসকদের থাকা খাওয়ার বাবদ খরচ হয়েছে ২০ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আর এই বিল দেখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের চোখ কপালে উঠেছে। তাঁরা বলছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের থাকা-খাওয়া বাবদ খরচ এত হলে করোনা চিকিৎসা হবে কিভাবে? যেখানে সরকার করোনা চিকিৎসার জন্য করোনাকালীন সময়ে কৃচ্ছতা সাধনের কথা বলা হচ্ছে, ব্যয় সঙ্কোচনের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এই চিকিৎসা বিলাসীতা নতুন করে চিন্তার উদ্রেগ করেছে সরকারের মাঝে।

ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এত খরচ ভবিষ্যতে আর বহন করা যাবেনা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে সরকারি যে ডরমেটরি আছে, সেই ডরমেটরিতে চিকিৎসকদের রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে যে, কোভিড পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেলের একাংশকে নির্ধারণ করার বিষয়টি শুরু থেকেই ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেলের নতুন বর্ধিতাংশকে কোভিড চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত করা হয়। সেসময় পাঁচশ জন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের এখানের দায়িত্বে দেওয়া হয়। জানা গেছে, একজন চিকিৎসক ৭ দিন মাত্র ডিউটি করেন এবং বাকি ২১ দিন হোটেলে থাকে। ঢাকার একটি চার তারকা হোটেল নেওয়া হয় এই চিকিৎসকদের রাখার জন্য। এর ফলে ১ মাসে তাঁদের বিল এসেছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাড়ে ৫ কোটি টাকা শুধু খাবারের বিলই এসেছে।

যদিও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল যে, ৭ দিন ডিউটি এবং ২১ দিন ছুটির নিয়মটি বদল করতে হবে, বরং ১৪ দিন ডিউটি করে পরের ১৪ দিন ছুটির নিয়ম প্রবর্তন করতে হবে। কিন্তু ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা ৭ দিন ডিউটি করে ২১ দিনের ছুটি ভোগ করছেন। এর থেকেও বড় কথা হচ্ছে যে, এইসময় তাঁদের হোটেলের বিল এসেছে ১২ কোটি টাকা এবং খাবারের বিল এসেছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা। যখন সরকার করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে এবং করোনা মোকাবেলার সঙ্গে অর্থনৈতিক সঙ্কট তীব্র হয়েছে, সেইসময় এমন ব্যয় অযাচিত এবং অর্থ মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বলেও জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে যে, এবার তাদেরকে বিল দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে এমন বিলাসিতা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবেনা।

উল্লেখ্য বাংলাদেশে করোনা সঙ্কটের শুরু থেকে চিকিৎসকদের নিয়ে নানা রকম সমস্যা হয়েছে। প্রথমেই চিকিৎসকরা সব ধরণের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেন এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসা সেবা একেবারেই বন্ধ করে দেন। এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবং নির্দেশে করোনা চিকিৎসা যেন নিশ্চিত করা হয় এবং কোনো হাসপাতালে কোনো রোগীকে চিকিৎসাহীন যেন না থাকতে হয় সেজন্য কঠোর অনুশাসন জারি করা হয়। কিন্তু এমন নির্দেশনার পরেও চিকিৎসকরা নন কোভিডদের চিকিৎসা এখনো সুষ্ঠভাবে করছে না।

এদিকে করোনা চিকিৎসা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও নানারকম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। চিকিৎসকদের জন্য এন-৯৫ মাস্ক বা পিপিই দেওয়া হয়েছিল তা ছিল নিম্নমানের। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবথেকে বেশি সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছে। এই বাস্তবতায় যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহিরাংশকে কোভিড হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয় তখন চিকিৎসকরা তাঁদের সুরক্ষার দাবি করেন।

উল্লেখ্য যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন কিন্তু এই ব্যবস্থার নামে এক ধরণের বিলাসীতা করেছেন, যা কোনভাবে কাম্য নয়। এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, এরপর কোভিড চিকিৎসার জন্য যে চিকিৎসকরা কোভিড চিকিৎসা করবেন তাঁদেরকে সরকারি ভালো, উন্নত মানের ডরমেটরিতে রাখা হবে এবং সেখানে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ১ মাসে থাকা-খাওয়ার খরচ ২০ কোটি

আপডেট সময় ০৫:২২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা চিকিৎসার জন্য খাজনার থেকে বাজনা বেশি হয়ে যাচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা শুরু হয়েছে গত মাস থেকে। আর এই ১ মাসে চিকিৎসকদের থাকা খাওয়ার বাবদ খরচ হয়েছে ২০ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আর এই বিল দেখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের চোখ কপালে উঠেছে। তাঁরা বলছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের থাকা-খাওয়া বাবদ খরচ এত হলে করোনা চিকিৎসা হবে কিভাবে? যেখানে সরকার করোনা চিকিৎসার জন্য করোনাকালীন সময়ে কৃচ্ছতা সাধনের কথা বলা হচ্ছে, ব্যয় সঙ্কোচনের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এই চিকিৎসা বিলাসীতা নতুন করে চিন্তার উদ্রেগ করেছে সরকারের মাঝে।

ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এত খরচ ভবিষ্যতে আর বহন করা যাবেনা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে সরকারি যে ডরমেটরি আছে, সেই ডরমেটরিতে চিকিৎসকদের রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে যে, কোভিড পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেলের একাংশকে নির্ধারণ করার বিষয়টি শুরু থেকেই ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেলের নতুন বর্ধিতাংশকে কোভিড চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত করা হয়। সেসময় পাঁচশ জন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের এখানের দায়িত্বে দেওয়া হয়। জানা গেছে, একজন চিকিৎসক ৭ দিন মাত্র ডিউটি করেন এবং বাকি ২১ দিন হোটেলে থাকে। ঢাকার একটি চার তারকা হোটেল নেওয়া হয় এই চিকিৎসকদের রাখার জন্য। এর ফলে ১ মাসে তাঁদের বিল এসেছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাড়ে ৫ কোটি টাকা শুধু খাবারের বিলই এসেছে।

যদিও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল যে, ৭ দিন ডিউটি এবং ২১ দিন ছুটির নিয়মটি বদল করতে হবে, বরং ১৪ দিন ডিউটি করে পরের ১৪ দিন ছুটির নিয়ম প্রবর্তন করতে হবে। কিন্তু ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা ৭ দিন ডিউটি করে ২১ দিনের ছুটি ভোগ করছেন। এর থেকেও বড় কথা হচ্ছে যে, এইসময় তাঁদের হোটেলের বিল এসেছে ১২ কোটি টাকা এবং খাবারের বিল এসেছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা। যখন সরকার করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে এবং করোনা মোকাবেলার সঙ্গে অর্থনৈতিক সঙ্কট তীব্র হয়েছে, সেইসময় এমন ব্যয় অযাচিত এবং অর্থ মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বলেও জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে যে, এবার তাদেরকে বিল দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে এমন বিলাসিতা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবেনা।

উল্লেখ্য বাংলাদেশে করোনা সঙ্কটের শুরু থেকে চিকিৎসকদের নিয়ে নানা রকম সমস্যা হয়েছে। প্রথমেই চিকিৎসকরা সব ধরণের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেন এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসা সেবা একেবারেই বন্ধ করে দেন। এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবং নির্দেশে করোনা চিকিৎসা যেন নিশ্চিত করা হয় এবং কোনো হাসপাতালে কোনো রোগীকে চিকিৎসাহীন যেন না থাকতে হয় সেজন্য কঠোর অনুশাসন জারি করা হয়। কিন্তু এমন নির্দেশনার পরেও চিকিৎসকরা নন কোভিডদের চিকিৎসা এখনো সুষ্ঠভাবে করছে না।

এদিকে করোনা চিকিৎসা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও নানারকম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। চিকিৎসকদের জন্য এন-৯৫ মাস্ক বা পিপিই দেওয়া হয়েছিল তা ছিল নিম্নমানের। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবথেকে বেশি সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছে। এই বাস্তবতায় যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহিরাংশকে কোভিড হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয় তখন চিকিৎসকরা তাঁদের সুরক্ষার দাবি করেন।

উল্লেখ্য যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন কিন্তু এই ব্যবস্থার নামে এক ধরণের বিলাসীতা করেছেন, যা কোনভাবে কাম্য নয়। এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, এরপর কোভিড চিকিৎসার জন্য যে চিকিৎসকরা কোভিড চিকিৎসা করবেন তাঁদেরকে সরকারি ভালো, উন্নত মানের ডরমেটরিতে রাখা হবে এবং সেখানে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।