ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশজুড়ে সরকারি উদ্যোগে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ‘সলেমানের সোলার সেচপাম্প’: মির্জা ফখরুল মাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে কলাবাগানে ফেলে যায় ছেলে উন্নয়নে বৈষম্য করলে প্রয়োজনে বাঘের গর্জন করা হবে: ডা. শফিকুর বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে গেল স্বজনরা, উদ্ধার করে দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী এক মাসে চার হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা-আগুন শুধু আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না: তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল আলোচনার মধ্যেই গালিবাফ-আরাঘচিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে ইসরাইল, যেভাবে তাদের রক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে শেড-চেয়ার রাখার নির্দেশ শুরু হয়েছে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া, শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিশ্ব নেতারা ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া

মাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে কলাবাগানে ফেলে যায় ছেলে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি নির্জন কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে নিহতের ছেলে মো. জনিকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। জনি ও নিহত মজিদা বেগমের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর এলাকার মুল্লুক মাঝির কান্দি গ্রামে।

শুক্রবার মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার জনি এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার খুলির চুল খসে যায়। এছাড়া বাম হাত এবং হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ শিয়াল খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরা কাজ শুরু করলেও তখন নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মামলাটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস হওয়ায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তের প্রতিটি ধাপ নিয়মিত মনিটরিং করা হয় এবং প্রতিদিন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ, ম্যানুয়াল সোর্সিং এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে একপর্যায়ে মো. জনির ওপর সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি পুলিশকে জানান, তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় ফল বিক্রি করেন। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মায়ের প্রতি তার ক্ষোভ ছিল। তার দাবি, মা একাধিক বিয়ে করায় তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হন এবং মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হন।

পুলিশ জানায়, সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৭ জুন জনি তার মা মজিদা বেগমকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে কলাবাগানের দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন। জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লুলেস। কোনো পরিচয় ছিল না, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের নিরলস তদন্তের মাধ্যমে আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।’

সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, ‘মামলাটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশজুড়ে সরকারি উদ্যোগে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ‘সলেমানের সোলার সেচপাম্প’: মির্জা ফখরুল

মাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে কলাবাগানে ফেলে যায় ছেলে

আপডেট সময় ০১:৩৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি নির্জন কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে নিহতের ছেলে মো. জনিকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। জনি ও নিহত মজিদা বেগমের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর এলাকার মুল্লুক মাঝির কান্দি গ্রামে।

শুক্রবার মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার জনি এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার খুলির চুল খসে যায়। এছাড়া বাম হাত এবং হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ শিয়াল খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরা কাজ শুরু করলেও তখন নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মামলাটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস হওয়ায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তের প্রতিটি ধাপ নিয়মিত মনিটরিং করা হয় এবং প্রতিদিন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ, ম্যানুয়াল সোর্সিং এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে একপর্যায়ে মো. জনির ওপর সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি পুলিশকে জানান, তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় ফল বিক্রি করেন। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মায়ের প্রতি তার ক্ষোভ ছিল। তার দাবি, মা একাধিক বিয়ে করায় তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হন এবং মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হন।

পুলিশ জানায়, সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৭ জুন জনি তার মা মজিদা বেগমকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে কলাবাগানের দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন। জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লুলেস। কোনো পরিচয় ছিল না, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের নিরলস তদন্তের মাধ্যমে আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।’

সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, ‘মামলাটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেছে।’