ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে পানিতে বিষ মিশিয়ে যৌথবাহিনী সদস্যদের হত্যাচেষ্টা! দেশে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কিছু করলে দায়ভার সরকারের ওপরই পড়বে: মান্না অস্ত্র প্রস্তুত, তবে ইরানকে ‘কিছুটা সময়’ দিচ্ছেন ট্রাম্প : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ঘিরে উত্তেজনা-ধস্তাধস্তি, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান গণতন্ত্র যতবারই হোঁচট খেয়েছে, ততবারই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: ডা. জাহিদ বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়লো কুর্মিটোলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে, নিহত ১

মৃত্যু জেনেও কীভাবে প্রশান্ত ছিল মেয়েটি!

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে আগ্নেয়গিরির ধ্বংসস্তুপে ৩ দিন আটকে থাকার পর মারা গিয়েছিল। কোমর থেকে তার দেহের নিম্নাংশ আগ্নেয়গিরির ধ্বংসস্তুপের ফাঁদের নিচে আটকা পড়ার পরবর্তী ৬০ ঘণ্টা সে জীবিত ছিল এবং প্রশান্তচিত্তেই ছিল।

উদ্ধারের প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মেয়েটিও জানত তার শেষ সময় এসে গেছে। তথাপি সে প্রশান্তচিন্তে ছিল এবং এমনকি সে একটি গানও গেয়েছিল। চেষ্টাও করেছে উদ্ধার পাওয়ার জন্য।

শেষ মুহূর্তের ছবিটি দুনিয়াজুড়ে এখন একটি আইকনে পরিণত হয়েছে। আগ্নেয়গিরির লাভার উদগীরণে সৃষ্ট কাঁদার প্রবাহে আটকে সে ছিল অসহায় কিন্তু জীবিত। ছবিটি দেখে আতকে উঠতে পারে এই ভেবে যে সে তখনো জীবিত অথচ কী প্রশান্তচিন্তে তাকিয়ে আছে।

যদিও সে তীব্র ব্যাথা পাচ্ছিল, কিন্তু সেই ব্যথায় সে নিজেকে আক্রান্ত হতে দেয়নি। লোকে যখন তাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিল সে তখন খুবই প্রশান্তচিত্তে তাকিয়ে ছিল। তাকে সম্ভাব্য সব উপায়েই উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তার একটি পা আটকে ছিল।

ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপাপড়ে নিহত তার খালা তার একটি পা শক্ত করে ধরে রেখেছিল। উদ্ধারকারীর পরে উপলব্ধি করেন মেয়েটি আস্তে আস্তে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ছিল। এবং তাকে জীবিত উদ্ধারের সব সম্ভাবনা দূর হয়ে যাচ্ছিল।

আগ্নেয়গিরির ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার সময় সে বাড়িতেই ছিল। তারা বাবা-মা, ভাই এবং খালা বাড়িতেই ছিল। আর তারা আগ্নেয়গির থেকে লাভার উদগীরণ নিয়ে চিন্তিত ছিল। হঠাৎ করেই আগ্নেয়গিরর লাভার উদগীরণে সৃষ্ট কাঁদার প্রবাহে তাদের বাড়িটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে। অন্যদের সঙ্গে সেও ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে।

মরণফাঁদে আটকে থাকার পুরো ৬০ ঘন্টাজুড়ে সে ইতিবাচক এবং দয়ালু ছিল। শুধু যে কয়েকটি মুহূর্তে সে প্রার্থনা করছিল এবং কাঁদছিল সে মুহূর্তগুলো ছাড়া। এমনকি একবার সে একটি গানও গেয়েছিল।

মৃত্যুর আগে সে মিষ্টি খেতে চেয়েছিল এবং সোডাও পান করেছিল। সে এতটাই দয়ালু ছিল যে একবার সে উদ্ধারকারীদেরকে বিশ্রাম নিতে বলেছিল।

আসলে তার হেলুসিনেশন হচ্ছিল। সে বলছিল তার স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যাবে। উদ্ধারকারীরা দেখতে পেল তার চেহারা ফুলে উঠেছে এবং তার হাত সাদা হয়ে গেছে।

বাঁচার জন্য ৬০ ঘন্টার সংগ্রাম শেষে সে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। তার মুত্যুর কারণ ছিল গ্যাংগ্রিন এবং হাইপোথারমিয়া বা দেহের তাপশুন্যতা। তাকে যেহেতু আর উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না উদ্ধারকারীরা তাকে খুবই মানবিকভাবে মৃত্যুর কোলে তুলে দেয়।

ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮৫ সালের ১৩ নভেম্বর। কলম্বিয়ার টলিমোর এর আরমেরোতে। নেভাদো দেল রুইজ আগ্নেয়গিরিতে লাভার উদগীরণে ওই বিপর্যয় নেমে এসেছিল। এতে নিহত হয়ছিল মোট ২৩ হাজার মানুষ।

আগ্নেয়গিরর লাভার আগুনে পাহাড়ের জমাট বরফ গলে ভুমি ধ্বস, এবং পানি ও মাটি মিশে যে কাঁদা তৈরি হয় তাতে ধ্বংসস্তুপ প্রবাহিত হয়েছিল ৫০ মাইল বেগে। আরমেরো শহরের ২৯ হাজার বাসিন্দার ২০ হাজার জনই নিহত হন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী

মৃত্যু জেনেও কীভাবে প্রশান্ত ছিল মেয়েটি!

আপডেট সময় ১১:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে আগ্নেয়গিরির ধ্বংসস্তুপে ৩ দিন আটকে থাকার পর মারা গিয়েছিল। কোমর থেকে তার দেহের নিম্নাংশ আগ্নেয়গিরির ধ্বংসস্তুপের ফাঁদের নিচে আটকা পড়ার পরবর্তী ৬০ ঘণ্টা সে জীবিত ছিল এবং প্রশান্তচিত্তেই ছিল।

উদ্ধারের প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মেয়েটিও জানত তার শেষ সময় এসে গেছে। তথাপি সে প্রশান্তচিন্তে ছিল এবং এমনকি সে একটি গানও গেয়েছিল। চেষ্টাও করেছে উদ্ধার পাওয়ার জন্য।

শেষ মুহূর্তের ছবিটি দুনিয়াজুড়ে এখন একটি আইকনে পরিণত হয়েছে। আগ্নেয়গিরির লাভার উদগীরণে সৃষ্ট কাঁদার প্রবাহে আটকে সে ছিল অসহায় কিন্তু জীবিত। ছবিটি দেখে আতকে উঠতে পারে এই ভেবে যে সে তখনো জীবিত অথচ কী প্রশান্তচিন্তে তাকিয়ে আছে।

যদিও সে তীব্র ব্যাথা পাচ্ছিল, কিন্তু সেই ব্যথায় সে নিজেকে আক্রান্ত হতে দেয়নি। লোকে যখন তাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিল সে তখন খুবই প্রশান্তচিত্তে তাকিয়ে ছিল। তাকে সম্ভাব্য সব উপায়েই উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তার একটি পা আটকে ছিল।

ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপাপড়ে নিহত তার খালা তার একটি পা শক্ত করে ধরে রেখেছিল। উদ্ধারকারীর পরে উপলব্ধি করেন মেয়েটি আস্তে আস্তে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ছিল। এবং তাকে জীবিত উদ্ধারের সব সম্ভাবনা দূর হয়ে যাচ্ছিল।

আগ্নেয়গিরির ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার সময় সে বাড়িতেই ছিল। তারা বাবা-মা, ভাই এবং খালা বাড়িতেই ছিল। আর তারা আগ্নেয়গির থেকে লাভার উদগীরণ নিয়ে চিন্তিত ছিল। হঠাৎ করেই আগ্নেয়গিরর লাভার উদগীরণে সৃষ্ট কাঁদার প্রবাহে তাদের বাড়িটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে। অন্যদের সঙ্গে সেও ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে।

মরণফাঁদে আটকে থাকার পুরো ৬০ ঘন্টাজুড়ে সে ইতিবাচক এবং দয়ালু ছিল। শুধু যে কয়েকটি মুহূর্তে সে প্রার্থনা করছিল এবং কাঁদছিল সে মুহূর্তগুলো ছাড়া। এমনকি একবার সে একটি গানও গেয়েছিল।

মৃত্যুর আগে সে মিষ্টি খেতে চেয়েছিল এবং সোডাও পান করেছিল। সে এতটাই দয়ালু ছিল যে একবার সে উদ্ধারকারীদেরকে বিশ্রাম নিতে বলেছিল।

আসলে তার হেলুসিনেশন হচ্ছিল। সে বলছিল তার স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যাবে। উদ্ধারকারীরা দেখতে পেল তার চেহারা ফুলে উঠেছে এবং তার হাত সাদা হয়ে গেছে।

বাঁচার জন্য ৬০ ঘন্টার সংগ্রাম শেষে সে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। তার মুত্যুর কারণ ছিল গ্যাংগ্রিন এবং হাইপোথারমিয়া বা দেহের তাপশুন্যতা। তাকে যেহেতু আর উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না উদ্ধারকারীরা তাকে খুবই মানবিকভাবে মৃত্যুর কোলে তুলে দেয়।

ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮৫ সালের ১৩ নভেম্বর। কলম্বিয়ার টলিমোর এর আরমেরোতে। নেভাদো দেল রুইজ আগ্নেয়গিরিতে লাভার উদগীরণে ওই বিপর্যয় নেমে এসেছিল। এতে নিহত হয়ছিল মোট ২৩ হাজার মানুষ।

আগ্নেয়গিরর লাভার আগুনে পাহাড়ের জমাট বরফ গলে ভুমি ধ্বস, এবং পানি ও মাটি মিশে যে কাঁদা তৈরি হয় তাতে ধ্বংসস্তুপ প্রবাহিত হয়েছিল ৫০ মাইল বেগে। আরমেরো শহরের ২৯ হাজার বাসিন্দার ২০ হাজার জনই নিহত হন।