ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নেপালের রেডিও স্টেশনে দিনরাত চলছে ভারত বিরোধী গান

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

একদিকে চীন, অপরদিকে পাকিস্তান। এবার তার মধ্যে নেপাল। সীমান্ত নিয়ে রীতিমতো নাজেহাল ভারত। গত বৃহস্পতিবার নেপালের সংসদের উচ্চকক্ষ অর্থাৎ জাতীয় সভাতেও পাশ হয়ে গিয়েছে নতুন মানচিত্র বিল।

ভারতের তিনটি ভূখণ্ড উত্তরাখণ্ডের লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখকে নিজেদের দাবি করে নতুন মানচিত্র তৈরি করেছে নেপালের কমিউনিস্ট সরকার। শুধু তাই নয়, ভারত বিরোধী সুর যে নেপাল ভালোভাবেই চড়াচ্ছে, তা বারবার প্রমাণ দিচ্ছে তারা।

এখন নেপালের রেডিওতে দিনভর বাজানো হচ্ছে ভারত বিরোধী গান। ঠিক যেভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে রেডিওতে লাগাতার প্রচার চালায় কিমের উত্তর কোরিয়া, নেপালও ভারতের ক্ষেত্রে সেই পথই অবলম্বন করেছে।
আর এতেই অনেক সমস্যায় পড়েছেন উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ের ধরচুলা, ঝুলাঘাটের মতো এলাকার বাসিন্দারা। কারণ নেপালি চ্যানেল হলেও মে মাস থেকে কালাপানি রেডিও, নতুন নেপালের মতো রেডিও চ্যানেলগুলি ভারতের ওই এলাকার বাসিন্দারাও শুনতে পাচ্ছেন। দিনরাত তাতে চলছে ভারত বিরোধী কুৎসাও। ফলে ভারতবাসী হিসেবে ওই অঞ্চলের মানুষজন বেশ বিরক্ত হচ্ছেন, শুধু তাই নয় অনেকে রেডিও শোনাও বন্ধ করে দিয়েছেন।

ভারতীয় প্রশাসন সূত্রের দাবি, কথা বলে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কোনও আগ্রহ দেখায়নি কাঠমান্ডু। ভারতের এলাকা তাদের বলে দাবি করার এই সিদ্ধান্ত ‘অদূরদর্শী এবং আত্মকেন্দ্রিক’। যে দ্রুততায় নেপালের উভয়কক্ষে বিলটি পাশ করানো হয়েছে, তার নিন্দা করে ভারতের বক্তব্য, সীমান্ত বদলের ক্ষেত্রে কোনও ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণ নেপালের কাছে নেই।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘এভাবে জোর করে ভূখণ্ড বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটি আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত-সমস্যা মেটানোর চুক্তির পরিপন্থী।’

১৮১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার এবং তৎকালীন নেপালের রাজার মধ্যে হওয়া ‘সুগৌলি চুক্তি’ অনুযায়ী কালী নদীর পশ্চিমপাড়ের সব ভূখণ্ডের সত্ত্ব ত্যাগ করে নেপাল আর তাই কালী নদীর গতিপথ অনুসরণ করেই ভারত ও নেপালের সীমান্ত নির্ধারিত হয়।

১৮১৭ সালে তিনকর, ছাংড়ু, নভি এবং কুঠি গ্রামকে তাদের এলাকা বলে দাবি জানাতে থাকে নেপাল। তিনকর এবং ছাংড়ু কালী নদীর পূর্বদিকে বলে তা নেপালকে দিয়ে দেন ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল কিন্তু বাকি দু’টি কালী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত বলে সত্ত্বাধিকার ছাড়েনি ভারত। কালী নদীর উৎস সংক্রান্ত বিবাদও তখনই মিটিয়ে নেওয়া হয়।

কিন্তু নেপাল দাবি করতে থাকে, কুঠি ইয়াংক্তি এবং লিপুগড় নদীর (যা কালী নদীতে গিয়ে পড়েছে) গতিপথ অনুযায়ী ওই দু’টি গ্রামও তাদেরই। ১৯৯৭, ১৯৯৮ এবং ২০১৪ সালে সীমান্ত নিয়ে আলোচনায় বসে দু’দেশ। সমস্যা জোরালো হয় গত ৮ মে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং যখন কৈলাস মানসরোবর যাওয়ার জন্য লিপুলেখ দিয়ে নতুন রাস্তার সূচনা করেন। লিপুলেখ তাদের এলাকা বলে সরব হয় নেপাল। ভারত আলোচনার প্রস্তাব দিলেও নেপাল আগ্রহ দেখায়নি। বদলে তারা মানচিত্র বদলে দেয়।

ভারতের আরও অভিযোগ, বিহারের নরসাহী ও সুস্তা এলাকায় নিজেদের লোকবসতি তৈরি করে এলাকা দখল করতে চাইছে নেপাল। শুধু তাই নয়, নতুন ম্যাপ ঘোষণার তিন সপ্তাহ পর ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ জোগাড়ের জন্য ন’সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে তারা, এটাই প্রমাণ করে নেপালের দাবি ভিত্তিহীন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নেপালের রেডিও স্টেশনে দিনরাত চলছে ভারত বিরোধী গান

আপডেট সময় ০৬:০০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

একদিকে চীন, অপরদিকে পাকিস্তান। এবার তার মধ্যে নেপাল। সীমান্ত নিয়ে রীতিমতো নাজেহাল ভারত। গত বৃহস্পতিবার নেপালের সংসদের উচ্চকক্ষ অর্থাৎ জাতীয় সভাতেও পাশ হয়ে গিয়েছে নতুন মানচিত্র বিল।

ভারতের তিনটি ভূখণ্ড উত্তরাখণ্ডের লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখকে নিজেদের দাবি করে নতুন মানচিত্র তৈরি করেছে নেপালের কমিউনিস্ট সরকার। শুধু তাই নয়, ভারত বিরোধী সুর যে নেপাল ভালোভাবেই চড়াচ্ছে, তা বারবার প্রমাণ দিচ্ছে তারা।

এখন নেপালের রেডিওতে দিনভর বাজানো হচ্ছে ভারত বিরোধী গান। ঠিক যেভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে রেডিওতে লাগাতার প্রচার চালায় কিমের উত্তর কোরিয়া, নেপালও ভারতের ক্ষেত্রে সেই পথই অবলম্বন করেছে।
আর এতেই অনেক সমস্যায় পড়েছেন উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ের ধরচুলা, ঝুলাঘাটের মতো এলাকার বাসিন্দারা। কারণ নেপালি চ্যানেল হলেও মে মাস থেকে কালাপানি রেডিও, নতুন নেপালের মতো রেডিও চ্যানেলগুলি ভারতের ওই এলাকার বাসিন্দারাও শুনতে পাচ্ছেন। দিনরাত তাতে চলছে ভারত বিরোধী কুৎসাও। ফলে ভারতবাসী হিসেবে ওই অঞ্চলের মানুষজন বেশ বিরক্ত হচ্ছেন, শুধু তাই নয় অনেকে রেডিও শোনাও বন্ধ করে দিয়েছেন।

ভারতীয় প্রশাসন সূত্রের দাবি, কথা বলে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কোনও আগ্রহ দেখায়নি কাঠমান্ডু। ভারতের এলাকা তাদের বলে দাবি করার এই সিদ্ধান্ত ‘অদূরদর্শী এবং আত্মকেন্দ্রিক’। যে দ্রুততায় নেপালের উভয়কক্ষে বিলটি পাশ করানো হয়েছে, তার নিন্দা করে ভারতের বক্তব্য, সীমান্ত বদলের ক্ষেত্রে কোনও ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণ নেপালের কাছে নেই।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘এভাবে জোর করে ভূখণ্ড বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটি আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত-সমস্যা মেটানোর চুক্তির পরিপন্থী।’

১৮১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার এবং তৎকালীন নেপালের রাজার মধ্যে হওয়া ‘সুগৌলি চুক্তি’ অনুযায়ী কালী নদীর পশ্চিমপাড়ের সব ভূখণ্ডের সত্ত্ব ত্যাগ করে নেপাল আর তাই কালী নদীর গতিপথ অনুসরণ করেই ভারত ও নেপালের সীমান্ত নির্ধারিত হয়।

১৮১৭ সালে তিনকর, ছাংড়ু, নভি এবং কুঠি গ্রামকে তাদের এলাকা বলে দাবি জানাতে থাকে নেপাল। তিনকর এবং ছাংড়ু কালী নদীর পূর্বদিকে বলে তা নেপালকে দিয়ে দেন ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল কিন্তু বাকি দু’টি কালী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত বলে সত্ত্বাধিকার ছাড়েনি ভারত। কালী নদীর উৎস সংক্রান্ত বিবাদও তখনই মিটিয়ে নেওয়া হয়।

কিন্তু নেপাল দাবি করতে থাকে, কুঠি ইয়াংক্তি এবং লিপুগড় নদীর (যা কালী নদীতে গিয়ে পড়েছে) গতিপথ অনুযায়ী ওই দু’টি গ্রামও তাদেরই। ১৯৯৭, ১৯৯৮ এবং ২০১৪ সালে সীমান্ত নিয়ে আলোচনায় বসে দু’দেশ। সমস্যা জোরালো হয় গত ৮ মে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং যখন কৈলাস মানসরোবর যাওয়ার জন্য লিপুলেখ দিয়ে নতুন রাস্তার সূচনা করেন। লিপুলেখ তাদের এলাকা বলে সরব হয় নেপাল। ভারত আলোচনার প্রস্তাব দিলেও নেপাল আগ্রহ দেখায়নি। বদলে তারা মানচিত্র বদলে দেয়।

ভারতের আরও অভিযোগ, বিহারের নরসাহী ও সুস্তা এলাকায় নিজেদের লোকবসতি তৈরি করে এলাকা দখল করতে চাইছে নেপাল। শুধু তাই নয়, নতুন ম্যাপ ঘোষণার তিন সপ্তাহ পর ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ জোগাড়ের জন্য ন’সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে তারা, এটাই প্রমাণ করে নেপালের দাবি ভিত্তিহীন।