ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাপন আমলের রেকর্ডপত্র চেয়ে বিসিবিতে দুদকের ৩ চিঠি হাত–মুখ বেঁধে জামায়াত নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহের মাঝেই চীন-রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া মোংলায় চাঁদা না পেয়ে গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার ৩ ১৮ বছরের নির্যাতনের পর অস্থিরতা স্বাভাবিক, তবে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে: দুদু পুলিশের ৩৩ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করতে হবে’:শিল্পমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে পেটে গুলি লেগেছিল মন্নাস আলীর, ৫৫ বছর পর অস্ত্রোপচারে অপসারণ মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান, ১৪৬ বিদেশি আটক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন, অননুমোদিত কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। সর্বশেষ পৃথক তিনটি অভিযানে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১৪৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

সেলাঙ্গরের ক্লাংয়ের পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র প্লাজা জিএমে ‘অপস মেগা’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ৩২৭ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে চীন, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ৮৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করলেও ড্রোন নজরদারি এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তদন্তে সহায়তার জন্য ১১ জন মালয়েশীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও সমন জারি করা হয়েছে।

দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি রয়্যাল মালয়েশিয়ান কাস্টমস বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। এতে মোট ১২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন।

একই সময়ে কেলান্তান সীমান্তে পৃথক বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশের আটজনসহ মোট ১৩ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ইন্দোনেশীয় পুরুষ, একজন ইন্দোনেশীয় নারী এবং একজন মিয়ানমারের নারী রয়েছেন।

ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন মালয়েশিয়ায় প্রবেশে কালোতালিকাভুক্ত ছিলেন। তারা সীমান্তের অননুমোদিত পথ বা ‘ইঁদুরপথ’ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এড়িয়ে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।

এদিকে পাহাংয়ের ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে একটি নির্মাণ প্রকল্পে পরিচালিত অভিযানে আরও ৪৭ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মোট ৫৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ৪৭ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করে ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। পরে তাদের কেমায়ান ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন, একক সমন্বয় ব্যবস্থার আওতায় আনা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং অবৈধ কর্মসংস্থান দমনে একাধিক পদক্ষেপ ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং অননুমোদিত বিদেশি কর্মসংস্থান দমনে দেশজুড়ে সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাপন আমলের রেকর্ডপত্র চেয়ে বিসিবিতে দুদকের ৩ চিঠি

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান, ১৪৬ বিদেশি আটক

আপডেট সময় ০৮:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন, অননুমোদিত কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। সর্বশেষ পৃথক তিনটি অভিযানে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১৪৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

সেলাঙ্গরের ক্লাংয়ের পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র প্লাজা জিএমে ‘অপস মেগা’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ৩২৭ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে চীন, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ৮৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করলেও ড্রোন নজরদারি এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তদন্তে সহায়তার জন্য ১১ জন মালয়েশীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও সমন জারি করা হয়েছে।

দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি রয়্যাল মালয়েশিয়ান কাস্টমস বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। এতে মোট ১২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন।

একই সময়ে কেলান্তান সীমান্তে পৃথক বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশের আটজনসহ মোট ১৩ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ইন্দোনেশীয় পুরুষ, একজন ইন্দোনেশীয় নারী এবং একজন মিয়ানমারের নারী রয়েছেন।

ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন মালয়েশিয়ায় প্রবেশে কালোতালিকাভুক্ত ছিলেন। তারা সীমান্তের অননুমোদিত পথ বা ‘ইঁদুরপথ’ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এড়িয়ে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।

এদিকে পাহাংয়ের ক্যামেরন হাইল্যান্ডসে একটি নির্মাণ প্রকল্পে পরিচালিত অভিযানে আরও ৪৭ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মোট ৫৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ৪৭ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করে ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। পরে তাদের কেমায়ান ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন, একক সমন্বয় ব্যবস্থার আওতায় আনা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং অবৈধ কর্মসংস্থান দমনে একাধিক পদক্ষেপ ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং অননুমোদিত বিদেশি কর্মসংস্থান দমনে দেশজুড়ে সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।