ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মুসলিম দেশগুলোর প্রতি লারিজানির প্রশ্ন, ‘আপনারা কোন পক্ষে’

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আপনারা কোন পক্ষে?’ এসময় তিনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তান’ বলে উল্লেখ করেছেন। খবর মিডল

আলি লারিজানির অভিযোগ, ইসলামি দেশগুলো ইরানকে ত্যাগ করেছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমালোচনা করেন। যারা নিজেদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর তেহরানকে ‘শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্বের মুসলমান এবং ইসলামি দেশগুলোর সরকারগুলোর উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে লারিজানি বলেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার পর মুসলিম দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া হতাশাজনক।

তিনি বলেন, বিরল কিছু রাজনৈতিক অবস্থান ছাড়া কোনো ইসলামি সরকারই ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। কিছু ইসলামি সরকারের এই অবস্থান কি ইসলাম ধর্মের নবীর সেই বাণীর বিরোধী নয়, যেখানে বলা হয়েছে—‘কোনো মুসলমান সাহায্যের আহ্বান শুনে সাড়া না দিলে সে মুসলমান নয়’?

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে এটি কেমন ইসলাম?’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি ইঙ্গিত করে লারিজানি বলেন, কিছু সরকার ইরানকে শত্রু বলছে, কারণ ইরান তাদের ভূখণ্ডে থাকা ‘মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের স্বার্থে’ হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, আপনাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে ইরান কি চুপ করে বসে থাকবে? এসব দুর্বল অজুহাত।

লারিজানি মুসলিম দেশগুলোকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংঘাত ‘একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল, অন্যদিকে মুসলিম ইরান ও প্রতিরোধশক্তি’—এই দুই পক্ষের মধ্যে। এই যুদ্ধে আপনারা কোন পক্ষের সঙ্গে আছেন?’

মুসলিম ঐক্যের আহ্বান:

লারিজানি বলেন, অঞ্চলের ভবিষ্যৎ মুসলিম দেশগুলোর বৃহত্তর ঐক্যের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমেরিকা বিশ্বস্ত নয় এবং ইসরাইল আপনাদের শত্রু। এক মুহূর্ত থেমে নিজেদের ও অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন। ইরান আপনাদের মঙ্গল কামনা করে এবং আপনাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, ইসলামি উম্মাহর ঐক্য যদি শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তা সব ইসলামি দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে। ইরান ‘গ্রেট শয়তান’ ও ‘লিটল শয়তান’—অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডি-৮ জোটে বাণিজ্যিক চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ বাংলাদেশের

মুসলিম দেশগুলোর প্রতি লারিজানির প্রশ্ন, ‘আপনারা কোন পক্ষে’

আপডেট সময় ১০:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আপনারা কোন পক্ষে?’ এসময় তিনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তান’ বলে উল্লেখ করেছেন। খবর মিডল

আলি লারিজানির অভিযোগ, ইসলামি দেশগুলো ইরানকে ত্যাগ করেছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমালোচনা করেন। যারা নিজেদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর তেহরানকে ‘শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্বের মুসলমান এবং ইসলামি দেশগুলোর সরকারগুলোর উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে লারিজানি বলেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার পর মুসলিম দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া হতাশাজনক।

তিনি বলেন, বিরল কিছু রাজনৈতিক অবস্থান ছাড়া কোনো ইসলামি সরকারই ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। কিছু ইসলামি সরকারের এই অবস্থান কি ইসলাম ধর্মের নবীর সেই বাণীর বিরোধী নয়, যেখানে বলা হয়েছে—‘কোনো মুসলমান সাহায্যের আহ্বান শুনে সাড়া না দিলে সে মুসলমান নয়’?

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে এটি কেমন ইসলাম?’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি ইঙ্গিত করে লারিজানি বলেন, কিছু সরকার ইরানকে শত্রু বলছে, কারণ ইরান তাদের ভূখণ্ডে থাকা ‘মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের স্বার্থে’ হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, আপনাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে ইরান কি চুপ করে বসে থাকবে? এসব দুর্বল অজুহাত।

লারিজানি মুসলিম দেশগুলোকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংঘাত ‘একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল, অন্যদিকে মুসলিম ইরান ও প্রতিরোধশক্তি’—এই দুই পক্ষের মধ্যে। এই যুদ্ধে আপনারা কোন পক্ষের সঙ্গে আছেন?’

মুসলিম ঐক্যের আহ্বান:

লারিজানি বলেন, অঞ্চলের ভবিষ্যৎ মুসলিম দেশগুলোর বৃহত্তর ঐক্যের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমেরিকা বিশ্বস্ত নয় এবং ইসরাইল আপনাদের শত্রু। এক মুহূর্ত থেমে নিজেদের ও অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন। ইরান আপনাদের মঙ্গল কামনা করে এবং আপনাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, ইসলামি উম্মাহর ঐক্য যদি শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তা সব ইসলামি দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে। ইরান ‘গ্রেট শয়তান’ ও ‘লিটল শয়তান’—অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।