ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন : রিজভী ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা বা অনিয়মের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী ‘খেলাধুলার মাধ্যমে দেশপ্রেম ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে’ সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: প্রধান আসামি মঈনসহ ৩ জন তিনদিনের রিমান্ডে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের বন্দর অবরোধ বিপজ্জনক পদক্ষেপ: চীন কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে দেওয়া হবে ‘কৃষক কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী

পছন্দের ক্রিকেট ছেড়ে দেশসেরা শাটলার তানভীর

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

খেলাধুলায় পছন্দ ছিলো ক্রিকেট। দিন কাটতো ব্যাট-বল নিয়ে। এলাকায় ডাকানামও ছিলো ক্রিকেটকে ঘিরে। কিন্তু হয়ে গেলেন দেশসেরা স্বর্ণজয়ী শাটলার। ব্যাডমিন্টনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্য আনলেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার তরুণ ক্রীড়াবিদ আবদুল জাহির তানভীর।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হাত থেকে জাতীয় ক্রীড়া সম্মাননা লাভ করেন তিনি। যা তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির স্বীকৃতি। নিজের এই অনন্য অর্জন, সংগ্রামের গল্প ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি বার্তা নিয়ে একান্তে কথা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’র সঙ্গে।

বুধবার বিকালে তার নিজ গ্রাম অলংকারি ইউনিয়নের ‘টুকের কান্দি’তে গেলে কথা হয়। তিনি জানান, চার ভাই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। পড়াশোনা এইচএসসি পর্যন্ত। ২০০৯ সালে, মাত্র ১৫-১৬ বছর বয়সে খেলাধুলায় সক্রিয় হন তিনি। শুরুটা ছিল ভিন্ন। ছোটবেলায় তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ছিল ক্রিকেট। ক্রিকেটকে ঘিরে ডাকনামও ছিল এলাকায়। তবে রাতের বেলায় খেলতেন ব্যাডমিন্টন। সেখানেই ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে শুরু করেন।

এক সময় বুঝতে পারেন, দুটি খেলায় একসঙ্গে পেশাদার হওয়া সম্ভব নয়। প্রথমে ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এরপর মানুষের উৎসাহ এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী বড়ভাই আবদুল বাছিতের অনুপ্রেরণায় ব্যাডমিন্টনকেই বেছে নেন তিনি।

সিলেটের রিকাবীবাজারে টানা পাঁচ বছর প্রশিক্ষক মঞ্জুর আল মামুনের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন তানভীর। এরপর ২০১৪ সাল থেকে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স-এ। কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতায় খুব অল্প সময়েই দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তানভীর। ২০২৪ সালে হন রানার্স-আপ। আর ২০২৫ সালে ঢাকায় ২৫টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক।

বিদেশের মাটিতে দেশের জার্সি গায়ে খেলতে নামার অনুভূতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তখন শুধু মনে হয় দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেই। ইতোমধ্যে তিনি অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, দুবাই ও ভারতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শিগগিরই কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

তরুণদের উদ্দেশে তানভীরের পরামর্শ, পরিবারের সমর্থন, কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মিত সঠিক প্রশিক্ষণ এই তিনটি জিনিস থাকলে যে কেউ ব্যাডমিন্টনে ভালো ক্যারিয়ার গড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হাত থেকে ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদ’ হিসেবে সম্মাননা স্মারক পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আমাদের নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। সম্মাননার পাশাপাশি ভাতার ব্যবস্থাও করেছে, যা আমাদের উৎসাহ দ্বিগুণ করে দেয়। সরকার পাশে থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সাফল্য আরও বাড়বে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন : রিজভী

পছন্দের ক্রিকেট ছেড়ে দেশসেরা শাটলার তানভীর

আপডেট সময় ০১:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

খেলাধুলায় পছন্দ ছিলো ক্রিকেট। দিন কাটতো ব্যাট-বল নিয়ে। এলাকায় ডাকানামও ছিলো ক্রিকেটকে ঘিরে। কিন্তু হয়ে গেলেন দেশসেরা স্বর্ণজয়ী শাটলার। ব্যাডমিন্টনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্য আনলেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার তরুণ ক্রীড়াবিদ আবদুল জাহির তানভীর।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হাত থেকে জাতীয় ক্রীড়া সম্মাননা লাভ করেন তিনি। যা তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির স্বীকৃতি। নিজের এই অনন্য অর্জন, সংগ্রামের গল্প ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি বার্তা নিয়ে একান্তে কথা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’র সঙ্গে।

বুধবার বিকালে তার নিজ গ্রাম অলংকারি ইউনিয়নের ‘টুকের কান্দি’তে গেলে কথা হয়। তিনি জানান, চার ভাই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। পড়াশোনা এইচএসসি পর্যন্ত। ২০০৯ সালে, মাত্র ১৫-১৬ বছর বয়সে খেলাধুলায় সক্রিয় হন তিনি। শুরুটা ছিল ভিন্ন। ছোটবেলায় তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ছিল ক্রিকেট। ক্রিকেটকে ঘিরে ডাকনামও ছিল এলাকায়। তবে রাতের বেলায় খেলতেন ব্যাডমিন্টন। সেখানেই ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে শুরু করেন।

এক সময় বুঝতে পারেন, দুটি খেলায় একসঙ্গে পেশাদার হওয়া সম্ভব নয়। প্রথমে ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এরপর মানুষের উৎসাহ এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী বড়ভাই আবদুল বাছিতের অনুপ্রেরণায় ব্যাডমিন্টনকেই বেছে নেন তিনি।

সিলেটের রিকাবীবাজারে টানা পাঁচ বছর প্রশিক্ষক মঞ্জুর আল মামুনের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন তানভীর। এরপর ২০১৪ সাল থেকে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স-এ। কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতায় খুব অল্প সময়েই দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তানভীর। ২০২৪ সালে হন রানার্স-আপ। আর ২০২৫ সালে ঢাকায় ২৫টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক।

বিদেশের মাটিতে দেশের জার্সি গায়ে খেলতে নামার অনুভূতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তখন শুধু মনে হয় দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেই। ইতোমধ্যে তিনি অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, দুবাই ও ভারতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শিগগিরই কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

তরুণদের উদ্দেশে তানভীরের পরামর্শ, পরিবারের সমর্থন, কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মিত সঠিক প্রশিক্ষণ এই তিনটি জিনিস থাকলে যে কেউ ব্যাডমিন্টনে ভালো ক্যারিয়ার গড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হাত থেকে ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদ’ হিসেবে সম্মাননা স্মারক পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আমাদের নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। সম্মাননার পাশাপাশি ভাতার ব্যবস্থাও করেছে, যা আমাদের উৎসাহ দ্বিগুণ করে দেয়। সরকার পাশে থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সাফল্য আরও বাড়বে।