ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

চোর অপবাদে মা-মেয়েসহ ৫ জনকে দু’দফায় নির্মম নির্যাতন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক মা ও তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ ৫ জনকে ‘গরু চোর’ আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে কোমরে রশি বেঁধে তাদের প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। সেখানে চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম নিজে তাদের ফের মারধর করেন। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে।

তারা হলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট কুসুমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৫৫), মেয়ে সেলিনা আক্তার (২৮), মেয়ে রোজিনা আক্তার (২৫), ছেলে মো. আরমান (৩০) ও পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের মো. ছুট্টু (৩৮)।

শুক্রবার দুপুরে হারবাং ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় এ ঘটনা ঘটলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ছবি প্রকাশের পর এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে পহরচাঁদা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাহমুদুল হক বাদী হয়ে এ ঘটনায় ওই নির্যাতিত ৫ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় গরু চুরি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় থানা পুলিশ আহতদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, শুক্রবার স্থানীয়রা ফাঁড়িতে খবর দিলে আমাদের ফোর্স দিয়ে গুরুতর অবস্থায় মা-মেয়েসহ ৫ জনকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসি। আমরা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তাদের উপর নির্যাতন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের উদ্ধার করে। তবে মারধরের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি।

এদিকে, ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, একদফা মা-মেয়ে ও ছেলের ওপর নির্যাতন চলার পর হারবাং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মিরাননুল ইসলাম চৌকিদার (গ্রাম পুলিশ) পাঠিয়ে তাদেরকে রশিতে বেঁধে তার কার্যালয়ে এনে আবার নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। পরে চেয়ারম্যানের লোকেরাই হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে ফোন করে পুলিশ এনে তাদের হাতে মা-মেয়েসহ ৫ জনকে তুলে দেয়।

হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মা-মেয়েসহ ৫ জনকে হাত-পা খোলা অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। মারধরে আহতদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গরুর মালিক পহরচাঁদা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাহমুদুল হক বাদী হয়ে ওই ৫ জনের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ এনে একটি মামলা রুজু করেন। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চোর অপবাদে মা-মেয়েসহ ৫ জনকে দু’দফায় নির্মম নির্যাতন

আপডেট সময় ০৪:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক মা ও তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ ৫ জনকে ‘গরু চোর’ আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে কোমরে রশি বেঁধে তাদের প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। সেখানে চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম নিজে তাদের ফের মারধর করেন। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে।

তারা হলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট কুসুমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৫৫), মেয়ে সেলিনা আক্তার (২৮), মেয়ে রোজিনা আক্তার (২৫), ছেলে মো. আরমান (৩০) ও পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের মো. ছুট্টু (৩৮)।

শুক্রবার দুপুরে হারবাং ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় এ ঘটনা ঘটলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ছবি প্রকাশের পর এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে পহরচাঁদা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাহমুদুল হক বাদী হয়ে এ ঘটনায় ওই নির্যাতিত ৫ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় গরু চুরি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় থানা পুলিশ আহতদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, শুক্রবার স্থানীয়রা ফাঁড়িতে খবর দিলে আমাদের ফোর্স দিয়ে গুরুতর অবস্থায় মা-মেয়েসহ ৫ জনকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসি। আমরা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তাদের উপর নির্যাতন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের উদ্ধার করে। তবে মারধরের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি।

এদিকে, ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, একদফা মা-মেয়ে ও ছেলের ওপর নির্যাতন চলার পর হারবাং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মিরাননুল ইসলাম চৌকিদার (গ্রাম পুলিশ) পাঠিয়ে তাদেরকে রশিতে বেঁধে তার কার্যালয়ে এনে আবার নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। পরে চেয়ারম্যানের লোকেরাই হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে ফোন করে পুলিশ এনে তাদের হাতে মা-মেয়েসহ ৫ জনকে তুলে দেয়।

হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মা-মেয়েসহ ৫ জনকে হাত-পা খোলা অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। মারধরে আহতদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গরুর মালিক পহরচাঁদা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাহমুদুল হক বাদী হয়ে ওই ৫ জনের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ এনে একটি মামলা রুজু করেন। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে