ঢাকা ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানে ‘বড় হামলা’ এখনো শুরুই হয়নি: ট্রাম্প হামলা ও সংঘাতের ঘটনা বিশ্ব সভ্যতার জন্য ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল জুলাই সনদের বিরুদ্ধে রায় এলে সংসদ বাতিল হয়ে যাবে: আসিফ সরকারকে বলব, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন: নাহিদ ইসলাম শ্রমিক হত্যা মামলায় আইভীর গ্রেপ্তার আবেদন মঞ্জুর মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রবাসীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ছয় মাসে কী করবো জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী : শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এবার বাহরাইনে বাংলাদেশি নিহত সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরু‌রি বিজ্ঞ‌প্তি দূতাবাসের মোহাম্মদপুরে সার্ভিসিং সেন্টারে প্রাইভেটকারে আগুন, দগ্ধ ৮

বাসর থেকে বেরিয়ে রেললাইনে দ্বিখন্ডিত বর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বাসর রাতে নববধূকে রেখে নিখোঁজ হওয়া বর মেহেদি হাসান খান (২২) অবশেষে ঘরে ফিরেছেন। তবে জীবিত অবস্থায় নয়, দ্বিখন্ডিত লাশ হয়ে। নিহত মেহেদি নান্দাইল উপজেলার বীরখামটখালী গ্রামের সাজ্জাদ খানের ছেলে।

বাসর রাতে নববধূ রোকসানা আক্তারকে আসছি বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান মেহেদি হাসান। এর পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে ময়মনসিংহের গফরগাঁও রেলস্টেশনের অদূরে পৌর এলাকার শিলাসী রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকার রেললাইন থেকে মেহেদির দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করে জিআরপি ফাঁড়ি পুলিশ।

গাজীপুরের টঙ্গীতে ন্যাশনাল ফ্যান কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন মেহেদি হাসান। গত রবিবার মেহেদি পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ে করেন পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের রামগোপাল বাড়ি গ্রামের হালিমের মেয়ে রোকসানা আক্তারকে (২০)। মূলত বর মেহেদির কনে রোকসানাকে পছন্দ না হলেও পরিবারের লোকজনের জেদের কাছে হার মানে সে।

অবশেষে রবিবার বাসর রাতের কোনো এক সময় নববধূকে আসছি বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান বর মেহদি হাসান। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বর ফিরে না আসায় নববধূ লজ্জা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। পরে রাতভর খুঁজেও বর মেহেদিকে কোথাও পাওয়া যায়নি।

একপর্যায়ে মেহদির ফোন নম্বর থেকে কল পান মা মাজেদা খাতুন। ছেলের প্রশ্ন ‘এ কেমন বিয়ে করালি মা। তবু আমি ফিরে আসবো।’ এই কথা বলেই ফোনের লাইন কেটে দেয় মেহদি।

নিহত মেহেদির মা মাজেদা বলেন, আমি তো জানতাম না এই কথাই আমার ছেলের শেষ কথা। বারবার চেষ্টা করলেও আর মোবাইল ফোন ধরেনি ছেলে। ঘণ্টা খানেক পর তার নম্বর দিয়ে বলা হয়, এটা কার নাম্বার? তিনি রেললাইনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। লাশ নিয়ে যান।

বুধবার সন্ধ্যার পর গফরগাঁও উপজেলা লাগোয়া নান্দাইলে বীরখামটখালী গ্রামের নিহত মেহদির বাড়িতে গেলে দেখা যায়, এ মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। সবার একটাই প্রশ্ন এমন কি হয়েছিল মেহেদির যার জন্য আত্মহত্যা করেছে। তবে নাম প্রকাশ না করে অনেকেই জানান, মেহেদি এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। পরিবারের চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হন।

এর সত্যতাও মিলেছে নববধূ রোকসানার বক্তব্যে। তিনি বলেন, বাসর রাতে বিছানায় না উঠেই তার সঙ্গে বাজে আচরণ শুরু করেন মেহেদি। অনেক চেষ্টা করেও তাকে (বর) আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে তিনি (বর) বলেন, আমাকে উনার পছন্দ হয়নি। এই বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান।

রোকসানা বলেন, আমার কী দোষ। আমি তো সংসার করতে চেয়েছিলাম। আমার এখন কী হবে। এই বলে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন নববধূ রোকসানা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাসর থেকে বেরিয়ে রেললাইনে দ্বিখন্ডিত বর

আপডেট সময় ০৫:২৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বাসর রাতে নববধূকে রেখে নিখোঁজ হওয়া বর মেহেদি হাসান খান (২২) অবশেষে ঘরে ফিরেছেন। তবে জীবিত অবস্থায় নয়, দ্বিখন্ডিত লাশ হয়ে। নিহত মেহেদি নান্দাইল উপজেলার বীরখামটখালী গ্রামের সাজ্জাদ খানের ছেলে।

বাসর রাতে নববধূ রোকসানা আক্তারকে আসছি বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান মেহেদি হাসান। এর পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে ময়মনসিংহের গফরগাঁও রেলস্টেশনের অদূরে পৌর এলাকার শিলাসী রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকার রেললাইন থেকে মেহেদির দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করে জিআরপি ফাঁড়ি পুলিশ।

গাজীপুরের টঙ্গীতে ন্যাশনাল ফ্যান কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন মেহেদি হাসান। গত রবিবার মেহেদি পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ে করেন পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের রামগোপাল বাড়ি গ্রামের হালিমের মেয়ে রোকসানা আক্তারকে (২০)। মূলত বর মেহেদির কনে রোকসানাকে পছন্দ না হলেও পরিবারের লোকজনের জেদের কাছে হার মানে সে।

অবশেষে রবিবার বাসর রাতের কোনো এক সময় নববধূকে আসছি বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান বর মেহদি হাসান। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বর ফিরে না আসায় নববধূ লজ্জা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। পরে রাতভর খুঁজেও বর মেহেদিকে কোথাও পাওয়া যায়নি।

একপর্যায়ে মেহদির ফোন নম্বর থেকে কল পান মা মাজেদা খাতুন। ছেলের প্রশ্ন ‘এ কেমন বিয়ে করালি মা। তবু আমি ফিরে আসবো।’ এই কথা বলেই ফোনের লাইন কেটে দেয় মেহদি।

নিহত মেহেদির মা মাজেদা বলেন, আমি তো জানতাম না এই কথাই আমার ছেলের শেষ কথা। বারবার চেষ্টা করলেও আর মোবাইল ফোন ধরেনি ছেলে। ঘণ্টা খানেক পর তার নম্বর দিয়ে বলা হয়, এটা কার নাম্বার? তিনি রেললাইনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। লাশ নিয়ে যান।

বুধবার সন্ধ্যার পর গফরগাঁও উপজেলা লাগোয়া নান্দাইলে বীরখামটখালী গ্রামের নিহত মেহদির বাড়িতে গেলে দেখা যায়, এ মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। সবার একটাই প্রশ্ন এমন কি হয়েছিল মেহেদির যার জন্য আত্মহত্যা করেছে। তবে নাম প্রকাশ না করে অনেকেই জানান, মেহেদি এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। পরিবারের চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হন।

এর সত্যতাও মিলেছে নববধূ রোকসানার বক্তব্যে। তিনি বলেন, বাসর রাতে বিছানায় না উঠেই তার সঙ্গে বাজে আচরণ শুরু করেন মেহেদি। অনেক চেষ্টা করেও তাকে (বর) আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে তিনি (বর) বলেন, আমাকে উনার পছন্দ হয়নি। এই বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান।

রোকসানা বলেন, আমার কী দোষ। আমি তো সংসার করতে চেয়েছিলাম। আমার এখন কী হবে। এই বলে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন নববধূ রোকসানা।