ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

শত বছরের রীতি ধরে রাখতে কুমিরকে বিয়ে!

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

ব্যতিক্রমী এক বিয়ে হলো মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় ওয়াজাকা রাজ্যে। সাদা গাউন আর স্বর্ণালংকার পরিয়ে একটি কুমিরকে বিয়ে করলেন দেশটির সান পেদ্রো হুয়ামেলুলার শহরের মেয়র। ঐতিহ্যবাহী গান আর নাচের মধ্য দিয়ে অদ্ভুত এ বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ব্যতিক্রমী এ বিয়ের খবর।

শত বছরের পুরনো রীতি ধরে রাখতেই এমন বিয়ের আয়োজন করেছে সেখানকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যোগসূত্র গড়ে তোলার জন্য এ বিয়ের মাধ্যমে প্রার্থনা করেন তারা। এই বিয়ে উপলক্ষ্যে আনন্দ আয়োজনে মাতে শহরবাসী। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার মেয়র ভিক্টর হুগো সোসা ৭ বছর বয়সী কুমিরটিকে বিয়ে করেন। মেয়র সোসা বলেন, আমরা প্রকৃতির কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি, খাবার ও নদীতে মাছ চেয়ে প্রার্থনা করেছি।

কুমিরের সাথে মানুষের এ বিয়েতে কমতি ছিল না কোনো আয়োজনে। আদিবাসী আয়োজনের সাথে যোগ হয়েছে খ্রিস্টান বিয়ের রীতি। সে অনুযায়ী আগে থেকে নির্বাচিত করা হয় বউয়ের একজন গডমাদার। শুভক্ষণে রীতিমত সাদা গাউন, গহনা আর অন্যান্য অনুসঙ্গে সুসজ্জিত হয়ে হাজির করানো হয় কুমির কনেকে।

ট্রাম্পেট আর ড্রামের বাদ্যের উৎসবমুখর তালের সঙ্গে স্থানীয় জনতা কুমিরটিকে নিয়ে গ্রামের রাস্তায় ঘুরতে গেলে পুরুষরা তাদের মাথার হ্যাট খুলে বাতাস করতে থাকেন। এ বিয়ের আয়োজক ধর্মমাতা হিসিবে পরিচিত এলিয়া এডিথ আগুইলার বলেন, এটা আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছে এবং আমার শেকড় সম্পর্কে আমাকে গর্বিত করেছে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে সম্মানিত বোধ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কনে (কুমির) কী পোশাক পরবে, সে বিষয়েও আমাকে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়েছে। এটি খুবই চমৎকার একটি প্রথা।

হাসি-আনন্দের ছলে বিয়ের গোটা আয়োজন হলেও শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন সবাই। কেননা দিন শেষে নববধূ এক হিংস্র মাংসাশী। দুর্ঘটনা এড়াতে তাই পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই কুমিরটির মুখ বেধে রাখা হয় দড়ি দিয়ে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

শত বছরের রীতি ধরে রাখতে কুমিরকে বিয়ে!

আপডেট সময় ১১:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

ব্যতিক্রমী এক বিয়ে হলো মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় ওয়াজাকা রাজ্যে। সাদা গাউন আর স্বর্ণালংকার পরিয়ে একটি কুমিরকে বিয়ে করলেন দেশটির সান পেদ্রো হুয়ামেলুলার শহরের মেয়র। ঐতিহ্যবাহী গান আর নাচের মধ্য দিয়ে অদ্ভুত এ বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ব্যতিক্রমী এ বিয়ের খবর।

শত বছরের পুরনো রীতি ধরে রাখতেই এমন বিয়ের আয়োজন করেছে সেখানকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যোগসূত্র গড়ে তোলার জন্য এ বিয়ের মাধ্যমে প্রার্থনা করেন তারা। এই বিয়ে উপলক্ষ্যে আনন্দ আয়োজনে মাতে শহরবাসী। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার মেয়র ভিক্টর হুগো সোসা ৭ বছর বয়সী কুমিরটিকে বিয়ে করেন। মেয়র সোসা বলেন, আমরা প্রকৃতির কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি, খাবার ও নদীতে মাছ চেয়ে প্রার্থনা করেছি।

কুমিরের সাথে মানুষের এ বিয়েতে কমতি ছিল না কোনো আয়োজনে। আদিবাসী আয়োজনের সাথে যোগ হয়েছে খ্রিস্টান বিয়ের রীতি। সে অনুযায়ী আগে থেকে নির্বাচিত করা হয় বউয়ের একজন গডমাদার। শুভক্ষণে রীতিমত সাদা গাউন, গহনা আর অন্যান্য অনুসঙ্গে সুসজ্জিত হয়ে হাজির করানো হয় কুমির কনেকে।

ট্রাম্পেট আর ড্রামের বাদ্যের উৎসবমুখর তালের সঙ্গে স্থানীয় জনতা কুমিরটিকে নিয়ে গ্রামের রাস্তায় ঘুরতে গেলে পুরুষরা তাদের মাথার হ্যাট খুলে বাতাস করতে থাকেন। এ বিয়ের আয়োজক ধর্মমাতা হিসিবে পরিচিত এলিয়া এডিথ আগুইলার বলেন, এটা আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছে এবং আমার শেকড় সম্পর্কে আমাকে গর্বিত করেছে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে সম্মানিত বোধ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কনে (কুমির) কী পোশাক পরবে, সে বিষয়েও আমাকে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়েছে। এটি খুবই চমৎকার একটি প্রথা।

হাসি-আনন্দের ছলে বিয়ের গোটা আয়োজন হলেও শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন সবাই। কেননা দিন শেষে নববধূ এক হিংস্র মাংসাশী। দুর্ঘটনা এড়াতে তাই পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই কুমিরটির মুখ বেধে রাখা হয় দড়ি দিয়ে।